রোদে ক্লাস হয় গাছের ছায়ায়

মেঘ জমলেই বাজে ছুটির ঘন্টা

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২০:৪৮
একহাতে চটের বস্তা, আর অন্য হাতে বই। এভাবে ছুটে আসছে একদল শিশু। পরনের পোশাক দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না ওরা সকলেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বই আর বস্তার ভারে যেন ওরা নুইয়ে পড়েছে। চটের বস্তা হাতে কোথায় চলছে ? এ প্রশ্ন শুনেই সমস্বরে উত্তর- কেন স্কুলে । স্কুলে আবার চটের বস্তা কেন! শুনেই এগিয়ে এলো দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্র। সে জানায়, স্কুলের শ্রেণীকক্ষে ফাটলের কারণে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোলা মাঠে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে । পাঠদানের জায়গায় রোদ পড়লেই শিক্ষার্থীরা খুঁজে নেয় গাছের ছায়া। আর আকাশে মেঘ জমলেই বাজিয়ে দেয়া হয় ছুটির ঘন্টা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাধীন দক্ষিণ রাজাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের ফাটলের কারণে শিক্ষার্থীদের এভাবেই খোলা আকাশের নিচে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে। সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের মাঠের ঘাসে বসে পাঠ গ্রহণ করছে মোট শিক্ষার্থী ২০৭ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ৩ জন। শ্রেণী শিক্ষিকা চম্পা রানি রায় ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের গাছের ছায়ায় ক্লাস নিচ্ছিলেন। আর শিক্ষার্থীরা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন । প্রশ্ন করতেই ৫ম শ্রেণীর ছাত্র কমল কুমার রায়, স্বপ্না আকতার জানান, তাদের শ্রেণীকক্ষটি ফেটে যাওয়ায় তারা ওই কক্ষে বসতে ভয় পাচ্ছেন। শ্রেণী শিক্ষিকা চম্পা রানি জানান, সবকটি শ্রেণীকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে, তাই তারা বাচ্চাদের বাইরে ক্লাস নিচ্ছেন। ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য সত্যেন্দ নাথ বর্মন জানান, সাভারের রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক দেখা দেয়ায় তারা শিক্ষার্থীদের রুমের বাইরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে রুমের বাইরে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক হরিপ্রসাদ বর্মন বলেন, শিক্ষকদের অফিসকক্ষসহ ৩টি শ্রেণীকক্ষে ফাটল দেখা দেয়ায় এভাবে চালাতে হচ্ছে বিদ্যালয়টি। অপরদিকে তার চাইতে করুণ অবস্থা লস্করা রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ওই বিদ্যালয়েও দেখা দিয়েছে ফাটল । তারপরও পলেস্তারা খসে পড়ছে অহরহ । বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা লাল রায় জানান, বিদ্যালয়ের অবস্থা জানিয়ে খোদ পানিসম্পদমন্ত্রী মহোদয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার তৌফিকুজ্জামান জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার সব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।