বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির সাফল্যেও উদ্বিগ্ন নয় ভারত। সমপ্রতি চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি বিজয় লাভ করলেও তা নিয়ে ভারতের তেমন একটা মাথা ব্যথা নেই। গতকাল বুধবার ভারতের কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার গত আমলের সম্পর্কের গভীর ক্ষত কূটনীতিকরা ভুলে যায়নি। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। এতে দিল্লি আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে কিছুটা আশাবাদী হলেও খুব বেশি নয়। বিশেষজ্ঞরাও এক্ষেত্রে মত পোষণ করছেন যে, এই নির্বাচনে জেতার মাধ্যমে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারাতে পারবে কিনা নিশ্চিত নয়। গত নভেম্বরে খালেদা জিয়া দিল্লি সফরে এসে এক বিবৃতিতে ভারতবিরোধী বক্তব্য না দেয়ার অঙ্গীকার করেন। ভারতীয় এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, সিটি করাপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিকে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। তার মতে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের বিএনপি এবং এখনকার বিএনপির আচরণ ভিন্ন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত বিশ্বাস করে আসামের জঙ্গি গোষ্ঠী উলফার কাছে ২০০৪ সালে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে বিএনপির লোকজন জড়িত। ওই সময় উলফার সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া ঢাকায় লুকিয়ে ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলেন, ২০০১ সালে ভারত বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ভারত ঢাকার দলকে ভিত্তি করে সম্পর্ক স্থাপন করেনি এবং দলনিরপেক্ষভাবে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্য পক্ষ কি ধরনের সাড়া দেয় সেই বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। গত দুই বছর ধরে খালেদা সাড়া দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে দুইশ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়া, বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক মওকুফ এবং ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। নয়াদিল্লির একজন গবেষক শ্রুতি পাট্টানায়েকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিচ্ছি। আমরা দেখাচ্ছি যে, আমরা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম। আমার ধারণা তারা (বিএনপি) সেটা জানে এবং তাদেরও উচিত ভারতের সঙ্গে কাজ করা। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা সতর্ক যে, বাংলাদেশের রাজনীতি বিএনপিকে সেই প্রচেষ্টা থেকে দূরে রাখতে পারে। কারণ চলতি বছর ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন বেগম খালেদা জিয়া।
