পেটে ক্ষুধা নিয়েই চলে গেল আরমান

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৩, ২২:৪৬
বাসায় টুথপেস্ট ছিল না। তাই ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়ার জন্য কিছু দূরে নানার বাসায় গিয়েছিল আরমান। যাওয়ার আগে মাকে বলে গিয়েছিল মুখ ধুয়ে বাসায় ফিরেই নাস্তা করব। কিন্তু নানার বাসায় যাওয়ার পর মাকে দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা আর মনে থাকেনি। পাড়ার ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলায় মেতে উঠেছিল সে। নাস্তা খাওয়ার জন্য নানী ১০টা টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা পকেটেই ছিল। নাস্তার পরিবর্তে সন্ত্রাসীদের গুলি খেয়ে অকালে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হল আরমানকে। নগরীর সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির কাছে আরমানের নানার বাসা। গতকাল ওই বাসায় বসে কথা হয় আরমানের মা আছিয়া খাতুনের সঙ্গে। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে আছিয়া খাতুনের চোখ থেকেও পানি গড়িয়ে পড়ছিল। ছেলে হারানোর শোকে কাতর মা কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। সামান্য দুচার কথা বলার পরপরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। আরমানের রিকশাচালক বাবা মো. সিদ্দিক জানালেন, তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের চিকনিচর গ্রামে। ১২ বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য চট্টগ্রামে আসেন। থাকেন সিআরবি বস্তিতে। তিন সন্তানের মধ্যে তিনজনই ছেলে। বড় ছেলে ইমরান (১২) রেলওয়ে স্কুলে পড়ে। আরমান মেঝো। আরমান আর ছোট ছেলে শান্তকে মাত্র এক মাস আগে কদমতলি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়েছে। চোখের পানি মুছতে মুছতে আরমানের মা জানালেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি, দিন খাই। বড় সাধ ছিল আমার ছেলেরা আলেম হবে। তাই তিন হাজার টাকা খরচ করে ওদের মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলাম। মাদ্রাসাতেই ওরা দুই ভাই থাকত। কিন্তু শবে বরাতের ছুটি থাকায় দুই ভাইকে বাসায় নিয়ে এসেছিলাম।’ এরপর বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, আমি কেন ওদের বাসায় আনলাম। না আনলেই ভালো হত। আমার বুকের ধনকে এভাবে মরতে হত না। আছিয়া খাতুন বলেন, আমার সোনামনি সকালে না খেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছে। না খাওয়া ছেলেটার মাথায় গুলি করে মগজ বের করে ফেলা হয়েছে। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদেরও যেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। নিহত যুবলীগ কর্মী সাজু পালিতের বাসায়ও গতকাল ছিল শোকের মাতম। সাজু পালিতের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পূর্ব হিঙ্গুলি গ্রামে। তারা সপরিবারে নগরীর কোতোয়ালি থানার নন্দনকানন এলাকার দুনম্বর গলির একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।