খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করতে সিঙ্গাপুর যান

আপডেট : ২১ জুন ২০১৩, ২৩:১১
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে যান দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে। সিঙ্গাপুর থেকে এসে গত মে মাসে তিনি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। হেফাজত কর্মীদের বসিয়ে দিলেন। সরকার পতন ঘটাবেন বলে ফেললেন। এবার আবার সিঙ্গাপুর থেকে এসে দেশের বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র করেন সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। লুটেরা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারীরা যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর তত্ত্বাবধায়কের কথা বলবেন না। এবার তত্ত্বাবধায়ক আসলে আমাকে-আপনাকে (দুই নেত্রী) আবারো জেলে যেতে হবে। তারা নির্বাচন দেবে না। ক্ষমতায় থাকতে চাইবে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত। বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে যখন আপনারা বিজয়ী হয়েছেন তখন তত্ত্বাবধায়ক চান কেন। বর্তমান সরকার সব ক’টি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলার মাটিতে জাতীয় নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, এর আগে তত্ত্বাবধায়ক উনাকেও গ্রেফতার করেছিল। উনার ছেলেকে উত্তম মধ্যম দিয়ে দেশের বাইরে বের করে দিয়েছিল। এগুলো কি উনি ভুলে গেছেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাসহ দেশের সকল অর্জন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনগণ বুঝতে পারে, সরকার মানে জনগণের সেবক। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সময়টা স্বর্ণযুগ হিসেবে লেখা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসে লুটপাট করতে। এ কারণে ভাগ্য স্যুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে আজ তারা ১৫টি ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক। গরীবের পেটে লাথি মেরে নিজেরা কোটিপতি বনে গেছেন। গত ৫ মে হেফাজতের কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ভিতরে প্যান্ট-গেঞ্জি ও বাইরে পাইজামা পরে মসজিদে আগুন দিয়েছে, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ পাশে অসংখ্য কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, তারা গুজব ছড়াচ্ছে ২ হাজার ৫০০ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তাহলে তো এক লাখ আহত হওয়ার কথা। নিহতের পরিবার কোথায়। আহতরাই বা কোথায়। ব্লকে মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তিকর লেখা প্রচারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনকিলাব, আমার দেশ, নয়া দিগন্তসহ কয়েকটি পত্রিকা ব্লগের রেফারেন্স দিয়ে মহানবীর কটূক্তি হুবহু ছাপিয়ে দিল। কিন্তু এটা ছাপিয়ে প্রচার করাটাও পাপ। তিনি বলেন, যারা হাইতির ভূমিকম্পে নিহত লাশের ছবি হেফাজতের কর্মী নিহত বলে, মক্কা শরীফের গিলাফ পরিবর্তন নিয়ে মিথ্যাচার করে, কোরআর শরীফ পোড়ায় তারা কেমন মুসলমান? ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলুন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য গোলাম মওলা নক্সবন্দী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, আব্দুস সোবহান গোলাপ, রহমত উল্লাহ এমপি, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি প্রমুখ।