প্রজান্মের নেভাল আর্কিটেক্ট

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২০:০৭
ড. মাসুদ করিম অধ্যাপক (নেভাল আর্কিটেকচার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় জাহাজ নির্মাণ—ঐতিহ্য আর গর্বের এই প্রকৌশল খাতটি আজ আমাদের সোনালি স্বপ্নের দিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বাংলাদেশ শুধু শার্ট সেলাই করতেই জানে না, তারা জাহাজ নির্মাণের মতো দক্ষ কারিগরি বিদ্যায়ও পারদর্শিতা দেখাতে পারে। ২০০৮ সাল থেকেই আর্ন্তজাতিক ভাবে বাংলাদেশ একটি উদিয়মান জাহাজ নির্মাণকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃত। আর জাহাজ নির্মাণসহ এর নানা কারিগরি দিক বিশ্লেষণে এদেশীয় অগ্রযাত্রায় অবদান রেখে চলেছেন ড. মাসুদ করিম। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেভাল আর্কিটেকচার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে ভবিষ্যত্ প্রকৌশলীদের গড়ে তুলছেন। মাসুদ করিম বলেন, ‘আমাদের অনেকেই বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ববোধ করি। তাদের অনেকেই হয়তো এদেশের অর্জনগুলো সর্ম্পকে ভালোভাবে জানে না। বর্তমানে বিশ্বে জাহাজ শিল্পে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। প্রাচীন আমল থেকেই নৌপথ সম্পদ আহরণ, পণ্য পরিবহন ও নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে একটি উত্তম ও অনুপম মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিশ্বের সর্বত্র নৌপথের যাতায়াত ব্যবস্থা সবচেয়ে কম খরচ ও আরামদায়ক। বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জাহাজ হচ্ছে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আমাদের সোনার বাংলা নদীপথবেষ্টিত, নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় জাহাজ শিল্পের একটি উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৫৬ সালের দিকে বিশ্বের মধ্যে আমাদের দেশ জাহাজ তৈরি ও মেরামতের জন্য জাহাজ শিল্প একটি অন্যতম খাত হিসেবে পরিচিত ছিল। আর তাই প্রসঙ্গতই বলতে হয়, এই খাতে প্রচুর লোকের কাজের সুযোগ রয়েছে আমাদের দেশে। এর জন্য যত কারিগরি দিক দরকার, সবটাই বাংলাদেশ থেকেই দেওয়া হচ্ছে। নেভাল আর্কিটেক্টদের প্রচুর কাজের সুযোগ এখানে, এমনকি দেশের বাইরেও প্রচুর সুযোগ রয়েছে।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘বুয়েটের অধিকাংশ ছেলেমেয়েই পাস করার পর বিদেশে উচ্চবেতনে কাজ করছে।’ আমাদের দেশের এই শিল্পের বিকাশে এই মুহূর্তে কী করণীয় জানতে চাইলে মাসুদ করিম বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ তৈরি করার যোগ্যতা রাখলেও নির্মাণের পর তার পরীক্ষার জন্য যে টোয়িং ট্যাংক থাকা দরকার, সেটা নেই। এই দিকটাতে যেহেতু সরকার বেশ প্রণোদনা দিচ্ছে, তাই আশা করি শিগগিরই টোয়িং ট্যাংক স্থাপন করার মাধ্যমে একটা পূর্ণতা দেওয়া হবে।’ মাসুদ করিমের ছেলেবেলা কেটেছে নিজের গ্রাম মাদারীপুরে। সেখানে মাধ্যমিকে পড়ার সময়েই আগ্রহ দেখে চাচা নিয়ে এলেন ঢাকায়। লালমাটিয়াতে এক স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। এরপর ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবেন, সেই মতো পড়াশোনাও করছিলেন তিনি। সুযোগ পেয়ে যান বুয়েটে। নেভাল আর্কিটেকচারের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ বুঝতে পেরে এখানেই ভর্তি হন তিনি। ভালো ফলাফলের সুবাদেই তিনি এখানে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়ে যান। দু’বছর ধরে এখানে বিভাগীয় প্রধান হিসেব দায়িত্বও পালন করেন তিনি। তিন ছেলেমেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়েই এখন তার সংসার। ছেলে আবিরুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আতিফ স্কুলে পড়ছে এবং মেয়ে নুসাইবার বয়েস তিন বছর। স্ত্রী আফ্রিদা বেগম লুবনা সবসময়ই তার কাজে অনুপ্রেরণা জোগান। তিনি স্বপন দেখেন, এই শিল্পকে অনেক সমৃদ্ধ করে যাবেন। সেই ক্ষেত্রে তার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করে যাবেন তিনি, এমনটাই প্রত্যাশা। ড. মাসুদ করিম ডাকনাম :মাসুদ জন্মতারিখ ও স্থান :৫ নভেম্বর, মাদারীপুর মায়ের নাম :ফরিদা ইসলাম বাবার নাম :মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম স্কুল :পশ্চিম রাজৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রিয় উক্তি :টু হ্যান্ডেল ইউরসেলফ, ইউজ ইউর হেড; টু হ্যান্ডেল আদারস, ইউজ ইউর হার্ট প্রিয় পোশাক :পায়জামা-পাঞ্জাবি অবসর কাটে যেভাবে :ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের ইচ্ছেটাকে সফলভাবে পূর্ণ করা| ০০০০০০০ মো. শামসুল আলম ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেরিন হাউজ লিমিটেড বাংলদেশ থেকে জাহাজ রফতানির কার্যাদেশ পাওয়ার পর এবার বিশ্ব অঙ্গনে জাহাজের ডিজাইন তৈরি করার স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই জাহাজ শিল্পে বাংলাদেশের জাহাজের অবস্থান অনেক এগিয়ে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সাথে জড়িতরা জানান, দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে জাহাজ রফতানি কার্যাদেশ পেয়ে এখন ব্যস্ত জাহাজ নির্মাণ কাজে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ কয়েকটি দেশে ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা সমুদ্রগামী জাহাজ ডিজাইন অনুমোদন দিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশ সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণের ডিজাইন ইউরোপ ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তৈরি করে আনতে পারে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এমনি সম্ভাবনার কথা জানালেন জাহাজের ডিজাইনার শামসুল আলম। নিজেই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছেন তার প্রতিষ্ঠান মেরিন হাউজে, করছেন অনেকগুলো ডিজাইনও। শামসুল আলম বলেন, ‘নিজের দেশে নকশা তৈরি করতে পারলে রফতানি মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগ ব্যয় কমানো ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। সমুদ্রগামী জাহাজের নকশা এখন বাংলাদেশে হওয়ায় নির্মাণ খরচ অনেক কমে যাবে। তাই জাহাজ শিল্পের নকশার পাশাপাশি নির্মাণ খাতের উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। এ দিকে বিদেশে রফতানির জন্য জাহাজ তৈরির কার্যাদেশ পাওয়ার পর এবার ড্রেজার তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের জাহাজ শিল্প উন্নয়নে সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছেন এই সময়ের নেভাল আর্কিটেক্টরা।’ অনেকের মনে প্রশ্ন আসে আসলে আমাদের তৈরি জাহাজগুলোর গুণগত মান কেমন হবে? এই প্রশ্নটার সাথেই জড়িয়ে আছে আমাদের ভবিষ্যত্। কোনো দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পর অগ্রসর হওয়ার ও তা স্থায়িত্বের মূলে যে বিষয়গুলো কাজ করে তা হলো উন্নত গুণগত মান, তুলনামূলক কম উত্পাদন খরচ এবং সময়মতো হস্তান্তর করা। শামসুল আলম বলেন, ‘সমুদ্রগামী জাহাজ তৈরিতে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলে ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং জাহাজ তৈরিতে এবং পরিচালনায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নিয়মকানুন থাকে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে একটি জাহাজের ড্রয়িং অনুমোদন করে। প্রতিটি সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য এমন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।’ আমাদের আশার কথা শোনালেন তিনি, ‘বাংলাদেশ থেকে রফতানিকৃত সমুদ্রগামী জাহাজগুলোর গুণগত মান নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো মালিক বা প্রতিষ্ঠান কোনো অভিযোগ করেনি। এমনকি কোনো বন্দরে আর্ন্তজাতিক কোনো আইনের প্রয়োগের অভাবে জাহাজ বসেও থাকেনি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এটি অত্যন্ত গর্বের। এতে ক্লাসিফিকেশন সোসাইটির যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি বাংলাদেশি শিপইয়ার্ডগুলোও তাদের সর্বোচ্চ মেধা আর পরিশ্রমের কোনো কমতি রাখেনি। সর্বোপরি প্রতিটি শ্রমিকের একাগ্রতা এবং সুযোগ পেলে কোনো কিছু করে দেখানোর ক্ষমতাই জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আজকে বাংলাদেশকে এই অবস্থান দিয়েছে। শামসুল আলমের ছেলেবেলা কেটেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে। সেখানেই স্কুল পার করে এরপর ঢাকায় বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হন। তারপর বুয়েটে সুযোগ পেয়ে গেলেন। ছেলেবেলার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নটাকে এভাবেই পূরণ করলেন তিনি। শামসুল আলমের স্ত্রী শাহানা আলম একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। দুই প্রকৌশলী খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই কাটিয়ে দিচ্ছেন তাদের দিন। শামসুল আলম আমাদের দেশের জন্য বিশ্বমানের সব ডিজাইন তৈরি করবেন, তেমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। মো. শামসুল আলম ডাকনাম :আলম জন্মতারিখ ও স্থান :১০ই মে, নরসিংদী মায়ের নাম :নিলুফার ইয়াসমিন বাবার নাম :আব্দুস সালাম প্রথম স্কুল :বাকৃবি উচ্চ বিদ্যালয় প্রিয় উক্তি :যে কাজটা করছ আন্তরিকতা দিয়ে কর প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট প্রিয় মানুষ :আমার মা অবসর কাটে কীভাবে :বন্ধুদের সাথে সাফল্যের সংজ্ঞা :লক্ষ্য ঠিক করে সেই পর্যন্ত পৌছানো। ০০০০০০০ ড. মশিউর রহমান সহকারী অধ্যাপক নেভাল আর্কিটেকচার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় একটা সময় একাডেমিক পড়ালেখা শেষ করেই সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল। এখন আর সে সময় নেই। এখন সব ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। এখন অনেক বিষয়েই পড়ালেখার সুযোগ হয়েছে, যেসব বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করেই চাকরি পাওয়া সম্ভব। পড়ালেখার মূল লক্ষ্য জ্ঞান অর্জন হলেও চাকরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়ে থাকে। একটা সময় পর্যন্ত পড়ালেখার ইচ্ছের বিষয় জানতে চাইলেও বলা হতো ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা। তবে প্রতিযোগিতার এই সময়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠার সুযোগ সবার হয় না। সুযোগটা পেয়েছিলেন মশিউর রহমান। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ার খুব ইচ্ছে ছিল একসময়। শেষটায় নেভাল আর্কিটেকচার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন বুয়েটে। জাহাজ তৈরির সাথে সরাসরি সখ্যতাটাও সেভাবে। মশিউর রহমান প্রথম সেমিস্টার থেকেই পড়াশোনাতে দারুণ মনোযোগী ছিলেন। বরাবরই ভালো ফলাফল করে এসেছেন তিনি। মাস্টার্সে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের স্কলারশিপে পিএইচডি করেন জাপান থেকে। এ বিষয়ে যারা আগ্রহী তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক দিকগুলোতেও মনোযোগী হওয়ার কথা বলেন তিনি। এ না হলে আসলে জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ সম্ভব নয়। মশিউর রহমান মনে করেন, সরকারি বিভিন্ন কাজে নেভাল আর্কিটেক্টদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা উচিত। তাহলে অনেক জায়গায় মানের আরও উন্নয়ন ঘটবে। কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায় জানতে চাইলে মশিউর রহমান বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে পেশার গুরুত্ব বুঝে উঠা কঠিন। বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ পণ্যই পরিবাহিত হয় শিপিং ইন্ডাস্ট্রির দ্বারা। তাই এটিকে বিশ্ব অর্থনীতির চালিকা শক্তি ধরা হয়। শিপিং ব্যতীত বিপুল পরিমাণ খাদ্য, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য বিশ্বের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহন করা একেবারেই অসম্ভব। অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থা অপেক্ষা শিপিংই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব। যেহেতু নেভাল ইঞ্জিরিয়ারিং বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই এ পেশায় কর্মরতদের কাছে এটি অত্যন্ত তৃপ্তিকর যে তারা একটি প্রয়োজনীয় পেশায় নিয়োজিত।’ জাহাজশিল্পের সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই শিল্পের সম্ভাবনা অপরিসীম এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অন্যান্য অনেক কারণের মধ্যে রয়েছে, সারা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় এদেশের শ্রমিকদের কম বেতন। সেই সাথে নেভাল আর্কিটেক্টদের উত্তরোত্তর কারিগরি জ্ঞানবৃদ্ধি আরও সমৃদ্ধ করছে এই পেশাকে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে জাহাজ নির্মাণে শিল্প জোন স্থাপন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান প্রয়োজন।’ তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নদীর তীরে জাহাজ নির্মাণ জোন গড়ে তোলা হলে এ শিল্প দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবে। মশিউর রহমানের ছেলেবেলা কেটেছে বরিশালে। সেখানেই কেটেছে স্কুল কলেজের উচ্ছল দিনগুলো। একমাত্র সন্তান মাহাদী মারজান আর স্ত্রী দিনার আহমেদকে নিয়েই ঢাকার বারিধারাতে তার বসবাস। এই শিল্পের একজন সহযাত্রী হয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। ড. মশিউর রহমান জন্মতারিখ ও স্থান :১ জুন, বরিশাল মায়ের নাম :শাহান আরা বেগম বাবার নাম :মো. খলিলুর রহমান প্রথম স্কুল :কাটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় উক্তি :নাথিং ইস ইম্পসিবল প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :পরিবারের সাথে সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম করলেই সফলতা আসে। ০০০০০০০ তারিকুল ইসলাম নির্বাহী পরিচালক, আনন্দ শিপইয়ার্ড লি. ‘ছোটবেলায় নানাবাড়িতে গেলে নৌকা চালানো ছিল আমার খুব শখের একটা বিষয়। পিতৃ ও মাতৃকুল দুই-ই দক্ষিণাঞ্চলে হওয়ার জন্য নদী ও নৌযান আমার মানসপটে একটা গভীর দাগ কেটেছে। নৌপ্রকৌশলী হওয়ার একটা সহজাত বাসনা ছোটবেলা থেকেই লালন করেছি। এই পেশায় আসার পেছনে আর একটি কারণ হচ্ছে—এই পেশার প্রকৌশলীদের বিস্তৃত বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। একটি জাহাজের নির্মাণ কৌশলের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে, সেটা যখন তৈরি হয়ে পানিতে ভাসে, তখন অন্যরকম একটি তৃপ্তি পাওয়া যায়।’ এভাবেই নিজের শুরুর গল্পটা বললেন আনন্দ শিপইয়ার্ডের নির্বাহী পরিচালক তারিকুল ইসলাম। কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই কাজে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি আমার পেশাসংশ্লিষ্ট কাজ করি, তাই আমি আমার কাজে স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করি।’ এই পেশার সম্ভাবনার দিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নৌ-প্রকৌশলীগণ আমাদের দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। শিপবিল্ডিং এখন একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এ শিল্পে সরাসরি প্রচুর নৌ-প্রকৌশলী প্রয়োজন। আমাদের দেশের অনেক বড় সম্পদ হলো নদী এবং সমুদ্রতট। এই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা গেলে মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রির প্রসার সম্ভব। এবং সেইসাথে আরও অনেক নৌ-প্রকৌশলীর চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব। নবীন নৌ-প্রকৌশলীরা কাজ শেখার জন্য ভীষণ আগ্রহী। তাদের মধ্যে রয়েছে অদম্য মনোভাব আর প্রতিভার স্ফূরণ। এদের মেধা ও মনন বিশ্বমানের। উন্নত বিশ্বে আমাদের তরুণ প্রকৌশলীদের কদর রয়েছে।’ নতুনদের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে সময়ের এই মেধাবী প্রকৌশলী বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস অর্জন করাটা জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আত্মবিশ্বাস তখনই আসে যখন নিজের কাজের উপর দখল চলে আসে। এজন্য কাজটাকে একাগ্রতার সাথে সম্পন্ ্নকরতে হবে।’ তারিকের ছেলেবেলার কথাটা চলুন তার বয়ানেই শুনে আসি, ‘শৈশব খুবই সুখস্মৃতির। অনেক ডানপিটে ছিলাম আমি। খেলাধুলা করাটা ছিল নেশার মতো। আমার বাবা আমাকে কখনও অনুত্সাহিত করেননি। ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রথাকাকালীন আমি মটরবাইক চালাতাম। যখন কিনা পা দিয়ে মাটি ঠিকভাবে নাগাল পেতাম না। এখন সেগুলো ভাবলে মনে মনে হেসে উঠি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রথাকাকালীন অনেকবার খরস্রোতা কালিগঙ্গা ও বলেশ্বর নদী পার হয়েছি। একবার তো প্রায় মাঝ নদীতে ডুবতে বসেছিলাম। আমার বড় বোন আর আমি পিঠাপিঠি। আমার ডানপিটে স্বভাবের জন্য ওকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।’ তারিকুল ইসলামের হাত ধরে আমাদের দেশের এই শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের। তারিকুলইসলাম ডাকনাম :তারিক জন্মতারিখ ও স্থান :২ আগস্ট, পিরোজপুর মায়ের নাম :মমতাজ মহিদ বাবার নাম :মহিদুল ইসলাম প্রথম স্কুল :মিলনমন্দির প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝালকাঠী প্রিয় মানুষ :আমার মা-বাবা ও সহধর্মিণী প্রিয়উক্তি :Be yourself, everyone else is already taken প্রিয় পোশাক :জিন্স, হাফশার্ট, ডেজার্ট সু অবসর কাটে যেভাবে :বই, সাইক্লিং ও প্রকৃতি অবলোকন সাফল্যর সংজ্ঞা :সাফল্যের কোনো সর্বজনীন সংজ্ঞা নেই। স্বপ্ন দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ, এরসাথে যদি প্রচেষ্টা ও সময়ানুবর্তিতা যুক্ত করা যায় তবে সফলতা বেশি দূরে নয়।