‘চোখ থাকিতেও অন্ধ!’

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২১:১৯
‘হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতেও অন্ধ’ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বিশলা হায়াতুল উলুম আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাই মিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটেছে প্রায় একই ঘটনা। তাকে অন্ধ দেখিয়ে এমপিও থেকে তার নাম বাদ দেয়ায় ওই শিক্ষক পরিবারে সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে এসেছে। জানা গেছে, মধ্য যুগের সাধক কবি হায়াত মামুদের স্মৃতিবিজড়িত ঝাড়বিশলা গ্রামে স্থাপিত এ মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে আব্দুল হাই মিয়া ১৯৮২ সালের ১ ডিসেম্বর যোগদান করেন। এরপর তিনি ১৯৮৫ সালে এমপিওভুক্ত হন। যার ইনডেক্স নম্বর ০৯২২৫৭। প্রায় ৩১ বছর চাকরি করেন তিনি। জানা গেছে ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবত্ তার মাদরাসার অধ্যক্ষের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করে আসছেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালেক মিয়া ভেণ্ডাবাড়ী জামে মসজিদে ইমাম থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ উঠায় ইমামতি থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাই অধ্যক্ষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ওই সময় অধ্যক্ষ আব্দুস সালেক প্রকাশ্যে তাকে অন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে কৌশলে মাদরাসার গভর্নিং বডির সভায় শিক্ষক আব্দুল হাইকে অন্ধ দেখিয়ে এমপিও তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিতে রেজ্যুলেশন করে শিক্ষা বিভাগে জমা দেয়া হয়। এরপর ২০১২ সালের ১ নভেম্বর এমপিও থেকে নাম মুছে যায় সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক আবারো এমপিওতে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অধ্যক্ষকে ২২ হাজার টাকা প্রদান করেন বলে জানান। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। ওই মাদরাসার সে সময়কার সভাপতি শামছুল হক জানান, যদি প্রয়োজন হয় আমরা এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষককে সহযোগিতা করবো। ওই শিক্ষক অন্ধ নন, এখনও ক্লাস নিচ্ছেন তিনি। শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে অন্ধ দেখিয়ে এমপিও থেকে নাম বাদ দেয়া হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে মামলা করেছি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আব্দুুস সালেক মিয়ার সাথে মোবাইলে এবং সরাসরি যোগোযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।