বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুনাম অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করার জন্য সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, সমপ্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত তদন্ত কমিশন গ্রামীণ ব্যাংকের আইন কাঠামো পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। যা ব্যাংকটিকে চিরতরে নিঃশেষ করার চক্রান্তের অংশ। এই সর্বনাশা সুপারিশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অবিলম্বে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন।
গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এই আহবান জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করার পরও সরকারের জিজ্ঞাসা মিটছে না। এখন প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে অনন্য আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা লাভ করেছে, সেই কাঠামোকে পরিবর্তন করে একে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির আদলে ১৯টি বা ততোধিক ক্ষুদ্র ব্যাংকে পরিণত করা অথবা প্রায়-প্রাইভেট ব্যাংকে পরিণত করার যে সুপারিশ তদন্ত কমিশন করেছে তাতে সরকার ‘নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করা’র নীতিই অনুসরণ করছে। এর মাধ্যমে দেশ, দেশের বরেণ্য ব্যক্তি এবং বিশ্বব্যাপী সর্বজন প্রশংসিত দেশীয় প্রতিষ্ঠানকেই অমর্যাদা করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ব্যাংকের মালিকানা শতকরা ৫১ শতাংশের বেশি সরকারের কাছে রাখার সুপারিশে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ মালিক মহিলা, সরকার নিজের হাতে সেই ব্যাংক পরিচালনা করার যে নীলনক্শা এঁকেছে তা বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ব্যাংকের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে পড়বে। দরিদ্র মানুষের প্রত্যাশা ও প্রেরণার উত্স এই ব্যাংককে ধ্বংস করার সকল অশুভ পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহবান জানান।
