টেকনাফ ও উখিয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিতে

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৩, ২৩:১৮
কয়েকদিনের টানা বর্ষণে টেকনাফে পাহাড় ধস নিয়ে বাড়ছে আতংক। কয়েক হাজার পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে গত মাসে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হলেও পুনর্বাসন ব্যবস্থা না থাকায় তারা ঝুঁকি নিয়ে থেকে গেছে। সংশ্লি¬¬ষ্ট সূত্র জানায়, টেকনাফ বন বিভাগের হোয়াইক্যং, টেকনাফ ও শীলখালী রেঞ্জের আওতায় টেকনাফ পৌরসভা, সদর, হ্নীলা ও বাহারছড়া ইউনিয়নে ১২ হাজার ৬২.১৬ হেক্টর পাহাড় রয়েছে। পাহাড়ে বসতির সঠিক হিসেব সংশ্লিষ্ট বন বিভাগে নেই। তবে গত বছর পাহাড়সমূহে হাজারো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা উপজেলা প্রশাসনে প্রেরণ করা হয় এবং চলতি বছর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যেসব পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস সেগুলো হচ্ছে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্ল¬¬ানপাড়া, ফকিরামুরা, কাদিরঘোনা, নাইট্যাংপাড়া, শিয়াল¬্যাঘোনা, শাইল¬াতলী, বরইতলী উঠনি, সদর ইউনিয়নের বরইতলী, কেরুনতলী, নতুন পল্লানপাড়া, মাঠপাড়া, জাহালিয়াপাড়া, সন্দরকিল্ল¬া, রাজারছড়া, হাবিরছড়া, মিটাপানিরছড়া, হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া, জাদিমুরা, রঙ্গিখালী, মুরাপাড়া, পশ্চিম সিকদারপাড়া, নইন্যার জোম, ঘোনাপাড়া, পশ্চিম পানখালী, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া, কম্বনিয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া ও পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়া, আমতলী ইত্যাদি। টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে রিজার্ভ জমিতে নতুন বসতি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করে লোকবলের অভাবের কথা জানান। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদউদ্দীন জানান, টানা বর্ষণের আগে থেকে পাহাড় ধসের আশংকায় পাহাড়ের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন সরকারি বনভূমির পাহাড়ে ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করে মানবেতর দিন যাপন করছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। এখানে গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশংকা করছেন পরিবেশবাদী সচেতন মহল। কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখানে সুউচ্চ পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে মাটির ঘর, দালানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সেখানে বসবাসরত কয়েকজন জানান, তাদের নিজস্ব কোন জমিজমা না থাকায় বনভূমির পাহাড়ে বসবাস করতে হচ্ছে। সরকার পুনর্বাসন করলে যাবেন কি না জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, আবাসস্থল নিশ্চিত করা হলে তারা অবশ্যই চলে যাবেন। গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণের প্রেক্ষাপটে উপজেলা প্রশাসন মাইকে প্রচারণা চালিয়ে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও কোন কাজে আসেনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই প্রতিটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও পুলিশের সহযোগিতায় পাহাড়ের ওপর বসবাসরত পরিবারগুলোকে গতকাল শনিবারের মধ্যেই সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় আজ প্রশাসন ও পুলিশ যৌথ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।