কাজীপুরের চরাঞ্চলের ২ লক্ষাধিক মানুষ

দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৩, ২০:১৫
কাজীপুর উপজেলার যমুনা পাড়ের ২ লক্ষাধিক মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। প্রকৃতির রুদ্র রোষে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ পতন ঘটে। বেঁচে থাকার স্বপ্ন ভেঙ্গে নিরুপায় হয়ে দুর্বিষহ দিন যাপন করে তারা। আধুনক জীবন ও নাগরিক নানা সুযোগ সুবিধা থেকে এরা বঞ্চিত। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অর্থ বোঝে না কেউ।। কাজীপুর উপজেলা যমুনা নদী দ্বারা দুইভাগে বিভক্ত। এখানকার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে নাটুয়ারপাড়া ,চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, তেকানি, খাসরাজবাড়ি, মনসুরনগন ইউনিয়ন চরাঞ্চলে অবস্থিত। বাকী ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে শুভগাছা, মাইজবাড়ি, কাজীপুর ইউনিয়নের বৃহত্ অংশ যমুনাগর্ভে বিলীন হয়ে চরাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ যমুনার ভাঙ্গন। প্রতিবছর নদীর ভাঙ্গনে জমিজমা, ভিটেমাটি সবকিছু হারিয়ে গৃহহীন ও নিঃস্ব হযে পড়ে শত মত পরিবার।। নিরুপায় মানুষরা এক চর থেকে অন্য চরে গিয়ে ঘর বাঁধে। এক চর ভেঙ্গে গেলে আবার অন্য চরে গিয়ে নতুন করে ঘর বাঁধে। যাযাবরের মতই এদের দিনকাল। যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থাকলেও পূর্ব তীর এলাকায় কোন বাঁধ নেই। ফলে প্রতিবছর স্বাভাবিক বন্যায়ও চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি হয়ে কষ্টে দিনযাপন করে। বন্যার পানিতে ফসলহানি হয় শত শত হেক্টর জমির। নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন, বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অভাব-অনটন এবং দুর্ভোগ চরাঞ্চলবাসীর নিত্যদিনের সাথী। অভাবের কারণে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায় অনেকে। অনেকের বসবাস কুঁড়ে ঘর ও ঝুপড়ি ঘরে। এখানকার ৭৫ ভাগ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। আর্থিক সংকটের কারণে চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা গ্রহণের চেয়ে অর্থ উপার্জনের কথাই আগে ভাবে। এই ইউনিয়নগুলোতে শিক্ষার হারও কম। দারিদ্র্য এবং অসচেতনতার কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে এরা পিছিযে রযেছে। চরাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও কম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন তত্পরতাও চোখে পড়ে কম।জরাজীর্ণ ক্লাশরুমে ঝঁকি নিয়ে ক্লাশ কওে ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে ঝরে পড়ার হার আশংকাজনক। চরাঞ্চলে চিকিত্সার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এখানে কোন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। এসব ইউনিয়নে ৫টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও ৩টি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিত্সা ও পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম চলছে শুধু কাগজে কলমে। চরাঞ্চলের ২ লক্ষাধিক মানুষের চিকিত্সার জন্য একজন এমবিবিএস ডাক্তারও নেই। প্রয়োজনীয় চিকিত্সা ব্যবস্থা না থাকায় রোগে-শোকে এই অঞ্চলের মানুষ হাতুড়ে ডাক্তার,কবিরাজ ও তাবিজ কবজের উপর নির্ভরশীল। উপযুক্ত চিকিত্সার সুযোগ না থাকায় অনেকেই অপচিকিত্সায় প্রাণ হারায়।