টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা!

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২১:৫৬
আইসিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শুরু হবে ২৬ জুন থেকে। সেখানেই উঠে আসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা। পাপন সেই প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে বলেন, ‘আইসিসির পরামর্শক, যিনি ঘুরে গেছেন তিনি সন্তুষ্ট নন। যার জন্য বিকল্প ভেন্যু হিসেবে মিটিংয়ে একটা প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। আইসিসিকে বোঝাতে হবে যে বিকল্প ভেন্যুর দরকার নেই।’  গত চার বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে স্বপ্ন দেখছে। অথচ এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলছেন—আগামী বছর বাংলাদেশে নাও হতে পারে এই বিশ্বকাপ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে নাকি সন্তুষ্ট নয় আইসিসি; সেজন্য তারা নাকি বিকল্প আয়োজকেরও সন্ধান করছে! কিছুদিন আগে আইসিসি’র পরামর্শক পাঁচদিনের ঢাকা সফর করে গেছেন। তখন বিসিবি থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে ভেন্যু পরিদর্শনে আইসিসি’র এই পরামর্শক সন্তুষ্ট। কিন্তু আসলে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না; এটি কাল বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই বলে ফেললেন। মিরপুরে ইনডোরে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসে তিনি এ কথা বলেন। আইসিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শুরু হবে ২৬ জুন থেকে। সেখানেই উঠে আসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা। পাপন সেই প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে বলেন, ‘আইসিসির পরামর্শক, যিনি ঘুরে গেছেন তিনি সন্তুষ্ট নন। যার জন্য বিকল্প ভেন্যু হিসেবে মিটিংয়ে একটা প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। আইসিসিকে বোঝাতে হবে যে বিকল্প ভেন্যুর দরকার নেই।’ গত এপ্রিলে আইসিসি’র প্রথম পরিদর্শক দল তিনদিনের সফরে ঢাকা এসে ভেন্যুগুলো ঘুরে দেখেন। ঢাকা ত্যাগ করার প্রাক্কালে ভেন্যু প্রস্তুতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে গেছেন তিনি। আট পৃষ্ঠার আইসিসি’র রিপোর্টে অসন্তুষ্টি প্রকাশ ছিল। যা বিসিবি লুকাতে চেয়েছিল। এবারো যখন আইসিসি’র পরামর্শক এসে ঢাকা ঘুরে গেলেন, বিসিবি থেকে বিজ্ঞাপন করা হল, তিনি ভেন্যু পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অথচ কাল বিসিবি সভাপতি বললেন ভিন্ন কথা। আইসিসি’র পরিদর্শক দলের অসন্তুষ্টির তীর সিলেট ও কক্সবাজার স্টেডিয়ামের দিকে। বিশেষ করে সিলেট স্টেডিয়ামের দিকে। আগামী বছর মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে, অথচ এই ভেন্যুর কোন কাজই শুরু হয়নি। কাল বিসিবি সভাপতি সেই শংকার কথাই বললেন, ‘সিলেট স্টেডিয়াম করাটাই আমাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। আইসিসি’র প্রথম পরিদর্শক যখন এসে যে অবস্থা দেখে গিয়েছিলেন এবারো সেই একই অবস্থা। তবে কক্সবাজার স্টেডিয়াম নিয়ে সমস্যা নেই। কারণ ওটা আমাদের টাকায় হবে।’ সিলেট স্টেডিয়ামের কাজ নিয়ে বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) একে অপরের দিকে তীর ছুঁড়ে দিচ্ছে। বিসিবির গ্রাউন্ড এন্ড ফ্যাসিলিটিজ কমিটির ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন কিছুদিন আগে ইত্তেফাকের এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘এনএসসি কাজ শুরু না করলে আমরা কিভাবে শুরু করবো।’ কথাগুলো সিলেট স্টেডিয়াম প্রসঙ্গ। অথচ টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেও বিসিবি ও এনএসসির টানাপোড়েনে এখনো তেমন কোন কাজই শুরু হয়নি। কাল এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘একটা সুখবর পেয়েছি, সিলেট স্টেডিয়ামের টেন্ডার হয়ে গেছে। এবং পুরোদমে কাজও চলছে। অর্থমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীর সাথে দুইদিন আলোচনায় বসেছিলাম। সেখানে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, যা বাজেট লাগবে তার পুরোটাই সাপোর্ট পাওয়া যাবে। কাজেই আইসিসি’র পরবর্তী পরিদর্শক দল আগস্টে ঢাকা সফর করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে বলে আশাবাদী।’ উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল ভেন্যু ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের একটি। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়াম এবং সিলেটের বিভাগীয় স্টেডিয়াম। মেয়েদের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে নির্মিতব্য কক্সবাজার স্টেডিয়ামে। এদিকে প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধান খুঁজতে আজ সিসিডিএমের সাথে বসতে যাচ্ছেন বোর্ড সভাপতি। আজই সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে কবে হবে লিগের দলবদল।