নতুন প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২০:০৬
‘একজন শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলেই তাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব’—এই কথাকে বিশ্বাস করেই নিজের শিক্ষকতা জীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষাবিদ সুব্রত এডোয়ার্ড গমেজ। দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সত্ ও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার হাত ধরে অনেক শিক্ষার্থী আজ নিজের ভবিষ্যত্ গড়ছেন আলোর পথেই। আলোকবর্তিকা এই শিক্ষককে নিয়ে আমাদের এবারের অন্য প্রজন্ম। তাকে নিয়ে লিখেছেন মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ‘নতুন প্রজন্মকে মানবসম্পদে পরিণত করার কাজটি শুরু করতে হবে মূলত স্কুল লেভেল থেকেই। স্কুলে সময়োপযোগী আধুনিক শিক্ষা কিংবা আদর্শিক ও মানবীয় গুণাবলি অর্জনের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদেরকে বেশি করে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন দিবসে আয়োজন করতে হবে পৃথক পৃথক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান। বিশেষকরে জাতীয় ও আভ্যন্তরীণ সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হবে।’—কথাগুলো বলছিলেন মেথডিস্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষ সুব্রত এডোয়ার্ড গমেজ। তার শিক্ষকতার শুরু নটরডেম কলেজে। ইতিহাসের এই শিক্ষক অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এর পর দীর্ঘ সময় অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ মেথডিস্ট চার্চ ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত মেথডিস্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। সম্পূর্ণ নতুন এই স্কুলকে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি পৌঁছে দেন শহরের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে। এর পর ডাক পড়ে আরেক চ্যালেঞ্জ গ্রহণের, দায়িত্ব নেন হিড ইন্টারন্যাশনাল নামক এক নতুন স্কুল গড়ার এবং সীমিত সময়ের ব্যবধানে একেও একটি অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি। এরই মধ্যে আবারও তাকে প্রয়োজন হয়ে পড়ে মেথডিস্টে এবং দ্বিতীয় দফায় হাল ধরেন এই প্রতিষ্ঠানের। ফলে শুধু অধ্যক্ষই নয়, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে বর্তমান সময়ের শীর্ষস্থানীয় এই দুই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সাফল্যের সাথে জড়িয়ে আছে তার দূরদর্শিতা ও অক্লান্ত শ্রম-সাধনা। সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বাইরে এ জাতীয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণে অভ্যস্ততার কারণেই তিনি সম্পূর্ণ নতুন এসব প্রতিষ্ঠানকে অত্যন্ত সীমিত সময়ের ব্যবধানে পৌঁছে দিয়েছেন সাফল্যের উচ্চ শিখরে। এই আলোকবর্তিকা শিক্ষক ও দক্ষ সংগঠক জানিয়েছেন বর্তমান এই চ্যালেঞ্জিং যুগে নতুন প্রজন্মকে কীভাবে মানবসম্পদে পরিণত করা যায়। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে ছাত্রদের আমি এই মর্মে উত্সাহ ও পরামর্শ দিই যে, তোমাদের পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হলেও তোমরা ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষাজীবন থেকে আত্মনির্ভরশীল হতে সচেষ্ট হবে। মনে একটি পণ সবসময় লালন করো যে, পড়াশোনা শেষে আমি স্বীয় চেষ্টায় যত দ্রুত সম্ভব কর্মমুখী হবো। ছাত্রজীবন থেকে গৃহ শিক্ষকতা দিয়েই হাতে খড়ি নাও। এ ছাড়া বোর্ড পরীক্ষার পর তোমরা সময়টাকে কাজে লাগাতে পারো সৃষ্টিশীল কার্যক্রম যেমন, বিভিন্ন হস্তশিল্পে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে। অথবা তুমি যদি ব্যতিক্রম কিছু করতে চাও তাহলে পরীক্ষার পর গ্রামের বাড়িতে তোমাদের যাদের পরিত্যক্ত জমি আছে, সেখানে নার্সারি বা হালকা চাষাবাদ ও খামার তৈরির মাধ্যমেও তুমি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারো। ইচ্ছা করলে পার্টটাইম চাকরিও করতে পারো। আসলে সবই নির্ভর করছে তোমার চিন্তা-চেতনা ও সদিচ্ছার উপর। তবে এসবই হতে হবে পড়াশোনার ফাঁকে, অবসরে।’ এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, ‘এসব কাজে তোমরা রাতারাতি কোনো বড় কিছু হতে না পারলেও শিক্ষাজীবনের গুরুত্ব অনুধাবন করাসহ তোমাদেরকে ধৈর্য সহিষ্ণু হতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে এবং জানতে পারবে জীবন ও বাস্তবতাকে। বিশেষ করে এতে অবসর সময়ের অপব্যয় হবে না। এই প্রয়াস ভবিষ্যতে তোমাদের আলোকিত জীবন গড়তে ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা রাখবে রাখবে।’