‘এমভি সোনারগাঁও’ আট কোটি টাকায় নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২২ জুন ২০১৩, ২২:৪৬
দশ বছর আগে মাত্র আড়াই কোটি টাকায় রেলওয়ের কাছ থেকে কেনা দেশের সর্ববৃহত্ জলযান ‘এমভি সোনারগাঁও’ ৮ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ-পরিবহন সংস্থা-বিআইডব্লিউটিসি। কেনার পর থেকে জাহাজটি এ পর্যন্ত যাত্রী সেবায় কোনো ইতিবাচক ভূমিকা না রাখলেও বার বার ইঞ্জিন মেরামত ও বিভিন্ন সংস্কার কাজে এর পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এই জলযান বার বার সংস্কার ও বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানির নামে বিপুল টাকা অপচয়ের পাশাপাশি সংস্থার অসাধু কর্মকর্তারা লাভবান হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি’র জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্যিক) মোশাররফ হোসেন হাওলাদার জানিয়েছেন, সংস্থার সর্বশেষ সভায় ‘সোনারগাঁও’কে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ৮ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহবানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে টাকা অপচয়ের ব্যাপারে জিএম বা এজিএমরা কথা বলতে রাজি হননি। সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে রেলওয়ের ফেরি বিভাগ থেকে জাহাজটি কেনার পর এর অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করার জন্য খুলনার একটি বেসরকারি ডকইয়ার্ডকে দেয়া হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। এরপর ইঞ্জিন মেরামতে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ঢাকা-বরিশাল-খুলনা ও চাঁদপুর রুটে সংস্থার অপর যাত্রীবাহী রকেট স্টীমারের বহরে এটিকে যুক্ত করা হয়। শুরুতেই ইঞ্জিনের ত্রুটি, ধীরগতিসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের আস্থা হারায় ‘সোনারগাঁও’। এর ফলে লাভের পরিবর্তে বিআইডব্লিউটিসি’র লোকসানের বোঝা ভারি হয়। বিআইডব্লিউটিসি’র উপ-মহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র মজুমদার জানান, ২০০৯ সালে ঢাকা-বরিশাল-খুলনা রুটে জাহাজটি ১৬ রাউন্ড ট্রিপ দিয়েছিলো। পরের বছর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় ২০১১ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত মাত্র ২৫টি রাউন্ড ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে। ২০১১ সালের ১২ নভেম্বরের পর আর কোনো সফল ট্রিপ দিতে পারেনি জাহাজটি। এরপর গত ঈদের সময় জাহাজটি ঢাকা-বরিশাল রুটে যুক্ত করার প্রচারণা চালিয়ে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম বিড়ম্বনায় ফেলা হয়। বর্তমানে এটি পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে আছে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে। বিআইডব্লিউটিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মিয়া জানান, মাঝখানে জাহাজটি কক্সবাজারের একটি টুরিজম কোম্পানিকে প্রতি মাসে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা দেয়া হয়েছিলো। ইজারাদার জাহাজটি নেয়ার পরই বিকল হয়ে যাওয়ায় পুনরায় ডকইয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। এরই মাঝে ওই জাহাজে একটি ভাসমান রেস্টুরেন্ট করার প্রস্তাব আসলেও বিআইডব্লিউটিসি’র সাথে ইজারাদারের বনি-বনা না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়।