পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে চারবারের শিরোপাজয়ী ইতালির ম্যাচে যেমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার কথা ছিল তার ছিটেফোঁটাও ছিল না। লড়াইটা একতরফা করে দিল নেইমারের চোখ ধাঁধানো এক ফ্রি আর ফ্রেডের দুই গোল। মূলত নেইমারেরই জাদুতে গত শনিবার রাতে সালভাদোরে ইতালিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই কনফেডারেশন্স কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছালো ব্রাজিল।
ম্যাচ তখন দ্বিতীয়ার্ধে গড়িয়েছে। ইতালির গোলপোস্ট থেকে ১৮ গজ দূর থেকে ফ্রি কিক পেল ব্রাজিল। গোলপোস্টে জিয়ানলুইজি বুফন নামের এক দেয়াল। কিন্ত সদ্য বার্সেলোনাতে যোগ দেয়া নেইমারের চোখে যেন তখন বল আর গোল পোস্ট ছাড়া কিছুই নজরে আসলো না। ২১ বছর বয়সী তারকার নিখুঁত এক শটে পরাস্ত হলেন বুফন। কনফেডারেশন্স কাপে টানা তিনটি ম্যাচেই গোল করলেন নেইমার দ্যস স্যান্তোস। আনন্দে ভাসলো ব্রাজিল।
এর আগে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ডেভিড লুইজের বদলী হিসেবে প্রথম বারের মতো ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপিয়েই গোল করেন বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার দান্তে। নিজের শহরেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এমন শুরু হার মানালো রূপকথার গল্পকেও। এক গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আচমকা এক গোল হজম করে বসে স্বাগতিকরা। বালোতেল্লির নিরীহ দর্শন এক ফ্লিক থেকে বল পেয়ে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক জুলিও সিজারকে পরাস্ত করলেন ইম্যানুয়েল গিয়াচেরিনি। ম্যাচে আসলো ১-১ গোলের সমতা।
ম্যাচের গতিধারার বিপক্ষে এক গোলের দেখা পেয়ে খানিকটা চাঙ্গা হয়ে উঠে ইতালিয়ান শিবির। কিন্তু এরপরই ৫৫ মিনিটে নেইমারের সেই দর্শনীয় ফ্রি কিক। ২-১ গোলে এগিয়ে গেল সেলেসাওরা। এর ১১ মিনিট বাদেই আবারও গোল পায় ব্রাজিল। মার্সেলোর দূরপাল্লার ভাসিয়ে দেয়া বল দেন গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে থাকা ফ্রেডকে। ফ্রেড বল নিজের আয়ত্তে নিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামা ইতালিয়ান দলটিতে ছিল পাঁচটি পরিবর্তন। কাফ ইনজুরিতে আক্রান্ত মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলোকে ছাড়া মাঠে নেমে মাঝমাঠের দুর্বলতা কাটিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ইতালিয়ানদের। ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকে তাই ম্যাচটা এখানেই শেষ হয়ে যাবার কথা ছিল ইতালির। সেই অবস্থাতেও যে ম্যাচের কিছুটা উত্তেজনা বাকি ছিল, তেমনটা হয়তো কারোর ভাবনাতে ছিল না। ৭১ মিনিটে অ্যালবার্টো অ্যাকুইলানির নেয়া কর্নার থেকে ডান পায়ের শটে গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন জর্জিও চেলিনি। যদিও, গোলটি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। ডি বক্সের ভিতরে গোল হবার কয়েক সেকেন্ড আগেই মারিও বালোতেল্লিকে ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান উজবেকিস্তানের রেফারি ইরমাতভ। কিন্তু গোল হবার সাথে সাথেই সেই সিদ্ধান্ত বদলে গোলের বৈধতা দেন তিনি।
তবে ম্যাচ শেষ হবার কয়েক মিনিট আগে ফ্রেডের দ্বিতীয় গোলেই শেষ নিশ্চিত হয়ে যায় স্কোরলাইন। তিন ম্যাচে সম্পূর্ণ নয় পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পা দেয় কোচ লুইজ ফিলিপ স্কোলারির দল। ‘এ’ গ্রুপ থেকে ব্রাজিল আর ইতালির সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হওয়ায় জাপান ও মেক্সিকো ম্যাচের দিকে কারো নজরই ছিল না। গুরুত্বহীন ম্যাচটিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা জ্যাভিয়ের হার্নান্দেজের জোড়া গোলে জাপানকে ২-১ গোলে হারাল মেক্সিকো।
