ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ডিলমা রৌসেফের প্রতিশ্রুতি দেশটির পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার পুনরায় রাস্তায় নেমে আসে। সাওপাওলো থেকে পুলিশ নয় বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে এবং রিও ডি জেনিরোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী সাওপাওলো শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ জানায়, শহরের কাপাও রেডোনডো ও কাম্পো লিম্পো ডিস্ট্রিকে কমপক্ষে পাঁচশ’ লোক ওই বিক্ষোভে অংশ নেয়। দেশের শিক্ষা, পরিবহন ও স্বাস্থ্যখাতে আরো সুবিধা দেয়ার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করে। এছাড়া, গত রিও ডি জেনেরোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার বেলো হোরিজোন্টাইল শহরে বিক্ষোভকারীদের বিশাল মিছিল বের করার কথা রয়েছে। ওই মিছিলে এক লাখ লোকের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। বুধবার শহরটিতে কনফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল ও উরুগুয়ের খেলা শুরুর আগেই ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। বিক্ষোভ বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষ শহরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এরপরও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষেও আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটারের ব্রাজিল-উরুগুয়ে খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন ফিফা কর্মকর্তারা। তবে ব্লাটারের উপস্থিতির কারণে বেলো হোরিজোন্টাইল শহরটির নিরাপত্তায় কোন পরিবর্তন আনা হবে কিনা তাত্ক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভের সময় শহরে লুটপাটের ঘটনার পর দোকান মালিক সমিতি শহরের নিরাপত্তা জোরদার করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্রাজিলে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে গত ১২ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। গত শুক্রবার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এক সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ডিলমা। মন্ত্রিপরিষদের এক জরুরি বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ডিলমা এক টেলিভিশন ভাষণে সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার কথা জানান। এই পরিকল্পনায় জন পরিবহন ও তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ দেশটির শিক্ষাখাতেও ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি।
