রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এখন চাঙ্গা

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২১:২৭
বিএনপিসহ ১৮ দলের ঘোষিত হরতাল, বিক্ষোভ, গণঅনশন, কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন, সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভাসহ আন্দোলনের কর্মসূচিকে ঘিরে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এখন চাঙ্গা। প্রায় প্রতিদিনই মত বিনিময় সভা, উঠান বৈঠক, শুভেচ্ছা বিনিময়সহ সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পরদিন থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন। পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করে তিনি সমস্যার নিরসন করছেন। নিরীহ ও সাধারণ ভোটারদের দলে টেনে আনছেন। নতুন-পুরাতন নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে সামনের দিকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি এতটুকু ভেঙ্গে পড়েননি। উত্সাহ, উদ্দীপনা আর উচ্ছ্বাস নিয়ে আগামীদিনের স্বপ্ন পূরণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নেতা-কর্মীরা তাঁর এ সকল কাজে সাড়াও দিচ্ছেন। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে কাজী মনিরুজ্জামান রাজনীতি শুরু করেন। রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কমিটির ২/১ জন ছাড়া বাকি সবাই কাজী মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে আস্থাশীল হওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি যৌথভাবে বাস্তবায়নে সফলতা আসছে। এছাড়া উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, মত্স্যজীবীদল, মহিলা দল, তরুণ দল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদল, তাঁতীদল, কৃষকদলের নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচি পালনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। সমপ্রতি রূপগঞ্জ উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলার আসামি ও গ্রেফতারকৃতরা জামিন নিয়ে আবারো মাঠে নামেন। একই সঙ্গে রূপগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও ২টি পৌরসভার মেয়র বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম দিন দিন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সভা, সমাবেশ, গণসংযোগ ছাড়াও কাজী মনিরুজ্জামান নানা কৌশলে ভোটারদের সঙ্গে এখনই যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা, জুলুম, নির্যাতনের শিকার হলেই কাজী মনিরুজ্জামান তাদের কাছে ছুটে আসেন। গ্রাম-গ্রামান্তরের কর্মসূচি ছাড়াও বরাবোস্থ ম্যাক্স মিলনায়তনে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নববর্ষ, ঈদ, পূজাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ তার দলীয় কার্যক্রমের প্রসার ঘটছে। তাতে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এখানে দৃঢ় ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তারাবো পৌরসভা মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, কাঞ্চন পৌরসভা মেয়র মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি মজিবুর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মোঃ জাকারিয়া , উপজেলা মহিলা দলের আহবায়ক হাওয়া বেগম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল জলিল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শরীফ মিয়া, উপজেলা তরুণ দলের সভাপতি জাকির হোসেনসহ মত্সজীবী দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সন্ত্রাস, মাদক, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, হামলা, মামলায়, হত্যাকাণ্ড আর জমি দখলের বিরুদ্ধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, রূপগঞ্জ আসনে বিএনপির কোন দ্বন্দ্ব, সংঘাত, বিরোধ না থাকায় সম্মিলিতভাবে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সহজ হচ্ছে। কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, পেশীশক্তির পরিবর্তে মেধাবী ভাল মানুষদের নিয়ে রাজনৈতিক টীম গঠন করতে হবে। যারা মননশীল ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করবে। রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। ’৭১-এ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। রূপগঞ্জবাসীর সার্বিক উন্নয়নে আরেকবার ভোট যুদ্ধ করতে চাই। তাই এখন থেকেই দলের নির্দেশ মোতাবেক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।