ইউনূস চলে যাওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংক ভালো চলছে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৩, ২৩:০০
পার্লামেন্টে দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ইউনূস আসলেই একজন রাজনীতি-বিদ। তিনি সরকারকে চাপে ফেলতে প্রেস কনফারেন্স করিয়েছেন। অথচ ইউনুস চলে যাওয়ার পর গ্রামীণ ব্যাংক এখন অনেক ভাল চলছে। ব্যাংকটি ধ্বংস করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই এবং এর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলেও জানান অর্থ মন্ত্রী। বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে এক অনির্ধারিত বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রী আরও বলেন, ড. ইউনূস গত তিন বছর ধরে সারা পৃথিবীজুড়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, মিথ্যা কথা বলছেন। তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাই কিছু বলতে চাই না। তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি। গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস প্রসঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার অনির্ধারিত আলোচনার পুরোটা সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন বিএনপির সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এর জবাব দিতে গিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত বর্ণনাসহ দীর্ঘ বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রী। গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত সরকারি তদন্ত কমিশন কর্তৃক ব্যাংকটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেয়ার সুপারিশের তীব্র বিরোধিতা করে মওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও যে গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ ভাগ মালিকানা গরিব নারীদের, সেই ব্যাংকটিকে ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ব্যাংকে বর্তমানে সরকারের ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কিন্তু সমপ্রতি সরকারি কমিশন গ্রামীণ ব্যাংকের ৫১ শতাংশ মালিকানা সরকারের আওতায় নেয়ার সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশ অনুযায়ী সত্যি সত্যিই ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তন করা হলে গ্রামীণ ব্যাংক থাকবে না। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর হতেই ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে লেগেছেন। কর্মীদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছেন। অথচ গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামো পরিবর্তন করার কোনো ইচ্ছা সরকারের ছিল না। ১৯৯৮ সালের বন্যায় গ্রামীণ ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়লে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই ব্যাংককে ৪০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের ক্ষুদ্রঋণ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যতম কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। অপর কো-চেয়ারম্যান ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, তখন শেখ হাসিনার সরকারই জাতিসংঘে ক্ষুদ্রঋণ রেজুলেশন উত্থাপন করে। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ৭৫ ভাগ শেয়ার নারী গ্রাহকদের ও সরকারের শেয়ার ২৫ শতাংশ। এই আইন পরিবর্তনে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই। অর্থ মন্ত্রী আরও বলেন, গ্রমীণ ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণফোনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ড. ইউনূস যে দাবি করেছেন, তা মিথ্যা, মিথ্যা এবং সঠিক নয়। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গ্রামীণ ফোনসহ ৫৪টি কোম্পানি তৈরি করা হয়েছে। এসব কোম্পানির লভ্যাংশ যদি সঠিকভাবে গ্রমীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ শেয়ার হোল্ডারের মধ্যে বণ্টন করা হত, তাহলে তারা সবাই ধনী হয়ে যেত। তিনি বলেন, ড. ইউনূস সাহেব গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়ার পরে এখন ব্যাংকের অনেক উন্নতি হয়েছে। উনি সময় দিতে পারতেন না। বোর্ড সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হতো না। ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকা অবস্থায় দেশের সামগ্রিক মাইক্রো ক্রেডিট কার্যক্রমে ব্যাংকিং খাতের অবদান ছিল ১৬ হাজার কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অবদান ৩৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ক কমিশনকে আমি বলেছি, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন মতামত দেব না। ওই কমিশন একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। সেখানে ড. ইউনূসকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি সেই সেমিনারে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য জানানোর আগেই প্রেস কনফারেন্স করিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।