ক্যারিয়ার নিয়ে সব শিক্ষার্থীরই কতকগুলো সাধারণ চিন্তা থাকে। যেমন কোন ডিগ্রি অর্জন করলে দ্রুত উচ্চ বেতনে চাকরি হবে, দেশে পড়াশোনা করে পুরো বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা যাবে কি না ইত্যাদি। সে বিবেচনায় বলা যায় অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং হলো এমন একটি বিষয় যা শিক্ষার্থীকে উচ্চ আয়ের চাকরিসহ বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রের নিশ্চয়তা দেয়।
এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং
এ ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। এয়ারক্রাফ্ট মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার (এএমই) হচ্ছে এমন একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি যিনি উড়োজাহাজের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে অ্যারোপ্লেন উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটদের সব ধরনের তথ্যপত্র দিয়ে থাকেন।
এএমই’দের ক্ষেত্র
এদের কাজের ক্ষেত্রটা ব্যাপক। বিশেষ করে এয়ারক্রাফটের নিত্য নতুন ডিজাইন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ, এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, মেরামত প্রভৃতি করা। অন্যদিকে এয়ারক্রাফটের ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রামে টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন এএমই’রা।
আগ্রহীদের যোগ্যতা
এসএসসি-এইচএসসি অথবা ‘এ’ লেভেল-‘ও’ লেভেল পাস করেই শিক্ষার্থীরা অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারেন। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী পায় এডেক্সেল প্রদত্ত আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট। এ ক্ষেত্রে ১৮ মাস পর পায় আন্তর্জাতিক ধারার সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি। এর পর আঠারো মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছর পায় টপআপ বিবিএ বা বিএসসি। এর পর পুরো বিশ্বে তার চাকরির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যায়। ১৮ মাস লেভেল-৩ বা ‘এ’ লেভেল করতে খরচ হয় তিন লাখ টাকা। ১৮ মাস লেভেল-৫ করতে খরচ পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং ১ বছর ইংল্যান্ডের কিংসটন ইউনিভার্সিটিতে টপআপ বিএসসি করতে ফিস সেমিস্টার ওয়াইজ দিতে হবে। এ বিষয়ে আরও জানতে কথা বলতে পারেন এই ঠিকানায় :সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ি-১৪, উত্তরা, ঢাকা। ফোন :০১৯৩৭১৮২৪৭০।
ক্যারিয়ার ভাবনা
এয়ারলাইন্স সংস্থাসমূহে একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়াররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির আমন্ত্রণের মধ্য হতে নিজের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠান নিজেই নির্বাচিত করে থাকেন। এয়ারলাইন্স শিল্পে পদের তুলনায় দক্ষ অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষাজীবনের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরতদের চাকরিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে থাকে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট পাওয়ার আগেই চাকরি হয়ে যায়।
কোথায় শিখবেন
এদেশে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা পরিচালনাকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান ক্যাটেক। কলেজটি এএমই লাইসেন্স পেতে ন্যাশনাল ডিপ্লোমা এবং হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে। এদের প্রথম-দ্বিতীয় ব্যাচের কয়েক শ শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে চাকরি বা ইন্টার্নি করতে চলে গেছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে দু-এক মাস পরই। এ ছাড়া কলেজটি বিবিএ-এমবিএ ইন অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস অ্যাকাউন্টিং, ট্রাভেল ট্যুরিজ্যম অ্যান্ড টিকেটিং, পাইলটিং, এয়ারহোস্টেস কেবিন ক্রু প্রভৃতি বিষয়ে কোর্স পরিচালনা করছে।
