হারিয়ে যাচ্ছে কাঠ শালিক

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২১:১৩
গ্রাম বাংলার এক সময়ের অতি পরিচিত পাখি কাঠ শালিক যথেচ্ছ গাছপালা কর্তণের কারণে বর্তমানে হারিয়ে যাচ্ছে। আগে বনাঞ্চলে, গ্রাম বাংলার বাড়িঘরের আশপাশে পুরনো গাছে এদের প্রচুর দেখা যেত। কিন্তু বনাঞ্চল ধ্বংস ও পুরনো বৃক্ষ নিধনের ফলে এ পাখিটি হয়তো নিজের বংশ রক্ষার স্বার্থেই উঁচু পরিত্যক্ত ভবনের ফোকরে অথবা বিদ্যুতের পোলে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। সমপ্রতি শেরপুর টাউনের ব্যস্ততম মুন্সীবাজার খড়মপুর মোড়ের একটি বিদ্যুতের পোলে ১ জোড়া কাঠ শালিক বাসা বেঁধেছে। সে বাসায় তাদের ছানাদেরকেও নিয়মিত খাওয়াচ্ছে তারা। কাঠ শালিক দম্পতি অন্য পাখির আক্রমণ থেকে তাদের ছানাদের রক্ষায় সদা সতর্ক। বাংলাদেশে শালিক প্রজাতির পাখির মধ্যে রয়েছে ভাত শালিক, ঝুটি শালিক, গো শালিক, বামন বা শঙ্খ শালিক, চিত্রা শালিক, গোলাপী শালিক, কাঠ শালিক এবং ময়না। লালচে ধূসর, খয়েরি ও পিঙ্গল রঙের মিশেল কাঠ শালিক পাখিটি আমাদের অতি পরিচিত ভাত শালিকের চেয়ে সামান্য ছোট আকৃতির। এরা বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট শালিক। এরা সাধারণত ১৯ থেকে ২১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। শালিক প্রজাতির এ পাখিটির ইংরেজী নাম Grey-headed Myna, Chestnut-tailed Starling এবং বৈজ্ঞানিক নাম Sturnus malabaricus. কাঠ শালিকের বুক, পেট আর লেজের পালকের রঙ উজ্জ্বল বাদামি, পা লালচে এবং মায়াবি বড় বড় চোখ। পুরো গলা জুড়ে অতিরিক্ত পালক রয়েছে। এরা প্রজনন এবং ছানা লালন পালনের জন্য গাছের কোটরে বাসা বানায়। বসন্তের শুরু থেকে বর্ষা পর্যন্ত এদের প্রজনন ও ছানা লালন পালনের মৌসুম। এ সময় মা পাখি ৩-৪ টি ছোট লম্বাটে হালকা নীল রঙের ডিম পাড়ে। ছানা বড় হয়ে উড়তে শিখলে এরা বাসা ছেড়ে চলে যায়। ফিরে আসে পরের প্রজনন মৌসুমে। ছোট ছোট পোকা মাকড়, ফল রয়েছে এদের খাদ্য তালিকায়। পরিবেশ বান্ধব সুন্দর এ পাখিটি সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে আরো অনেক পাখির মত এ পাখিটিও বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।