এই প্রজন্ম ও নাগরিক দায়বোধ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ১৯:৪২
বাংলায় একটি কথা আছে-আজকের প্রজন্ম আগামী দিনের ভবিষ্যত্। এ তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ আজ দিশাহীন। রাজধানী ও মেট্রোশহরের অগ্রসর প্রজন্ম এবং অন্যান্য অঞ্চলের প্রজন্মের মাঝে চিন্তা-চেতনায় বিস্তর পার্থক্য আছে। এই প্রজন্ম বলতে ধরা হয় সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের। এ বয়সটা শুধু শেখার, ভাবার এবং কিছু করার নয় বরং সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার। কিন্তু অনেক সময়ই তারা আপন অস্তিত্ব থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলছে। নিজেদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনার বিকাশ করা থেকে আধুনিকতার নামে শিখছে কী পোশাক তাকে পরতে হবে, কোন শব্দে তাকে কথা বলতে হবে। এমনকি কীভাবে ভালোবাসতে হবে তাও। শুধু তাই নয় মুখে যা বলছে কাজের জায়গায় তার প্রতিনিধিত্ব করছে না পুরোপুরি। সাম্প্রতিক এফএম রেডিও সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রজন্মের ভেতরে গড়ে উঠেছে আরেক ভিন্ন স্বত্বা। পরিচিত হয়ে উঠছে নতুন কিছু বাংলা শব্দের সঙ্গে যা না বাংলা, না ইংরেজি! বাংলা-ইংরেজি মিশেলে অন্য রকম ভাষা; যা একটি অংশ ছাড়া বৃহত্তর জনগণ গ্রহণ করতে বিব্রতবোধ করছে। আবার নিজেরাই আপন ভাষার মমতার কথা ভুলতে শিখেছে। এমনকি অগ্রসর প্রজন্ম হিসেবে এগিয়ে চলার পথে ভুলে যাচ্ছে ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলা ভাষা রপ্ত করার কথা। অন্যদিকে এই সমাজে এই প্রজন্মের অনেকেই বিভিন্নভাবে মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। তারা সাধারণত এই সময়েই স্বাধীনতা পেয়ে থাকে এবং সব নিষেধকে অতিক্রম করতে চায়। মজার বিষয় হলো আমরা সাধারণত পশ্চিমা সংস্কৃতি গ্রহণ করার চেষ্টা করে থাকি। কিন্তু ওদের মতো হতে গিয়ে আমরা ভুলে যাই আমাদের আপন আপন বৈশিষ্টের কথা। আমরা ভুলে যাই ওরা কিন্তু প্রতিনিয়ত নিজেদের অস্তিত্ব ঠিক রেখে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। বর্তমান সমাজে অধিকাংশ পরিবারেই এই প্রজন্মকেসামাজিক কার্যকলাপে অনুপ্রাণিত করা হয় না কিংবা তারা নিজেরাও অনুপ্রাণিত হতে চায় না। তদের শুধু পড়ালেখা করে আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডের যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা উপেক্ষা করছে পরিবার এবং অভিভাবকরা। ফলে তারা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের গণমাধ্যমে এফএম রেডিও এবং ফেসবুক সর্বশেষ সংযোজন। এই দুটি মাধ্যমের অসংখ্য ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও আমরা ক্রমেই নেতিবাচকতায় আসক্ত হয়ে উঠছি। ফেসবুক নিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যস্ততা আমাদের জীবনের স্বাভাবিক গতিপথকে বিঘ্নিত করছে। মনে রাখতে হবে এটি একটি চমত্কার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। কিন্তু সেই মাধ্যমের যথার্থ ব্যবহার এবং পরিশীলিত প্রয়োগ যদি না করা হয়, তবে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবো। অন্যদিকে যদি এর যথার্থ ব্যবহার ঘটানো যায় তবে এই প্রজন্মের মুক্ত বুদ্ধির চর্চা আর আগামীর এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা হতে পারবো বিশ্ব শক্তির সমান্তরাল। আমাদের প্রজন্ম ব্যবধানে একথা আজ অনেক বেশি সত্যি যে, আমরা এখন মুক্তবুদ্ধির চর্চায় অনেক বেশি অগ্রসর। আগামী দিনগুলোতে আমরা সেই চর্চাকে গতিশীল করবো এই প্রত্যাশা সময়ের চাহিদাকে বেগবান করবে। পাশাপাশি একথাও সত্যি আজ যা মুখে বলা গেল আগামীকাল যেন তা কর্মে পরিণত হয়। সময়ের বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল এখন এই প্রজন্মের কাছে এক আকর্ষণীয় মাধ্যম। শুধু দ্রুততা নয় বরং জীবনকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা এবং উপভোগ করাও এই বাহনটির জনপ্রিয়তার কারণ। রাস্তায় চলাচলের স্বার্থে ট্রাফিক আইন মানা যেমন জরুরি তেমনি সেই আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে শ্রদ্ধা থাকা চাই। আমরা ঢাকা শহরের রাস্তায় অবাক হয়ে দেখি এই প্রজন্মকেই সবচেয়ে বেশি হেলমেটবিহীন অবস্থায় মোটরসাইকেল চালাতে। আমরা তাদের নিরাপত্তাহীনতায় শংকিত হই। আর বুঝতে শিখি পরিবর্তনের বুলি আওড়িয়ে যতই ভালো কথা বলা হোক না কেন এই প্রজন্মের মাঝেই এখনো নাগরিক সচেতনতাবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অভাব অনেক প্রবল। শুধু নিরাপত্তার কারণেই নয় বরং নিজের জীবনের নিশ্চয়তা আর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরা কিন্তু মোটরসাইকেল চালানোর সময় পরিধান করতে পারি প্রয়োজনীয় হেলমেট। এভাবেই আমরা আমাদের প্রজন্ম দায়িত্ব পালন করতে পারি স্বাভাবিক প্রেরণায়।