ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি ভাবতে শুরু করেন অন্যসব ছেলেমেয়েদের থেকে অনেকটা আগেই। আর সব দিক বিবেচনা করে তিনি পরিবেশ বিদ্যার উপর ডিগ্রি নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে পড়াশোনাকালীন তার পরিচয় হয় ফটোগ্রাফির সাথে। তারপর ঢুকে পড়েন এই ফটোগ্রাফির জগতে। এটাকেই বেছে নেন ক্যারিয়ার হিসেবে। ফটোগ্রাফির জগতে একটি জ্বলজ্বলে নাম লিন্ডসে ম্যাথিউ। তার কথা লিখেছেন
প্রাঞ্জল সেলিম
ফটোগ্রাফির সাথে প্রথম পরিচয়ের পর তিনি অনুধাবন করেন, এই পেশাটিই তাকে বেশি টানে। ব্যস শুরু হয়ে গেল তার ক্যামেরা হাতে পথচলা। অন্যসব চিন্তা বাদ দিয়ে তিনি ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকেই তার ক্যারিয়ারের ব্রেক হিসেবে বেছে নেন। ছোটবেলা থেকেই অফিসে বসে নিয়মমাফিক রুটিনে কাজ করার ব্যাপারটা অপছন্দ ছিল। তাই তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কখনও কোনো অফিসে কেরানির মতো কাজ করবেন না। চাকরি তুলনায় ব্যবসা করাটা তার কাছে অনেক সহজ মনে হতো। তাই অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি একটি জনপ্রিয় ওয়েডিং ফার্মের মালিক। গল্পটি মেধাবী কিশোরী লিন্ডসে ম্যাথিউয়ের, যে তার নিজস্ব ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। আজকাল অনেকের হাতেই দেখা যায় এসএলআর ক্যামেরা। অনেকেই এই ব্যাপারটার সাথে পরিচিত হয়ে গেছেন। এখন কেউ আর অবাক হয়ে চেয়ে দেখে না যে অদ্ভুতদর্শন ক্যামেরা টাইপের জিনিসটা নিয়ে মানুষগুলো কী করছে। ১৪-১৫ বছরের কিশোর-কিশোরীদের হাতে ক্যামেরা দেখলে, তাদের ছবি তুলতে দেখলে, কেউ অবাক হয় না। কিন্তু একটু হলেও সবাই অবাক হবে শুনলে যে, ১৪-১৫ বছর বয়সী এই কিশোর-কিশোরীদের কেউ কেউ ফটোগ্রাফি নিয়ে প্রফেশনালদের মতো কাজ করছে। ঠিক এমনটাই ঘটেছে লিন্ডসের বেলায়। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই ফটোগ্রাফি শুরু করেন। তাও শখের বশে না, পেশা হিসেবে। সেই ছোট্ট বয়স থেকেই তিনি ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ অর্থাত্, বিয়েতে ছবি তোলার কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনি কাজটা করতেন বিনামূল্যেই। এরপর ধীরে ধীরে তিনি এই কাজকে টাকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। মায়ের হাত ধরেই লিন্ডসে প্রথম ফটোগ্রাফি বিষয়টার সাথে পরিচিত হন। তার মা ছিলেন পেশাদার ওয়েডিং ফটোগ্রাফার। লিন্ডসে প্রথমে মাকে সাহায্য করার জন্যই হাতে ক্যামেরা তুলে নিয়েছিলেন। এভাবে চলতে চলতে প্রায় ২ বছরের মধ্যে তিনি এই পেশার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। অবশ্য, বিয়ের মঞ্চ সাজানো থেকে শুরু করে ছবি তোলার কাজ তিনি একাই করতেন। আসলে তিনি এই পেশাটাকে দারুণ উপভোগ করতেন। আর সেই আনন্দ থেকেই মূলত তার এই পথে আসা এবং পথচলা। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ফটোগ্রাফি শুরু করি আমার মায়ের কারণে। তিনি পেশাগত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার ছিলেন। সেই থেকেই আমারও এর মধ্যে জড়িয়ে যাওয়া।’ ২০০৮ সালের ভেতর তার সংগ্রহে যে পরিমাণ ছবি জমা হয়, তাতে খুব সহজেই বলা যায়, তিনি ফটোগ্রাফিতে প্রাইমারি অংশটা পার করে ফেলেছেন। এর ঠিক এক বছরের মধ্যে, ২০০৯ সালে, তার কাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টি। অর্থাত্, প্রায় ২৫টির মতো ওয়েডিংয়ে তিনি পেশাগতভাবে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও স্টুডিওর সাথে মিলে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪০টির মতো অনুষ্ঠানের বর ও কনের ছবি তোলার কাজ করেছেন। এরইমধ্যে ফটোগ্রাফি ব্যবসাতে তিনি ভালোই সাফল্য পেয়েছেন। ব্যবসার পরিধি ও পরিচিতি বাড়াতে এক সময় খুলে ফেলেন একটি ওয়েব সাইট। নাম দেন, মাই ম্যারেজ মার্কেট। তখন অনলাইন প্লাটফর্মে এমন সাইটের সংখ্যা খুব একটা বেশি ছিল না। তাই তার সাইটটি বেশ দ্রুতই আলোড়ন তোলে। ততদিনে তার বয়স প্রায় বিশের কোঠায় পৌঁছে গেছে। তিনি তখন জুনিয়র স্কুলের বিজনেস সেকশনে পড়াশোনা করেন। এরপর ইউনির্ভাসিটি অব সাউদার্ন মাইন থেকে ডিগ্রি নেন তিনি।
লিন্ডসের পড়াশোনা নিয়ে কিছু তথ্য
প্রথমে তিনি বিজনেস সেকশন থেকে পাস করেন। এরপর ইংল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি থেকে ডিগ্রি নেন।
