এখন নাবিক পেশা মানেই সারা জীবন সমুদ্রেই কাটিয়ে দেওয়া নয়, তারা নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাসহ অবদান রাখছেন এসব জাহাজ তৈরি ও মেরামতেও। বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ পণ্যই পরিবাহিত হয় শিপিং ইন্ডাস্ট্রি দ্বারা। তাই এটিকে বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি ধরা হয়। শিপিং ব্যতীত বিপুল পরিমাণ খাদ্য, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিবহন করা একেবারেই অসম্ভব। অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থা অপেক্ষা শিপিংই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব। এই শিল্পে বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ১৫০০ থেকে ১৬০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশের মাত্র ৪৩২৩ জন মেরিন অফিসার বিশ্ব জাহাজ শিল্পে কর্মরত। আর এই গুটিকয়েক মেরিন অফিসারই দেশের ১৪ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দাতা। মোট হিসেবে এই হার শতকরা ১ ভাগও নয়। বাংলাদেশ বিশ্ব জাহাজ শিল্পের ১ ভাগও যদি আয় করে তাও দাঁড়াবে ১৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। এটা নিশ্চিত করতে পারলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আরও ০৪ গুণ বৃদ্ধি পাবে। এই শিল্প বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার ফলে সমুদ্রে কর্মরতদের কাছে এটি অত্যন্ত গর্বের যে তারা একটি অত্যাবশ্যকীয় ও উচ্চমার্গীয় পেশায় নিয়োজিত। বর্তমানে আমাদের দেশেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীই এটাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে অত্যন্ত গর্বের সাথে, স্বাচ্ছন্দ্যে। পারিশ্রমিকের কথা বললে, সারাবিশ্বে বিভিন্ন পেশা অপেক্ষা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত শিপ কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। উপরন্তু নাবিক পেশায় কর্মরত অবস্থায় খুব কমই ব্যয় হয়। কারণ তাদের বাসস্থান, ভ্রমণ এবং খাদ্যের জোগান নিয়োগদাতাই দিয়ে থাকেন। ফলে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতার পাশাপাশি থাকছে বিশ্বের সর্বত্রই ভ্রমণের অপরিসীম সুযোগ তথা সুব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোতে প্রচুর দক্ষ ও যোগ্য শিপ কর্মকর্তার প্রয়োজন। সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন বিভিন্ন কোম্পানি ও পদ-পদবি, সেই সাথে অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাগণ যাচ্ছেন অবসরে। এতে বৃহত্ পরিসরে নাবিকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সৈকত ব্যবস্থাপনা পেশাতেও নৌ অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেগুলোতেও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চ্যালেঞ্জিং এই গর্বিত পেশায় সফল ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে করতে হবে ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৪ বছর মেয়াদি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কোর্স এমন একটি প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন করা উচিত, যাদের আছে সরকারি অনুমোদন, যোগ্য শিক্ষক, উন্নত পরিবেশ, ক্যাম্পাস তথা অবকাঠামো, বিশেষ করে যাদের আছে শিপ ইয়ার্ডে ব্যবহারিক শিক্ষা বা ইন্টার্নশিপের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও যোগাযোগ। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে কারিগরি বোর্ডের অধীনে ‘সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধীনে পরিচালিত রয়েল মেরিন একাডেমী এমনই একটি প্রতিষ্ঠান যাদের আছে উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো। মেরিন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৩৬০০৫৮১৬- ৮ নাম্বারে এবং এই ঠিকানায় :বাড়ি-০১, রোড-০২, ব্লক-বি, সেকশন-০৬, মিরপুর, ঢাকা এই ঠিকানায়। উল্লেখ্য যে,সাইক মেরিন ছাড়াও কারিগরী বোর্ড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমদিত সিভিল ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল টেকনোলজি ও এ্যারোনটিক্যাল সহ প্রচুর বিএসসি ও ডিপ্লোমা লেভেলের ক্যারিয়ার ভিত্তিক বিভিন্ন কোর্স দির্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছে।
