আইনি জটিলতার কারণে দুদকের সাফল্য নেই

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৩, ২১:৪৮
বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সফল হতে পারছে না। আগামীতে এ বিষয়ে মনযোগী না হলে দুদকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হবে না। রবিবার বিকালে দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি কমলেও সাধারণ পর্যায়ে দুর্নীতি এখনো ব্যাপক আকারে রয়েছে। দারিদ্র বিমোচন না হলে এই দুর্নীতি কমবে না। দুদকের একার পক্ষে দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। দুদকের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার জন্য দুদক সফল হতে পারেনি। দুর্নীতি দূর করতে দুইটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত দেশে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি । দ্বিতীয়ত মানুষের বার্ষিক আয় ১৫০০ ডলারের উন্নীতকরণ। ‘নখ ও দন্তহীন দুদক’ এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই বক্তব্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আমি এটি দ্বারা বুঝিয়েছি আইনের দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার স্থগিতাদেশকে। যার কারণে দুদক তার কাজে প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না। দুদক সরকার বা কোনো পক্ষের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেনি উল্লেখ করে গোলাম রহমান বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ৩শ’র বেশি মামলা (ওয়ান ইলেভেনকালীন সময়ে দুদকের দায়ের করা মামলা) দুদককে প্রত্যাহার করতে বলেছিলো সরকার। কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। একটি মামলাও প্রত্যাহার করেনি। এতে কি প্রমাণ হয় না আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছি? তিনি বলেন, গত চার বছরে কেউ অন্যায়ভাবে দুদককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেনি। যারা দুর্নীতিপরায়ণ তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে পঙ্গু করার চেষ্টা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি যখন দুদকে আসি তখন দুদকের আইন পরিবর্তন করে দুদককে পঙ্গু ও অকার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আমি তা হতে দেইনি। পরবর্তীতে দুদক আইন সংশোধনের মাধ্যমে দুদককে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আগে বিকাল ৫টার দিকে দুদক কর্মকর্তাদের দেয়া বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুদকের সংশোধিত আইন পাসের বিষয়ে তিনি বলেন, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার বিদায়ী সাক্ষাত্ হয়েছে। ওই সময় তিনি দুদকের সংশোধিত আইন সংসদে পাসের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।