কঠোর আইন চাইবে আকসু

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৩, ২১:২৯
গত পরশু থেকে লর্ডসে শুরু হয়েছে খুবই আগ্রহ তৈরি করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, ২০১৪ বিশ্বকাপ, নতুন ওয়ানডে আইন নানা বিষয়েই চার ধাপে চলমান এই সভা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা এই সভায় আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু) প্রধান রুনি ফ্লানাগানের বক্তব্য। যতদূর জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারতসহ প্রতিটি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশকে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং বিষয়ে কঠোর ফৌজদারি আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করবেন তিনি। ২৫ জুন আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর মিটিংয়ের ভেতর দিয়ে শুরু হয়েছে বিশাল এই সভা। এরপরই সেদিন ও গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের বৈঠক; এখানে অংশ নিয়েছেন সবগুলো টেস্ট খেলুড়ে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী। এরা চলমান বিভিন্ন ফিক্সিং কেলেঙ্কারি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে প্রধান নির্বাহীদের মূল আলোচ্য ছিল নতুন ওয়ানডে আইন ও ভবিষ্যত্ সফরসূচি (এফটিপি)। অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন আইসিসির ক্রিকেট কমিটি সম্প্রতি ওয়ানডের দুই প্রান্তে দুই নতুন বলের ব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে ক্রিকেট কমিটি ছোট দেশগুলো যথেষ্ট পরিমাণে টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছে না বলে এফটিপির সমালোচনা করেছে। এই দুটি বিষয়ই খতিয়ে দেখতে প্রধান নির্বাহীদের বৈঠক। তারা দেখবে কী করে টেস্টের পরিমাণ বাড়ানো যায় এবং নতুন ওয়ানডে আইন খেলোয়াড়রা আসলে কীভাবে নিচ্ছে। এছাড়া আইসিসি অর্থ ও বাণিজ্য, মানবসম্পদ কমিটিরও মিটিং চলবে আজ ও আগামীকাল। তবে আগামীকাল আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনের পরই শুরু হবে আসল উত্তেজনাটা। এখানে এখন ক্রিকেট পৃথিবী কাঁপাতে থাকা প্রতিটা বিষয়ই উপস্থাপিত হবে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ‘সরে যাওয়া সভাপতি’ শরদ পাওয়ারের নৈতিকতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া বিপিএল ও আইপিএলের দুর্নীতি নিয়ে গরম হতে পারে ২৮ ও ২৯ তারিখের বার্ষিক সাধারণ সভা। আলোচনা হবে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক নিয়েও। এমনিতে আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশই চূড়ান্ত আছে এখনো। কিন্তু বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোর সংস্কার কাজ ধীরে চলায় আইসিসি এমনকি বিকল্প ভেন্যুরও সন্ধান করতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া আকসু প্রধান রুনি ফ্লানাগান তার নির্ধারিত বক্তব্যে আইসিসির সদস্যদের প্রতি কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য যার যার রাষ্ট্রকে অনুরোধ করার আহ্বান জানাবেন। সাম্প্রতিক ফিক্সিং কেলেঙ্কারিগুলোর পর আবিষ্কার হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশে আদৌ এসব অপরাধের বিপক্ষে শক্ত আইন নেই। বাকি দেশগুলোরও প্রায় একই অবস্থা। ফলে এটা আইসিসির বাধ্যতামূলক একটা চাওয়াও হয়ে উঠতে পারে।