অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া দুর্বল শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত নার্সিংয়ের মাধ্যমে সামনে নিয়ে আসার প্রাণান্তকর প্রয়াস যে প্রতিষ্ঠানটির তার নাম আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। লেখাপড়ায় মনোযোগী-অমনোযোগী এবং অগ্রসর ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের যথাযথ বিন্যস্তকরণ ও তদানুযায়ী উপযুক্ত পাঠ উপস্থাপন করার বিশেষ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয় এখানে। ভালো স্কুল-কলেজগুলোর অধিকাংশই মেধাবীদের ভর্তি নিয়ে সেরা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জনের আত্মতৃপ্তিতে ভুগলেও সেখানে প্রকৃত মেধাবীদের অনেকেই পড়াশোনা করতে পারে না। কিন্তু এ স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছে উত্তরাস্থ আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮২ সাল থেকে উত্তরা ও এর পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষের শিক্ষা সেবায় নিয়োজিত। এখানে বেছে বেছে কেবল মেধাবীদেরই নয়, মেধায় মননে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি নিয়ে অভূতপূর্ব ফলাফল অর্জনের কাজটি করা হয় অত্যন্ত সুচারুভাবে। এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ ও সদস্য সচিব মো. মনজুরুল হক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যেমন ভালো ফলাফলের অধিকারী, তেমনি তারা মেধাবীও। কারণ, তারা সাজেশন ও নোটবিহীন আগাগোড়া কেবল মূল পাঠ্যই অনুশীলন করে। যার প্রতিফলন রয়েছে বোর্ড ফলাফলেই যেমন, এসএসসি ২০০৮-এ মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮৩ জন। তন্মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ২০ জন, ‘এ’ ৪০ জন, ‘এ’ মাইনাস ১১ জন, ‘বি’ ৯ জন, এবং ‘সি’ ৩ জন। পাসের হার ১০০%। অনুরূপ প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায়ও গর্বিত ফলাফল রয়েছে তাদের। এবং সদ্যসমাপ্ত সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায়ও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসসহ ৭০ জন প্রথম বিভাগ পেয়েছে। এদের কলেজ সেকশনটি নতুন হলেও এইচএসসি প্রথম ব্যাচের ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৩ জন, ‘এ’ ১০ জন, ‘এ’ মাইনাস ৭ জন, ‘বি’ ৩ জন এবং ‘সি’ পেয়েছে ৭ জন। এবং পাসের হার ছিল ১০০%। এবং ২০১২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফলাফল করেছে আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ভর্তি তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে ফোন :৮৯১১১৮৪ এবং সেক্টর-০৫, রোড-৬/এ, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা। এখন চলছে কলেজ সেকশনের ভর্তি কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছরই ক্রমান্বয়ে এভাবে ভালো করছে। তবে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে অত্যন্ত সীমিত ব্যয়ে পড়ুয়া অনেক নিম্ন মেধা/মানের ছেলেমেয়েদেরকে এরা স্পেশাল কেয়ার তথা যত্ন দিয়ে আশাতীত ভালো ফলাফল এনে দিচ্ছে। অভিভাবক ভেবেছে সন্তান তার মোটামুটি একটি রেজাল্ট করবে। অথচ দেখা যায় সেই ছেলেমেয়ে জিপিএ-৪.০০, ৫.০০ পেয়েছে। শুধু লেখাপড়া বা পাস-ফেলের বিচারেই নয়, এলাকাভিত্তিক মেধাবী কন্টেস্টে যেমন—বিজ্ঞান মেলায় এবং খেলাধুলায়ও এরা শীর্ষ স্থানসহ বিভিন্ন স্তরে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। এদের উল্লেখযোগ্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমগুলো হচ্ছে; গ্রুপওয়ার্ক, অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্টেজ পারফর্মেন্স, বক্তৃতা প্রদান ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠানটি বাহ্যিক চাকচিক্যের ওয়েল ফার্নিশড কোনো ভাড়া বাড়িতে নয়, বরং চমত্কার নির্মল পরিবেশে সবুজ মাঠবেষ্টিত নিজস্ব ভবনে আবাসিক সুযোগ-সুবিধাসহ নিবেদিত প্রাণ কিছু দক্ষ শিক্ষক ও অধ্যক্ষের কঠোর তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করছে। এখানে বালক-বালিকা পৃথক শাখায় শিশু শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাদান করা হয়। আছে আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যবস্থা। জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্তদের ফ্রি আবাসন সুবিধা দেওয়া হয়। এককথায় কম খরচে উন্নত শিক্ষা সেবার ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। আছে সমৃদ্ধ পাঠাগার, আধুনিক বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাব। বিশেষ করে এখানে পিছিয়ে পড়াদের জন্য এবং পরীক্ষা সন্নিকটে থাকাকালীন রয়েছে বিশেষ জেনারেল কোচিং ক্লাসের ব্যবস্থা।
