মন ভালো নেই শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বিপ্লবের। ফুটবল ক্যারিয়ারে অনেক চাড়াই উত্রাইয়ের মধ্যেও এতোটা মন খারাপ ছিল না কখনো। কিন্তু সুপার কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা, শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও তা স্পর্শ করতে না পারাটা যেন কল্পনাও করেননি তিনি। তাছাড়া তিনি মনে করেন নিজেরাই সুপার কাপ তুলে দিয়েছেন বিপক্ষের হাতে। এ জন্য দলের সিনিয়রদেরও দুষলেন তিনি।
শেখ রাসেল অধিনায়ক এ ব্যাপারে বলেন,‘আমরা মোহামেডানের হাতে শিরোপাটা তুলে দিয়েছি। না হলে সেদিন আমরা ফুটবল ইতিহাস গড়ে ঘরে ফিরতে পারতাম। এমন সুযোগ আর কোনো দিন পাবো না।’ বিপ্লব এ ব্যর্থতার জন্য দায়ি করেছেন দলের সিনিয়র ফুটবলারদের ও রক্ষণভাগকে। শেখ রাসেল ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর মোহামেডান গোলটা শোধ করে খেলায় ফিরে। বিপ্লব বলেন, ‘আমি বলটা আটকে দিয়েছিলাম। সেটা বেরিয়ে গেলে ডিফেন্ডার উত্তম ক্লিয়ার করতে পারতেন। বলটা গড়িয়ে গোল লাইন পার হয়ে গেল।’ টাইব্রেকিংয়ে শেখ রাসেল জুনিয়র এবং অনভিজ্ঞ ফুটবলারদের দিয়ে শট করিয়েছিল। নাহিদ এবং সবুজ দু’জনেই গোল করতে ব্যর্থ হন। এখানেই শেখ রাসেলের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। তার মতে ফাইনালের আগে নির্ধারণ করা ছিল ম্যাচ টাইব্রেকিংয়ে গড়ালে সিনিয়র ফুটবলাররা স্পটকিক মারবেন।
বিপ্লব বলেন, ‘সিনিয়ররা কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। কথা ছিল শুরুতেই এমিলি, মিঠুন, ইমন বাবু শট করবেন। কিন্তু তাদের কেউ প্রথম শটটি করতে রাজি ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত এমিলি প্রথম শটে গোল করলেও মিঠুন আসেননি। নাহিদ ও সবুজ গোল করতে এসে ব্যর্থ হলেন। মিঠুন আসলেন চার নম্বরে। ততক্ষণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেছে। হিসাব করে দেখুন আমরাই মোহামেডানের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছি।’ এক মৌসুমে তিন শিরোপা জয়ের পর চতুর্থটিও জিতে রেকর্ড গড়ে মোহামেডানের ইতিহাসকে পেছনে ফেলতে চেয়েছিল বিপ্লবের শেখ রাসেল। সে স্বপ্নটা পূরণ হলো না। স্বপ্ন পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে। অবশ্য এ হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন প্রত্যয়ে শুরু করতে চায় শেখ রাসেল। আগামী মৌসুমে ভালো একটা দল গড়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পুরোন দলটাকে ধরে রেখে মোহামেডানের ডিফেন্ডার রজনী, রবিন, শেখ জামালের হাসান আল মামুন, আরামবাগের সবুজকে দলে নিয়েছে বলে জানা গেছে। দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে যারা বেরিয়েছিলেন তাদের মধ্যে মিঠুন, জাহিদ এবং নাহিদকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করে ক্লাবের একটি সূত্র।
