অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ডুমুরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্ল্যুইস গেট। তলিয়ে গেছে শতাধিক চিংড়ি ঘের। এছাড়া প্রবল জোয়ারে কচা নদীর তীরবর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার অনেক এলাকাসহ কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পয়েন্ট দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। এ নিয়ে ইত্তেফাক প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট।
পিরোজপুর অফিস জানায়, গত কয়েক দিনের প্রবল জোয়ারে কচা নদীর তীরবর্তী ভান্ডারিয়ার নদমূলা-চরখালী এলাকা যেমন পানি প্লাবিত হচ্ছে তেমনি বেড়ে গেছে নদী ভাঙ্গনও। ফলে বরিশাল-ভান্ডারিয়া-চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক ভাঙ্গন কবলিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম অতিরিক্ত জলমগ্ন হয়ে ফসলহানি ঘটার উপক্রম হয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে ব্যাপকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বিশেষতঃ নদী অববাহিকার চর এলাকা ও চরখালী-টগড়া ফেরিঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। মঠবাড়িয়ার মাঝেরচর, খেতাচিড়া, কচুবাড়িয়া, উলুবাড়িয়া, ভোলমারা প্রভৃতি এলাকার বাড়িঘরের মধ্যে পানি উঠেছে। এসব এলাকায় বেড়িবাঁধ বিহীন ও ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের কারণে ফসলি জমিও প্লাবিত হয়েছে। ভান্ডারিয়ার জুনিয়া, হরিণপালা, তেলিখালী, বোথলা, হেতালিয়া, চরখালী, নদমূলা, জিয়ানগরের টগড়া, সাউদখালীর চর, সেউতিবাড়িয়া, চরবলেশ্বর, কলারণ, খোলপটুয়া, সদরের চিথলিয়া, গাজীপুর প্রভৃতি গ্রামের বাড়িঘরেও পানি উঠেছে। সাউদখালীর চরে যে ১২০টি ভূমিহীন পরিবার বসতবাড়ি তৈরি করেছে তা সবগুলোই পানিতে নিমজ্জিত। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টগড়া ফেরি ঘাটের দোকান-পাটেও পানি উঠেছে। বিশেষতঃ টগড়া ফেরি ঘাটে রাস্তা ও গ্যাংওয়ে ডুবে গিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কাউখালীর পাঙ্গাশিয়া, জোলাগাতি, নিলতি, সুবিদপুর, বেকুটিয়া এলাকায়ও ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে।
ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে ২৭/২ নম্বর পোল্ডারের চার ভেন্টের স্ল্যুইস গেটটি জোয়ারের পানির তোড়ে সোমবার দুপুরে ভেসে গেছে। তিনদিন অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ বাঁধ নির্মাণের কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ডুমুরিয়া উপজেলার টিয়াবুনিয়াসহ ৯টি বিলের প্রায় শতাধিক চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ভদ্র নদীর মুখে শালতা নদীর মোহনায় টিয়াবুনিয়া নামকস্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত চার ভেন্টের স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন মেরামত না করায় প্রায় সময়ে গেটের পাশ দিয়ে জোয়ারের পানি চুঁইয়ে বাঁধের ভিতরে প্রবেশ করে থাকে। এদিকে সালতা নদীতে পূর্ণিমার গোণে জোয়ারের পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। হঠাত্ সোমবার দুপুরে বেড়িবাঁধে নির্মিত স্লুইস গেটটি জোয়ারের তোড়ে ভেসে যায়। ফলে বাঁধের ভিতরে টিয়াবুনিয়া, ভেলকামারী, কানাইডাঙ্গা, ঘোনাবড়ডাঙ্গা, সীতারামপুর, কুষাডাঙ্গা, চাতরা জোয়ারে বিলের প্রায় শতাধিক চিংড়ি ঘের তলিয়ে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়।
চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার তিন ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উপচে ও ভেঙ্গে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। গত কয়েকদিন ধরে সামুদ্রিক জোয়ারের গতি বেড়েছে। এ কারণে উপকূলীয় ওই তিন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের ১৫ পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে এখন রীতিমত জোয়ার-ভাটা চলছে। এই অবস্থায় এসব জনপদের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার সকালে এসব এলাকার বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারে পানিতে সয়লাভ হয়ে যায় বেশিরভাগ নিচু এলাকা। এতে কমপক্ষে ২০টি চিংড়ি প্রকল্প পানিতে তলিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এলাকাবাসি দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, বর্ষার শুরুতে পানি বৃদ্ধির কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙ্গনে গত ৩ দিনে ১০ পরিবারের ঘরবাড়ি ও কয়েক একর জমির পাট ও ভুট্টা ক্ষেত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে আরও ২০ পরিবার। চিলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও রয়েছে ভাঙ্গন হুমকির মুখে।
