অনিশ্চয়তার আঁধারে ঢাকা ওদের ভবিষ্যত্

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২৩:০০
এমি জাহান (১২) ও গোলাম মাশরাফি রাব্বানি (৮)। এ দুই শিশুর ভবিষ্যত এখন অনিশ্চয়তার আঁধারে ঢাকা। বছর দুই আগে তাদের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮) খুন হন। পরকীয়ার কারণে তার মা প্রেমিকের সহযোগিতায় জাহাঙ্গীরকে খুন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাদের মা মুক্তা জাহান গ্রেফতারও হন। আদালতে স্বীকারো-ক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে এই লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা। এ ঘটনার পর এমি জাহান ও রাব্বানি মায়ের কাছে আর ফিরতে চায়নি। বছরখানেক যাবত তারা দুইজন আদালতের নির্দেশে চাচাতো বোন জেসমিনের হেফাজতে রয়েছে। অথচ তাদের মা ঐ দুই শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেছেন। এমি ও মাশরাফি এখন আছে তাদের চাচাতো বোন জেসমিনের ঢাকার মুগদার বাড়িতে। আর এই দুই শিশুর মা মুক্তা জাহান তাদের বাবাকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতারের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। শিশু দুটির বাবার সমস্ত সম্পত্তি তার মা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সিভিল এভিয়েশন স্টাফ কোয়ার্টারে খুন হন গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮)। ঐ ঘটনায় পুলিশ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মুক্তা জাহানকে গ্রেফতার করে। মুক্তা জাহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান-বন্দিতে জানান, বরগুনার কলেজ ছাত্র জসীমের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকের সহযোগিতায় তিনি তার স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী জসীম তার কয়েকজন সহযোগিকে নিয়ে ঐ বাসায় জাহাঙ্গীরকে খুন করেন। এ ঘটনার পর জাহাঙ্গীরের দুই সন্তান এমি ও রাব্বানিকে তার চাচাতো ভাই আরিফ খান হেফাজতে নেন। পরে গত বছরের ৩০ আগস্ট ঢাকার নির্বাহী কোর্ট ঐ দুই সন্তানকে তাদের চাচাতো বোন জেসমিনের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এমি ও রাব্বানি এখন মুগদায় জেসমিনের বাসায় থেকে পড়াশুনা করছে। মুগদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমি ৫ম শ্রেণী ও রাব্বানি ৩য় শ্রেণীতে পড়ছে। এমি ও রাব্বানির চাচাতো ভাই আরিফ খান অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর খুন হওয়ার পর ঢাকার আশকোনায় কেনা ১৭ কাঠা জমি ও ব্যাংকে রাখা নগদ টাকা মুক্তা জাহানের সহযোগিতায় হাতিয়ে নেয় জসীম। এরপরই জসীমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। জাহাঙ্গীর হোসেন বরগুনার কড়ইতলায় ৫১ শতাংশ জমি ঐ এলাকার মোশারেফ হোসেনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন। এই জমির সাড়ে ২৫ শতাংশের মালিক জাহাঙ্গীর ও বাকি সাড়ে ২৫ শতাংশের মালিক তার ছেলে রাব্বানি। জাহাঙ্গীর খুন হওয়ার পর ঐ জমি আবারও মোশারেফ হোসেন ঐ এলাকার নূরুন্নাহার, ফারজানা খানম, মমতাজ ও রোকসানা নামে ৪ জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। গত ৩ জুন এই জমি মোশারেফ রেজিষ্ট্রি করে দেন। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মুক্তা জাহান জামিনে ছাড়া পেয়ে গত ১৯ মার্চ বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় এমি ও রাব্বানির হেফাজতকারী জেসমিন বেগমসহ ৬ জনকে। এই মামলা দায়েরের দুই দিন পর ২১ মার্চ মুক্তা জাহান বরগুনা সদর থানায় জেসমিনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তার দুই সন্তানকে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে ঢাকায় লুকিয়ে রেখেছে। দুই শিশুর হেফাজতকারী জেসমিন জানান, আদালতের নির্দেশে তিনি এমি ও রাব্বানিকে তার হেফাজতে রেখেছেন। তিনি বলেন, ঐ দুই শিশুর বাবা জাহাঙ্গীরকে খুন করে মুক্তা জাহান এখনও তার সবসম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে। হত্যার মামলা থেকে বাঁচতে মুক্তা জাহান এসব মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এমি ও রাব্বানি জানায়, তারা তাদের মায়ের কাছে আর ফিরে যেতে চায় না। তাদের মা পরিকল্পিতভাবে বাবাকে খুন করেছে। তারা তাদের চাচাতো বোন জেসমিনের কাছেই থাকতে চায়।