গফরগাঁওয়ে সংশ্লিষ্টদের অনিয়মের কারণে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার ইউসিজি প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। জানা গেছে, ২০১২/১৩ অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে ২য় পর্যায়ে ৪ কোটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৩৯১ টাকা বরাদ্দ হয়। এই টাকায় ৫,২৯৩ জনের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়। এজন্য ৪০ দিনে একজন শ্রমিকের পাওয়ার কথা ছিল ৭ হাজার টাকা। গত ১৮ মার্চ থেকে এই কাজ শুরু করার কথা থাকলেও ৫৩ দিন দেরিতে তা শুরু হয়। যার ফলে ৩১ মে’র মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ২৫ জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রতি ৫ দিনের বেতন একসাথে দেয়ার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা মানেনি। এসব কারণে ৫ সহস্রাধিক শ্রমিক এখনও মজুরি পায়নি। অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ না করেই সমুদয় টাকা হাতিয়ে নেয়ার টার্গেট করেছে সংশ্লিষ্টরা।
রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের ১ নং প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২০/২২ জনকে দিয়ে ১২২ জনের কাজ করানো হচ্ছে। সে কাজটি কাবিখার হলেও তা কর্মসৃজনের নামে দেখানো হচ্ছে। মশাখালীর ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, কোন কাজ না করেই বলদী থেকে আকিয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১২০ জন শ্রমিকের মজুরি আত্মসাতের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতি প্রতিরোধে ১৩ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউর রহমানকে আহবায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটির অধীনে আরো ৩টি উপকমিটি করা হয়। সে কমিটিগুলোর প্রতিবেদন অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ বলে সিদ্ধান্ত ছাড়াই গত ১৯ জুন ইউএনও অফিসে ফেরত দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে গফরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম খোকন জানান, তারা ৪ সপ্তাহের বিল পিআইও অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু সেই বিল পাস না হওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি দেয়া যাচ্ছে না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলমগীর হোসেন বলেন, শিগগিরই শ্রমিকদের মজুরি দেয়ার ব্যবস্থা করছি। নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল বারী বলেন, শ্রমিকদের বিল নিয়ে সমস্যা ছিল, এ সমস্যা সমাধান করে দ্রুত বিল পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
