সহিংসতা হচ্ছে বলেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে না
বার-বার অস্বাভাবিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। যার ফল পাওয়া যায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল দেশবাসী। নব্বই পরবর্তী সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হলেও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এখনও সোনার হরিণের মতো। ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে দিনের পর দিন হরতাল অবরোধের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে এ দেশের জনগণ। শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিংবা ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্যই সহিংসতা হচ্ছে।
রাজনীতিবিদদের প্রতি আমাদের তরুণ প্রজন্মের আহ্বান থাকবে এখনো সময় আছে,সংশোধন হোন। ভোগের নয়, ত্যাগের রাজনীতি শুরু করুন। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে রাজনীতিবিদদেরই প্রথম সত্ এবং দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করুন। সুস্থ রাজনীতি চালু করুন। আপনারা যদি নিজেদের সংশোধন করতে না পারেন জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে আপনাদের সংশোধন করবে, ইনশাল্লাহ।
মিঠুন রেজাউল হান্নান
যোগাযোগ ও গণমাধ্যম শিক্ষা বিভাগ, ২য় বর্ষ
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ- ইউডা
ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫।
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে দেশের ভবিষ্যত্ অন্ধকার
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাইতো আমরা সবাই প্রতাশা করি যে, আগামীতে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। কেননা ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ না-হলে দেশের অর্থনীতি পৌঁছে যাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এখন হয়তোবা অনেকেরই প্রশ্ন হতে পারে যে ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ না-হলে অর্থনীতি ধ্বংস হবে কিভাবে? জবাব খুব সহজ— কেননা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে এটা স্পষ্ট যে- বিগত চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করলে, তত্কালীন প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী লীগ রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের ডাক দিলে দেশের অর্থনীতি অচল হয়ে যায় এবং ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয় ১/১১-এর মতো কালো অধ্যায়। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক চেষ্টায় ফখরুদ্দীন সরকার বাধ্য হয় নির্বাচন দিতে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে দেশের অর্থনীতি আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে সরকার ও বিরোধীদলের একঘেয়েমির দরুন আগামীতে ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ হবে কিনা- তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে? তবে এটা সত্য যে আগামীতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে দেশের ভবিষ্যত্ অন্ধকার এতে কোন সন্দেহ নেই।
তারেক রহমান
স্নাতক সম্মান (বাংলা)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ।
সহিংসতা ভুলে গিয়ে দু’দলকে সমঝোতায়
আসতে হবে
আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা কতটুকু সুবিধা ভোগ করছি। সুবিধা নয় বরং অসুবিধা, বর্বরতার মাঝে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন করে চলেছি। আমরা সুবিধাভোগী বলতে একমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোকেই বুঝানো যায়। আমরা বাঙালিরা হার মানতে রাজি নই— এই দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। উভ দলের সহিংসতার বলি এদেশের আপামর জনসাধারণ। দু’দলের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে দেশে অশান্তির হাওয়া বইছে। দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। শিল্পখাতে নেমে আসছে বিরাট ঝড়। যাই কিছু হোক না কেন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দেশের জনগণের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাবে। সেটা প্রত্যক্ষভাবে হোক আর পরোক্ষভাবেই হোক। সহিংসতা ভুলে গিয়ে দু’দলকে সমঝোতায় আসতে হবে। তবে সরকারি দল বিরোধী দলের কাছে খুব সহজে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে বলে মনে হয় না। এই ক্ষমতা হস্তান্তরের শেষ দৃশ্যটুকু দেখতে হলে আমাদের পাড়ি দিতে হবে আরো কিছু কঠিন সময়। অপেক্ষা করতে হবে ভয়ঙ্কর প্রহরের।
আফরোজা শামীম তানিয়া
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (১ম বর্ষ)
পটিয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতির
জন্য হুমকিস্বরূপ
বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে সংকট তা মূলত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, আর বিরোধী দল বিএনপির দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিএনপি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে লাফালাফি করছে তা আমার কাছে অনেকটাই অযৌক্তিক মনে হয়। আমরা জানি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব হল একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করে বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। সেটা মাত্র তিন মাস। কিন্তু বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই তিন মাসের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতায় ছিল প্রায় দু’বছর। এ যেন আরেকটি নির্বাচিত সরকার! আর বর্তমানে আমরা যে অর্থনৈতিক দুরবস্থার শিকার তার জন্য বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেকখানি দায়ী। সর্বোপরি আরেকটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা গেলে বাংলাদেশ যে আরেকটি কসাইয়ের হাতে পড়বে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তখন দেশের অর্থনীতিও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরই সর্বোত্কৃষ্ট। এতে বিএনপি রাজি হলে বাংলাদেশ বড় দু’টি সংকটের হাত থেকে মুক্তি পাবে। প্রথমত, রাজনৈতিক সংকট আর দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক সংকট। যে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষ আজ হাহাকার করছে।
সৌরভ দাস
এইচএসসি ফলপ্রার্থী
সিলেট সরকারি কলেজ,সিলেট।
