মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অদূর ভবিষ্যতেই এক নাম্বারে যাবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোন গরীব দেশ নয়। উর্বর ভূমি, জলাধার, প্রকৃতি, খনিজ সম্পদ তথা গ্যাস, কয়লা এবং সবচেয়ে বড় কথা বিশ্বের সবচাইতে সেরা জনগোষ্ঠী রয়েছে এদেশে, যারা যে কোন সময় একতাবদ্ধ হবার ক্ষমতা রাখে। সেই দেশ একটি ধনী রাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ টিভির স্বাস্থ্য ও পুষ্টি-বিষয়ক নতুন অনুষ্ঠান ‘‘জীবনের গল্প’’-এর সমপ্রচার পূর্ব সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যাপারে এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন এ রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত মজীনা তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার উল্লেখযোগ্য হ্রাসসহ স্বাধীনতার পর থেকে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন যে, এই অর্জন গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট মূল তথ্যগুলো মানুষের মাঝে পৌঁছে দেয়া ছাড়া সম্ভব হতো না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ইউএসএআইডি ও ভয়েস অব আমেরিকার সহযোগিতায় দেশ টিভির অনুষ্ঠান ‘‘জীবনের গল্প’’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি আরো উপস্থিত ছিলেন দেশ টিভির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান নূর, ইউএসএআইডি’র মিশন ডিরেক্টর রিচার্ড গ্রিন, ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার প্রমুখ।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, জাতি যেন অপুষ্টি থেকে রেহাই পায় সেই উদ্দেশেই স্বাস্থ্য-বিষয়ক এ অনুষ্ঠানকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এখানে শুধু স্বাস্থ্য বা পুষ্টি নয়, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা এবং মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোও এই অনুষ্ঠানে চলে আসবে।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্বের মধ্যে সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা সবসময় এগিয়ে আসবো, যেন জনশক্তিকে সহজেই সম্পদে রূপান্তরিত করা যায়।
ইউএসএআইডি’র মিশন ডিরেক্টর রিচার্ড গ্রিন বলেন, একটি দেশের জনগণের জন্য পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মায়েরা জানেন না তাদের সন্তানকে কীভাবে লালন-পালন করতে হবে। ব্রেস্ট-ফিডিং করাতে হবে, তাই স্বাস্থ্য-বিষয়ক অনুষ্ঠান থেকে তারা বিভিন্ন শিক্ষা নিতে পারবে, সরকারেরও জনস্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে অনেক কিছু করার আছে।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, জনসংখ্যা ও শিক্ষা বিষয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে এ অনুষ্ঠানের জন্য একাধিক প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব প্রচার হবে আগামী ২৯ জুন, শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বটির বিষয় ‘বাল্যবিবাহ’। প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার একই সময়ে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে, প্রাথমিকভাবে চলবে টানা এক বছর। মশিউর রহমান খান নিবিড়ের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ভয়েস অফ আমেরিকার সেহ্জীন চৌধুরী।
কর্মশালায় ড্যান মজীনা
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ‘আপনারা এখন আগুন লাগলে তার উত্পত্তিস্থল সহজেই বলতে পারবেন। কোন স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তাত্ক্ষণিক গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে বুঝতে পারবেন আগুন কি এমনিতেই লেগেছে? নাকি কেউ লাগিয়ে দিয়েছে’? বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ স্টাফ কলেজে পাঁচদিন ব্যাপী ‘পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ চিহ্নিতকরণ‘ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা।
পরিকল্পিতভাবে কেউ আগুন লাগালে তা দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য মার্কিন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল ইনভেস্টিগেটিভ ট্রেনিং অ্যাসিস্ট্যাল প্রোগ্রামের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে ড্যান মজীনা বলেন, আপনারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন করে দক্ষতা অর্জন করেছেন। পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপক বিভাগ একযোগে কাজ করেছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগুনের উত্পত্তিস্থল অনুসন্ধানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আপনাদেরকে।
পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ চিহ্নিতকরণ কর্মশালার অনুষ্ঠান শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা অংশ নেয়া ৩৪ জন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন। পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।
