পূর্বাচলের স্থানীয় জনগণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২১:২৬
এইখানে এক গ্রাম ছিল। ছিল সবুজ শ্যামল বৃক্ষরাজি। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, ডালিম, জলপাইসহ হরেক রকমের ফল বাগান, বাঁশ ঝাড় আর গজারি বন প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরও সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তুলেছিল। পাখির কলকাকলিতে মেতে উঠতো পুরো শালবন। লাউয়ের ডগা আর ধানের শীষ দোল খেত। ভোর হলেই কৃষকরা ছুটে যেতেন মাঠে। কৃষাণীরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো গৃহকাজে। শিশু-কিশোররা মাঠে মেতে উঠতো গ্রামীণ খেলায়। কৃষকের গোলায় ছিল ধান। গোয়ালে ছিল গরু। পুকুরে মাছ। জমিনে নানা ফসল। খড়ের গাদা। মাচায় ছিল তরকারি। শীতে শিশির পড়ে ঘাসের ডগায় সোনালী রং অপরূপ করে তুলতো পুরো এলাকা। শিশুরা দল বেঁধে পাঠশালায় যেত। কোকিলের গান কানে বেজে উঠতো। কৃষক-কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় কাটাতেন স্ব-স্ব কাজ করে। যা এখন আর চোখে পড়ে না। গ্রামীণ এ দৃশ্য এখানে আর নেই। আছে শুধু চিক চিক বালি। ইটপাথরের স্তূপ। লাঙ্গল-জোয়ালের এলাকায় কৃষকের বসবাস নেই। পাকা সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, মাটি ভরাটসহ নানা উন্নয়ন কাজ চলছে। চলছে প্লট বরাদ্দ/হস্তান্তর। কোথাও বুলডোজারে ভাঙ্গা হচ্ছে আদিবাসীদের ঘর-বাড়ি। তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী ঘুপরি ঘর। দেয়া হচ্ছে প্লট বাউন্ডারী দেয়াল। এ নিয়েও চলছে দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং, সংঘাত। জমি না থাকায় এখন বেকার হয়ে পড়েছে আদীবাসীরা। অর্ধহারে-অনাহারে চলছে তাদের জীবন। সঠিকভাবে সার্ভে না করায় প্লট প্রাপ্তিতে হয়েছে জটিলতা।২ জন থেকে শুরু করে ৯ জনের মধ্যে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়।এখানকার কৃষকরা ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছে।