নতুন উচ্চতায় ধোনির ভারত

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২২:০০
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাই গোণায় ধরেননি ভারতকে। কিন্তু অনুশীলন ম্যাচ থেকেই অন্য এক ভারতকে দেখা যায়। দু’টি অনুশীলন ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে মূলপর্বে খেলতে নামে তারা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচই জিতে শতভাগ সাফল্য নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর সেই ভারতই জিতলো শিরোপা; বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে পাঁচ রানে হারিয়ে দলটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন অধিনায়ক ধোনি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে চোখ কপালে উঠে যাবার মত কাজ কিন্তু ঠিকই করে দেখিয়েছে ভারত। বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বিশ্বসেরা বর্তমান দলটি। ফলে ধোনির অর্জনে আর কোন অপূর্ণতাই থাকলো না। ছোট ফরম্যাট দিয়ে অধিনায়কত্বের অভিষেকের পর টুয়েন্টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেন ধোনি। এরপর ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বও পেয়ে যান। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ভারতকে সাফল্যও এনে দিচ্ছিলেন তিনি। ফলে তার উপর ভরসাটা অনেক বেড়ে যায় ভারতীয় নির্বাচকদের। তাই টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের পর টেস্টের গুরুদায়িত্ব বর্তায় ধোনির উপর। লংর্গার ভার্সনের দায়িত্ব পাবার কিছুদিনের মধ্যেই ভারতকে বিশ্বের সেরা টেস্ট দলে পরিণত করেন ধোনি। তার নেতৃত্বে ২০০৯ সালে নভেম্বরে প্রথমবারের মত টেস্টের সিংহাসন পায় ভারত। এরপর তা অব্যাহত রেখে সামনের দিকে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিল টিম ইন্ডিয়া। টি-২০ ও টেস্টের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট যখন মাথায় পড়া হয়ে গেছে, তখন ওয়ানডে বাকি থাকবে কেন? আর তা পড়তে গেলে তো বিশ্বকাপ জিততে হবে ভারতকে! তবে কি ২০১১ বিশ্বকাপ টার্গেট করেছেন ধোনি, হ্যাঁ শেষপর্যন্ত তাই করেছেন ধোনি। দলকে দারণভাবে উজ্জীবিত করে ২৮ বছর পর আবারো ভারতকে বিশ্বকাপের স্বাদ পাইয়ে দিলেন ধোনি। ফাইনালে মহাকাব্যিক অধিনায়কোচিত এক ইনিংস খেলে তিন ফরম্যাটেই ভারতকে সেরা করলেন তিনি। তবে তো অর্জনের দিক দিয়ে আর কিছুই বাকিই রইলো না ধোনির। কিন্তু বিশ্বকাপের পরই যখন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে মর্যাদা দেয়া হয় তখন তো এখানেও ভারতকে সেরা করতে হবে। আর যখন দলের সেনাপতি ধোনিই, তখন তো কথাই নেই। ব্যস লক্ষ্য করেই তীর ছুটলেন জায়গা মত। আর ভাগ্য আবারো কথা বললো ধোনির পক্ষেই।