মোহামেডান অধিনায়ক রজনী কান্ত বর্মণ ও শেখ রাসেলের অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য বাফুফে ভবনে সুপার কাপ ফুটবলের দশ কেজি ওজনের সোনালী ট্রফি হাতে ফটো সেশন করছিলেন। ফ্ল্যাশ জ্বলছে একের পর এক। ক্যামেরার সামনে বিপ্লবের মুখে হাসি। পাশেই মুখ গোমড়া করে আছেন রজনী। ফটো সাংবাদিকদের বার বার অনুরোধও রজনীর মুখে হাসি ফোটাতে পারছিলো না। ভিড়ের মধ্যে জনান্তিকে একজন বলে উঠলেন আগামীকালকের ফাইনালে শেখ রাসেলকে হারিয়েই শেষ হাসি হাসবেন রজনী। ফাইনাল শেষে রজনী না বিপ্লব হাসবেন সেটা বোঝা যাবে আগামীকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হওয়া প্রায় কোটি টাকার এ টুর্নামেন্টটির চূড়ান্ত লড়াইয়ের পর।
‘ট্রে্বল’ জয়ী শেখ রাসেলের গোলকিপার বিপ্লব আর মোহামেডান ডিফেন্ডার রজনী খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পারিবারিকভাবেও তাদের মধ্যে দারুণ সখ্যতা। একজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারেন না। এই দুই বন্ধুই আজ মাঠের খেলায় পরস্পরের শত্রু। পরস্পরের অমঙ্গল কামনায় মাঠে নামবেন। কারণ দু’জনের জন্যই ট্রফি জয় চ্যালেঞ্জ।
মোহামেডান চায় সুপার কাপ ফুটবল জিতে পেশাদার লিগ শিরোপা না পাওয়ার অতৃপ্তি মেটানোর পাশাপাশি শেখ রাসেলকে অভূতপূর্ব এক ইতিহাস গড়তে না দেয়া। অপরদিকে শেখ রাসেলের সামনে এক মৌসুমে টানা চার শিরোপা জয়ের হাতছানি। শেখ রাসেল মৌসুমের সবকটি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারলে তা হবে দেশীয় ফুটবলের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ঘটনা। এমন সুযোগ ফুটবল তীর্থ ইউরোপেও হরহামেশা ঘটে না। কাজেই আজ জিতলেই এদেশের ঘরোয়া ফুটবলে সবার উপরে উঠবে শেখ রাসেলের নাম। আর এ কারণেই ঘরোয়া ফুটবলের সবচাইতে অর্থকরী টুর্নামেন্ট সুপার কাপের তৃতীয় আসরের ফাইনালটি ফুটবলানুরাগীদের কাছে অন্য রকম মর্যাদা পাচ্ছে।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী নেই। আরেক বড় দল শেখ জামাল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। সে তুলনায় মোহামেডান দুর্বল দল নিয়েও দারুণ খেলে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অধিনায়ক রজনী তাই রাখঢাক না করে বলে ফেলেন, ‘আমরা আন্ডার ডগ হিসাবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলাম। বিদেশি ছাড়াই আমরা সেরা খেলাটা খেলেছি।’ রজনির কণ্ঠে এ কথা মানায়। কারণ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত, চার ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী দলটিকে অনেকটাই পুরনো মোহামেডানে হয়ে উঠতে দেখেছেন দর্শকরা। সমর্থকদেরও উপভোগ্য খেলা উপহার দিয়েছে ফুটবলাররা। এবার শেষ পেরেকটা ঠুকতে চান তারা ফাইনালে। মোহামেডানের সামনে প্রেরণা হয়ে আছে পেশাদার লিগ যাতে শেখ রাসেল ১৬ ম্যাচ খেলে যে দু’টিতে হেরেছিল, তা ছিল মোহামেডানের কাছেই। সঙ্গত কারণেই ভয় থাকবেই শেখ রাসেলের। কথাটা মানছেন মোহামেডান কোচ সাইফুল বারী টিটু,‘ তখন বিদেশি ফুটবলার নিয়ে খেলেছে ওরা। এখন বিদেশি ফুটবলার ছাড়া শেখ রাসেল আমাদের সাথে কেমন খেলবে সেটা দেখা যাবে।’
শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন,‘লিগের ম্যাচ হেরেছি, কিন্তু আমরা তো ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বে এবং সেমিফাইনালেও মোহামেডানকে হারিয়েছিলাম’। সাম্প্রতিক সময়ের সাড়া জাগানো এই কোচ সব সময় নিচু স্বরে কথা বললেও মোহামেডানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘রেকর্ড গড়ার একটা প্রেসার আছে।’ তবে সেটা চ্যালেঞ্জ হিসাবেই নিতে চান উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা তো আগেই জানিয়েছিলাম মৌসুমের সব কয়টি শিরোপা জয় করতে চাই।’ অধিনায়ক বিপ্লবের কথা হচ্ছে-‘আমরা বাংলাদেশের ফুটবলে একটা ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই।’
শিরোপা লড়াইয়ের আগে দুই দলই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বৈরি আবহাওয়া নিয়ে। কারণ গত ক’দিনের প্রচণ্ড গরম খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলা নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন কোচদ্বয়। তাছাড়া খরতাপের পাশাপাশি আছে বৃষ্টির ভোগান্তির দুশ্চিন্তাও।
বিটিভি এ ফাইনাল সরাসরি সম্প্রচার করবে।
