আত্মবিশ্বাসে ভর করে

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২০:০৬
ছোটবেলায় প্রায় সকলেই জীবনের লক্ষ্য নিয়ে অনেক রচনাই লিখেছেন, সেখান থেকেই হয়তো শুরু হয় জীবনের ছক কষা। কিন্তু তিনি কখনোই নিজেকে এই ছকে ফেলেননি। জীবনকে কখনোই কোনো নির্দিষ্টতায় আটকে ফেলতে চাননি, বরাবরই নিজের ভালো লাগাকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন, কাজের মাঝে নিজের তৃপ্তি খুঁজেছেন। বলছিলাম প্রজন্মের সফলজন এবি ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স তানিয়া সাত্তার সম্পর্কে। তার সফলতার পেছনের গল্পগুলোই উঠে এসেছে আমাদের এবারের আয়োজনে। তাকে নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার সাত বছর আগে যখন তানিয়া সাত্তার প্রথম ব্র্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টে কাজ করতে আসেন তখন বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেক্টরে ব্র্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট তুলনামূলকভাবে নতুন। তাই প্রথম দিকের এই অভিজ্ঞতাগুলো ছিল অনেক মজার। প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নতুন ব্র্যান্ড গাইডলাইন তৈরির আনন্দটাই ছিল অন্য রকম এবং তার কাজে প্রতিষ্ঠান থেকেও সহযোগিতা পেয়েছেন যথেষ্ট। বাবার চাকরির সুবাদে তানিয়া সাত্তারের শৈশব কেটেছে দেশের বাইরে লিবিয়ায়। তারপর পরিবারের সাথে চলে আসেন ঢাকায় এবং বেশিরভাগ সময় কেটেছে উত্তরায়। বাবা প্রকৌশলী, মা গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে তানিয়া সাত্তার সবার কনিষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। স্বামী একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরিরত। একজন ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে এই পেশায় তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন। পেশা নিয়ে তিনি কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন জানতে চাইলে বলেন, ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধের বিষয়টি অনেকাংশে নিজের উপর নির্ভর করে। ব্র্যান্ড ম্যানেজার পেশায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং বাহিরে বিভিন্ন ধরনের কমিউনিকেশন করতে হয়। সুতরাং স্বচ্ছন্দ না হলে এ পেশায় সফলতা অর্জন সম্ভব নয়।’ এরপর তার কাছে প্রশ্ন রাখা হলো—কেন এই পেশা বেছে নিলেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘মার্কেটিংয়ের ছাত্রী হিসেবে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট আমাকে প্রথম থেকে আর্কষণ করে। এ বিষয়টিতে নিজস্ব সৃজনশীলতা প্রকাশের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সুযোগ। তাই ব্যাংকিং সার্ভিসের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় এই বিভাগটি আমাকে বেশি আকৃষ্ট করে।’ পেশা হিসেবে ব্র্যান্ড ম্যানেজার এই প্রজন্মের আগ্রহের শীর্ষে, কেননা ব্র্যান্ডিং মানেই নতুন কিছু, ব্র্যান্ডিং মানেই মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা। দেশে প্রচলিত অনেক সৃজনশীল পেশার মধ্যে এই পেশাটি অন্যতম সুতরাং প্রজন্মের আগ্রহের কমতি নেই এই বিষয়ে। এই বিষয়টিকেই সমর্থন করে তানিয়া সাত্তার বলেন, ‘ব্র্যান্ড ম্যানেজার পেশাটি এ প্রজন্মের মাঝে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সারা বিশ্বে ব্র্যান্ড মার্কেটিং বা কমিউনিকেশনে যে নতুন নতুন মাধ্যমের প্রসার হচ্ছে তা থেকে আমাদের প্রজন্ম পিছিয়ে নেই। এ পেশায় অনেক নতুনত্ব, সৃজনশীলতা রয়েছে, যা এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আকর্ষণ করছে।’ আর এ প্রজন্মের কাজ সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই মনে করি এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ ভালো করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় সারা বিশ্ব এখন তাদের সামনে উন্মুক্ত। গতানুগতিক পেশার বাইরেও নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রে কাজ করছে যা অত্যন্ত আশার কথা।’ ভবিষ্যতে তানিয়ে সাত্তার বৃহত্ পরিসরে ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করতে চান। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা আছে তার। আশা করা যায় এক্ষেত্রেও তার সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।