ব্রাজিলে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যে বিক্ষোভের শুরু তা এখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। অব্যাহত গণবিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ তার জাপান সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের ঘোষণা সত্ত্বেও ব্রাজিলের ১০ লাখের বেশি মানুষ বৃহস্পতিবার দেশের শতাধিক শহরে বিক্ষোভ করেছে। সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনাও ভেস্তে গেছে। এর একদিন পর গতকাল শুক্রবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরার।
ব্রাজিল সরকারের দুর্নীতি এবং দুর্বল সেবামূলক কার্যক্রমের প্রতিবাদে জনগণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফুটবলের ব্যয় নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত দুই দশকের মধ্যে এটিই ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনা। বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয় রিও ডি জেনিরো, সালভাদর, সাও পাওলো ও রাজধানী ব্রাসিলিয়াতে। সাও পাওলোতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিলে এক ব্যক্তি নিহত হয়। এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ করতে শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসে সরকার। প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের আগামী সপ্তাহের জাপান সফরের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।
সালভাদরে কনফেডারেশনস কাপের খেলা চলাকলে স্টেডিয়ামের আশপাশে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের ব্যারিকেড, টিয়ার গ্যাস আর রাবার বুলেটের মাঝেই দিনভর চলতে থাকে বিক্ষোভ।
কয়েকদিন আগে যানবাহন ভাড়া ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। আর তার প্রতিবাদেই বিক্ষোভের শুরু হলেও কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পরিণত হয় দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে। দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে জনগণের ওপর কর বাড়ানো হয়, দ্রব্যমূল্যের ওপরও চাপ পড়ে এতে। এছাড়া উন্নয়ন কাজে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল বেশ কিছু দিন যাবত্। তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এখন এই বিক্ষোভ পরিণত হয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলনে। গত বিশ বছরে ব্রাজিলে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় কংগ্রেস ভবন ও সর্বোচ্চ আদালতের সামনে প্রায় এক লাখ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এখানে ৮০ জনের মতো প্রতিবাদকারী ঘরে তৈরি বিস্ফোরক নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করলে আগুন ধরে যায়, সঙ্গে সঙ্গেই তাদের হটিয়ে দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে পুলিশ।
সারাদেশে কয়েকশ’ মানুষ সামান্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের গণমাধ্যমগুলো। তবে সাও পাওলোর কাছের রিবেইরা প্রিতো’তে মিছিলকারীদের ওপর একটি জিপ উঠে গেলে ২০ বছরের এক বিক্ষোভকারী তরুণ নিহত হন। বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয় রিও ডি জেনেরিওতে। প্রায় ৩ লাখ মানুষ সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ছোঁড়ে।
