এক গোলেই বাজিমাত

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২০:০৫
জোনাথন তেহাউ বিশ্ব আসরের অভিষেকেই ঢুকে গেছেন ইতিহাসের পাতায়। ভবিষ্যতে আর যা-ই হোক, কেউ তার প্রথম গোলের এই কীর্তি কেড়ে নিতে পারবে না। এই একটি গোল শুধু তাকে নয়, তাহিতিকেও নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। তরুণ প্রতিভা জোনাথন তেহাউয়ের কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম পৌনে দুই লাখ মানুষের ছোট্ট দ্বীপটা সেই খেলার মধ্য দিয়ে থমকে গিয়েছিল ঘণ্টা দুয়েকের জন্য। কাজ বাদ দিয়ে সবাই ছিল টেলিভিশন সেটের সামনে, দেশটির প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক স্থগিত করে দিয়েছিলেন। হঠাত্ই যখন কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে তেহাউ লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করলেন, মাঠের উত্সব ছড়িয়ে পড়ে পুরো তাহিতিতেই। মাঠের উদযাপনটাও ছিল ব্যতিক্রমী। বিশ্বকাপের ঘাম ঝরানো টুর্নামেন্টে তাহিতির সুযোগ হয়েছে ওশেনিয়া নেশন্স কাপ জয়ে। সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মাঝে চাপা পড়া এই দেশটির ফুটবলের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে কনফেডারেশন্স কাপে সুযোগ পাওয়াটাই বিশাল ব্যাপার। দেশের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা ১০ হাজার। ব্রাজিলের স্টেডিয়ামে প্রত্যাশিত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা অনুশীলনে দর্শকদের হর্ষধ্বনির অডিও বাজিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিল। বড় ব্যবধানে কনফেডারেশনস কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হারলেও বড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণেই তৃপ্ত তাহিতি। খেলা শেষে ব্রাজিলীয় টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে দেশটির একমাত্র পেশাদারি ফুটবলার মারামা ভাহিরুয়া বলেছেন নিজের গর্বের কথা। তিনি বলেছেন, ‘ফল যা-ই হোক, নাইজেরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে আমার দেশের ফুটবলাররা যে শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে, তাতেই তৃপ্ত আমি।’ প্রথমবারের মতো কনফেডারেশনস কাপে খেলতে এসে স্বাগতিক দর্শকদের কাছ থেকে যে দুর্দান্ত সমর্থন পাচ্ছেন তারা তাহিতির জন্য এক বিরল অভিজ্ঞতা। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার বিশেক দর্শক গলা ফাটিয়ে চিত্কার করে গেছে দুর্বল তাহিতির পক্ষে। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারলেও দর্শক-সমর্থনে কাল বড় ব্যবধানেই জিতে গেছে বিশ্ব ফুটবলের নবীন অতিথি তাহিতি। ব্রাজিলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সবার আগেই দেশ ছেড়েছিল তাহিতি। অনুশীলনের পাশাপাশি পর্যটকদের মতো স্টেডিয়ামে ছবি তুলেও সময় কাটিয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে এক গোলের খুশিতে আত্মহারা দলের একমাত্র পেশাদার খেলোয়াড় মারামা ভাহিরুয়া বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে দেখিয়েছি তাহিতির মধ্যে কিছু সত্যিকারের গুণ আছে। শুধু এখানে খেলাটাই আমাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া ব্রাজিলিয়ান জনগণের সান্নিধ্যও ব্যাপক আনন্দদায়ক।’ তাহিতির জোনাথন তেহাউ তার এই সফরে একটি স্মরণীয় দিনই কাটিয়েছেন সেদিন। জোনাথন তেহাউ ঠিক যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না! পেশায় গাড়িচালক, এর ফাঁকেই বল নিয়ে যা একটু ফুরসত মেলে তার। ম্যাচ শেষে কথা বলার সময় ঐতিহাসিক গোল করার আবেশ যেন লেগে ছিল তার চোখে, ‘আমি কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। আমি শুধু বন্ধুদের নিয়ে গোলটা উদযাপন করেছিলাম। এটা বিশাল পাওয়া আমার কাছে। ব্রাজিলে এসেছি, তার ওপর গোল করেছি।’ গোলটা তার জীবনটাকেও বদলে দেবে বলেই আশা তার। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সুযোগ পেলে কোন ক্লাবে খেলতে চাইবেন? হাসি উপহার দিয়ে তেহাউ জবাব দিয়েছিলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে দোষ কী? বার্সেলোনা।’ পরে অবশ্য আরেকটি গোলও করেছেন তেহাউ। যদিও সেটি নিজেদের জালেই? একটা গোল নিয়ে এত উচ্ছ্বাস বাড়াবাড়ি মনে হলে শুনে নিন তাহিতি দলের একমাত্র পেশাদার ফুটবলার মারামা ভাহিরুয়ার কথাটা, ‘আমাদের জন্য এটা জয়ই। কেউ ভাবেনি আমরা গোল করব। কিন্তু আমরা ভেবেছি। নিজেদের নিয়ে আমরা গর্বিত।’ বেলো হরিজন্তের ২০ হাজার দর্শকও পুরো সময় গলা ফাটিয়েছে তাহিতির হয়ে। কোচ এডি এতায়েতা বলেন, ‘দর্শকের দিকে তাকিয়ে আমি বলে উঠলাম, ওয়াও! বেলো হরিজন্তে আমাদের সঙ্গেই আছে। সমর্থন পাওয়ারই তো অভ্যাস নেই আমাদের, আমি মনে করি, আমরা ব্রাজিলিয়ানদের হূদয় জয় করতে পেরেছি।’ একনজরে তাহিতির জাতীয় দলে তেহাউ-এর রেকর্ড ৭টি ম্যাচ ০ গোল (২০১১) ১৩টি ম্যাচ ৪ গোল (২০১২) ২টি ম্যাচ ১ গোল (২০১৩) এ ছাড়াও তিনি ২০১২ সালে যথাক্রমে ওএফসি ন্যাশনাল কাপ এবং ফিফা কনফেডারেশন কাপে অংশ নিয়েছিলেন।