এম. এ মতিন শিল্পায়ন ও সমাজ সেবার অগ্রদূত

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৩, ২০:১৭
উত্পাদনশীলতা বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিল্পপতি এম, এ, মতিন। সিরাজগঞ্জের গর্বিত এই কৃতি সন্তান ব্যক্তিগত জীবনে খুবই সত্-চরিত্রবান ও ধার্মিক। সহজ-সরল-সাদামাটা ও নিরহংকার প্রচার বিমুখ এই মানুষটি এলাকার অগনিত মসজিদ-মাদ্রাসা-স্কুল-কলেজ নির্মাণ মেরামত ও সংষ্কাসহ গরীব-দুঃস্থ অসহায় মানুষদের পূর্নবাসনে অকাতরে দান করে থাকেন। খুবই বিনয়ী নম্র-ভদ্র হিসেবে তিনি জেলার সর্বমহলে নন্দিত। মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও ভালবাসা তাকে সর্বমহলেই শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে। নিষ্ঠা এবং সততার কারনে তিনি দেশের কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় সকল ব্যাংকারদের কাছে একটি “আইকন” হিসেবে সমাদৃত ও পরিচিত। ৬ কন্যা সন্তানের জনক এ মানব দরদী শিল্পপতি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার একনিষ্ঠ পাঠক হিসেবে পরিচিতি। তিনি ছাত্রাবস্থা থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত একটিমাত্র সংবাদপত্র’ই পড়েন সেটি দৈনিক ইত্তেফাক। তিনি তার ব্যবসায়ীক সফলতার মুল চা্বিকাঠি হিসেবে বলেন, সততাই মানুষকে সাফল্যের মুকুট পড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, আয়কর ফাঁকি দেয়া মানে রাষ্ট্রকে বঞ্চিত করা। ধর্মীয় বিধান মতে সহায় সম্পদের পরিমান অনুয়ায়ী জাকাত ফাঁকি দেয়া মানে গরীবদের হক থেকে বঞ্চিত করা। সেইসাথে শ্রমিকদের নায়্য মজুরী ঠিক মতো পরিশোধ করলে যে কোন ব্যবসায়ী’ই উন্নতি ও সফলতা লাভ করবে। ১৯৬৮ সালে পানি উন্নয়ন বিভাগে ঠিকাদারী ব্যবসা দিয়ে তার ব্যবসায়িক জীবনের যাত্রা শুরু। পরে ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ইশ্বরদীতে শিল্প ব্যবসা বানিজ্য শুরু করেন। সরকার পরিত্যক্ত ও বন্ধ কিছূ মিল-কল কারখানা চালূর লক্ষ্যে ব্যাক্তি মালিকানায় দিলে তিনি তত্কালীন পাবনা জেলার ইশ্বরদীতে একটি ফাউন্ড্রি কারখানা কিনে সেটি মেরামত করে পুনরায় চালূ করেন। ১৯৭৬ সালে ফাউন্ড্রী কারখানা সহ ইশ্বরদীতে ফ্লাওয়ারমিল, রাইচমিল সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে তোলেন। সেই থেকে শূরু তার জীবনের সামনের পথচলা। এরপর থেকে তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। একপর্যায়ে নিজ জন্মস্থান সিরাজগঞ্জে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জ শিয়ালকোল বিসিক শিল্প নগরীতে তিনি উত্তরাঞ্চলের সর্ব প্রথম সিমেন্ট মিল স্থাপন করেন। ৫০ মেট্রিক টন থেকে উত্পাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে তিনি ৩০০ মেট্রিক টনে উন্নীত করেন। তার এই অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে সমগ্র উত্তরাঞ্চলের সিমেন্ট মিল স্থাপনের হিড়িক পড়ে যায়। সমগ্র উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৩২ সিমেন্ট কারখানা গড়ে ওঠে। কিন্তু এক পর্যায়ে ভারত সরকার তাদের ক্লিংকার আমদানী বন্ধ করে দিলে এই মিলগুলির অধিকাংশ’ই বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি সেখানে আরো কিছু জমি নিয়ে ২২ বিঘার জমির উপরে একটি অত্যাধুনিক স্পিনিং মিল নির্মানের উদ্যোগ নেন। ২০০৫ সাল থেকে এই মিলের উত্পাদন শূরু হয়েছে। সেখানে প্রায় ১১ শত শ্রমিক দিন রাত কাজ করছে। এই মিলে প্রতি মাসে প্রায় সারে ১৮ হাজার পাউন্ড ৫০ থেকে ৮৫ কাউন্টের সুতা উত্পাদিত হয়। বর্তমানে নলকায় একটি বিশালকায় অত্যাধুনিক কম্পোজিট স্পিনিং- নিটিং ও টেক্সটাইল মিল নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সেখানে প্রায় ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপ্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্পপার্কে আরো আধূনিক শিল্প-কল কারখানা নির্মাণ করবেন বলে তিনি জানান। তিনি একান্ত সাক্ষাত্কারে ইত্তেফাককে বলেন, সততা আর নিষ্ঠা ছাড়া কেও বড় হতে পারে না। মানুষের কল্যানে আমার সকল প্রয়াস নিবেদিত । কোন কল-কারখানা নির্মান করে সেখানে শত শত পরিবারের বেঁচে থাকার জীবিকার ব্যবস্থা করে দেয়াটা অনেক বড় ইবাদত সমতূল্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। শিল্পায়নের মাধ্যমে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার নদী ভাঙ্গা মানুষের কর্মসংস্থানে সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে যাবেন বলে তিনি জানান।