দীর্ঘ চার বছরের শিরোপা বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর পর মোহামেডান ক্লাবে এখন আনন্দের বান ডেকেছে। পাশাপাশি আনন্দের কুশিলব খেলোয়াড়দের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে অর্ধকোটি টাকার নগদ পুরস্কার।
সুপার কাপ ফুটবলের শিরোপা জয়ের রাতে মোহামেডান ক্লাব রঙিন হয়ে ওঠে। সমর্থকরা রং নিয়ে খেলেছেন। কাল ক্লাবে গিয়ে দেখা গেল, মেঝেতে লাল রং শুকিয়ে আছে। শুভাকাঙ্ক্ষীরা ক্লাবে আসতে শুরু করেছেন। মধ্য গগনে সূর্য, তার কিছু পরেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি। আষাঢ়ের বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সাদাকালো শিবিরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। সংবাদ কর্মীদের উপচেপড়া ভিড়। কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, ম্যানেজার, সাবেক ফুটবলার, সমর্থকদের ভিড়ে সব মিলিয়ে মোহামেডান ক্লাবে যেন বিবাহোত্তর সংবর্ধনার পরিবেশ। শুভাকাঙ্ক্ষীরা খেলোয়াড়দের খুঁজে নিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। মিষ্টিমুখ করানো হচ্ছে। জানা গেছে, প্রথম ধাপে দেড়শ কেজি মিষ্টির অর্ডার পাঠানো হয়েছিল দোকানে। ক্লাবের প্রধান ফটকে রঙিন বাতি লাগানো হয়েছে। চারটি বছর মোহামেডান শিবিরে আনন্দ-উল্লাস ও উত্সব ছিল না।
সুপার কাপের তৃতীয় আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে সাদাকালো শিবিরে মহোত্সব লেগেছে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত, টানা পাঁচটি ম্যাচ একই ধারাবাহিকতা রেখে খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই মোহামেডানের এমন খেলায় সমর্থকরাও দারুণ খুশি। অন্যান্য ক্লাবের কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগতভাবে মোহামেডানের এ সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অকৃপণভাবে। সবাই খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যের প্রশংসা করেছেন। গোলপোস্ট থেকে শুরু করে স্ট্রাইকিং পজিশন পর্যন্ত যখন যে খেলোয়াড় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাতে এতোটুকু দুর্বলতা ছিল না। গত এক দশকে মোহামেডানের খেলায় এতোটা গোছানো ফুটবল দেখেনি সাদাকালোর অনুরাগীরা। খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা, পরিশ্রম, একাগ্রতা, সাফল্য জয়ের জেদ আর টোটাল টিম ওয়ার্কই মূলত মোহামেডানকে শিরোপা এনে দিয়েছে।
ক্লাব সভাপতি ওবায়দুল করিম অভিনন্দন জানিয়েছেন খেলোয়াড়দের। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রজনী, কোচ সাইফুল বারী টিটুর সাথে কথা বলেন তিনি। মোহামেডান সভাপতি ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেনের কাছে জেনে নিয়ে কাপ জয়ের সুবাদে পাওয়া ৫০ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দিতে বলেন। এর সাথে তিনি নিজে আরো ২৫ লাখ টাকা খেলোয়াড়দের দেয়ার ঘোষণা দেন। শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তাদের দিয়ে মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া গতকাল বিকালে ক্লাব টেন্টে খেলোয়াড়দের সামনে ৫০ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করেন। এই সাফল্যের পেছনে স্বীকৃতি হিসাবে ক্লাবের বয়, বেয়ারা, বাবুর্চীসহ সব স্টাফের জন্য দুই লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করেন এই মোহামেডান কর্মকর্তা। তিনি এছাড়াও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় গোলকিপার মামুন খানের জন্য এক লাখ টাকা ঘোষণা করেন।
টাইব্রেকারে শেষ শটে ডিফেন্ডার মিন্টু শেখ গোল করলে শিরোপা নিশ্চিত হয় মোহামেডানের। মিন্টু এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগেই নির্ধারিত ছিল টাইব্রেকার হলে আমি পাঁচ নম্বরে শট নিবো। গোল করতে পেরে ভীষণ খুশি আমি।’ মিন্টু শেখকে ৫০ হাজার টাকা বোনাস হিসাবে দেয়া হবে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় শেখ রাসেলের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা মোহামেডানকে সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার ওয়াহেদ আহমেদ। এই স্ট্রাইকার পেশাদার লিগের ১৮ ম্যাচের মধ্যে সেরা একাদশে ছিলেন মাত্র দু’টিতে। সুপার কাপে ওয়াহেদ প্রতিভার স্ফূরণ ঘটিয়েছেন। গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। ফাইনালে তার গোলে সমতা এসেছে। ওয়াহেদ বললেন, ‘আমরা পারব না মনে করেছিল অনেকে। সেই জেদটা কাজে লাগিয়ে প্রমাণ করেছি।’ ওয়াহেদকেও ৫০ হাজার টাকা বোনাস ঘোষণা দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ৫৪ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করা হয়। খেলোয়াড়দের জন্য আজ রাতে ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তাদের হাতে চেক তুলে দেয়া হবে।
লোকমান হোসেন বলেছেন, ‘সমর্থকরা দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিল একটা শিরোপার জন্য। আমরা শিরোপা পেয়েছি। খেলোয়াড় কোচ ও সমর্থকদের ভালোবাসায় এবং দোয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে। এজন্য সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মেজবানের আয়োজন করা হবে ক্লাবে। তারিখটাও আমরা জানিয়ে দেব।’
কোচ সাইফুল বারী টিটু এই সাফল্যের জন্য তার সহকারী জুয়েল রানা, ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব, মিজানুর রহমান ডনের পরিশ্রম রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। অধিনায়ক মতিউর রহমান মুন্না ক্লাবগুলোর উদ্দেশ্যে বিদেশি খেলোয়াড় কমানোর দাবি করেন। ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন বলেন, এই শিরোপা জয়ে উজ্জীবিত হয়ে আমরা আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়বো।’
