স্থগিত প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে শঙ্কায় সিসিডিএম

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২২:২২
প্রথমে বোর্ড সভাপতি ইঙ্গিত দিলেন, পরে ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে প্রিমিয়ার লিগ দলবদল পেছানোর অনুরোধ করা হল। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, জুলাই মাসের শুরুতে অন্তত ঢাকা মহানগর প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে না। অবশেষে গত শুক্রবার বিকালে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানালো, আপাতত স্থগিত করা হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দলবদল ও শুরুর তারিখ। তবে সেই স্থগিতকরণটা ঠিক কতো দিনের জন্য, সে ব্যাপারে কিছু জানায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বরং যোগাযোগ করা হলে বিসিবি কর্মকর্তাদের কণ্ঠেও আদৌ এই জুলাই মাসে লিগ শুরুর সম্ভাবনা নিয়েই শঙ্কার কথা শোনা গেল। রেওয়াজ ও সূচী অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি-মার্চেই শুরু হওয়ার কথা ছিল চলতি মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ। প্রথমে ক্লাবগুলোর আপত্তি, এরপর নানাবিধ ঝামেলা এবং সর্বশেষ খেলোয়াড়দের আন্দোলনে জটিলতায় পড়েছিল প্রিমিয়ার লিগ। সর্বশেষ পূর্বের আজ ২৩ জুন লিগের দলবদল এবং ৩ জুলাই লিগ শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু আবারও এই লিগ থমকে গেল মূলত আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) রিপোর্টের অপেক্ষায়! লিগ স্থগিত হবে এটি বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই কয়েকদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে বিসিবি শুধু এটির আনুষ্ঠানিকতা সেরেছে। প্রিমিয়ার লিগের অভিভাবক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্টোপলিশের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস লিগ স্থগিত করার প্রসংগে কাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের হাতে বিকল্প কিছু ছিল না। বোর্ড সভাপতি যেভাবে বলেছেন, আকসুর রিপোর্টে যদি আর কারো নাম চলে আসে তখন তো ক্লাবগুলো বলবে তার খেলোয়াড় পরিবর্তন করে দিতে। তখন তো সমস্যায় পড়তে হবে।’ স্থগিত করা প্রিমিয়ার লিগ কবে শুরু হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি সিসিডিএম চেয়ারম্যান। জানা গেছে, ৩০ জুন বিসিবি সভাপতি আকসুর রিপোর্ট হাতে পেতে পারেন। এরপর ৩ জুলাই লিগের দলবদল এবং ১২ জুলাই লিগ শুরুর সময় নির্ধারণ করতে পারে ক্রিকেট বোর্ড। যদি এর মধ্যেও সিসিডিএম নতুন দিনক্ষণ ঠিক করতে না পারে তাহলে এই মৌসুমের লিগ নিয়ে সত্যি বিপদে পড়বে তারা। সিসিডিএম চেয়ারম্যানের কথাতেও সেরকম ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ‘আমরা চেষ্টা করবো খুব শীঘ্রই লিগ শুরু করতে। কিন্তু তারপরও না পারলে আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে যাবে।’ উল্লেখ্য, লন্ডনে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শুরু হবে ২৬ জুন। চলবে ২৯ জুন পর্যন্ত। আইসিসির সভা শেষে আকসু বিসিবি সভাপতির সাথে দেখা করে রিপোর্ট জমা দিতে পারে। এদিকে জানা গেছে প্রিমিয়ারের শীর্ষ পাঁচটি ক্লাব চাচ্ছে না এই মৌসুমের লিগ শুরু হোক। খেলোয়াড়রা তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টে খেলতে রাজি হওয়ার পরপরই ক্লাবগুলো লিগ খেলা নিয়ে বেঁকে বসে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিমিয়ারের শীর্ষ এক ক্লাব। উল্টো তিনি অভিযোগ করেছেন বিসিবিকে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এই ক্লাবের কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তো খেলতে চাই। বোডের্র কাছে আমরা অনুদানের টাকা চেয়েছি। যেন টাকাটা হাতে পেয়ে দলও গুছিয়ে নিতে পারি। কিন্তু বিসিবি বোর্ড মিটিংয়ের দোহাই দিয়ে আমাদের ঘোরাচ্ছে। টাকার জন্য আন্দোলন করছে খেলোয়াড়রা। তাদেরকে টাকা দিতে বলছে; আবার বোর্ডও অনুদানের টাকা দিচ্ছে না।’ সিসিডিএম চেয়ারম্যানও বলেছেন ক্লাবগুলোর অনুদান দিবে বিসিবি, ‘অনুদান ঠিক হবে বোর্ড মিটিংয়ের পর। আমাদের এখানে কিছু করার নেই।’ জানা গেছে, ক্লাবগুলো বোর্ডের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছে। এ প্রসংগে সিসিডিএম চেয়ারম্যান, ‘ক্লাবগুলোকে কত টাকা অনুদান দেয়া হবে এটিও ঠিক করবে বিসিবি। আমরা জানি না আসলে প্রতিটি ক্লাব কত টাকা পাবে।’ এদিকে এ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগের বাইলজও এখনো ক্লাবগুলোর কাছ থেকে সিসিডিএমের কাছে পৌঁছায়নি। বাইলজের অন্যতম অংশ হিসেবে থাকবে—লিগ কি পদ্ধতিতে হবে এবং প্রতিটি ক্লাব খেলোয়াড়দের কিভাবে দলে নিতে পারবে। ক্লাবগুলো অবশ্য কিছু সংশোধন দিবে বলে জানা গেছে। বাইলজ হাতে পেলেই নিলামের জন্য তৈরি করা খেলোয়াড় তালিকায় প্রকাশ করবে বিসিবি।