দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য যে ব্যক্তি জীবন বাজি রেখে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল, সে ব্যক্তিটি অনাহারে-অর্ধাহারে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিত্সায় মারা যান। বর্তমানে ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও ছেলের বউ নিয়ে পলিথিনের ছাউনি দেয়া ঘরে কোন রকমে যাযাবরের মত জীবন-যাপন করছি। সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর আলমগীর চৌধুরী বাড়ি এলাকার মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম কথাগুলো বলছিলেন। এ সময় ফাতেমা অশ্রুসজল চোখে বলেন, ২ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে আবু তালেব সবার বড়। সে এবং ছোট ছেলে আবু ছালেহ ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে অর্থাভাবে পাঠ চুকিয়ে দেয়। একমাত্র মেয়ে তৈয়বা আকতার ৭ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। নিয়মিত স্কুলে বেতন দিতে না পারায় হয়ত তার লেখাপড়াও বন্ধ করে দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে পাওয়া অর্থে কোন রকমে দু’মুঠো খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। এর উপর মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। জানা যায়, ২০১০ সালে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক অনুদান চেয়ে তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর বড় ছেলে আবু তালেব। আবেদনটি সুপারিশসহ তত্কালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে হয়ে কেন্দ ীয় কমান্ড কাউন্সিলে যায়। কিন্তু এ পর্যন্ত মরহুম মুক্তিযোদ্ধার নামে কোন বাড়ি বরাদ্দ হয়নি।
