বিপণনকে ঘিরে স্বপ্ন যার

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ১৯:৪২
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করার পর কিছুদিন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। তারপর যুক্তরাজ্য থেকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিংয়ের উপর রবার্ট গর্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে সম্পন্ন করেন মাস্টার্স ডিগ্রি। পড়াশোনার প্রতি বরাবরই ছিল তার দারুণ ঝোঁক, তাই ঢুকে যান শিক্ষকতায়। দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। এক দশক ধরে অর্জিত জ্ঞানের বাস্তবিক প্রয়োগে চাইছিলেন কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করতে। সেই সুবাদে হাতিলের মতো স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। তিনি হাতিল কমপ্লেক্সের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফিরোজ আল মামুন। তার এগিয়ে যাওয়ার গল্প শুনিয়েছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু ফিরোজ আল মামুন নিজের কাজের জগতটাকে কতটা উপভোগ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময়োপযোগী ও চ্যালেঞ্জিং পেশার কথা বলতে গেলে অবশ্যই মার্কেটিং পেশার নাম নিতে হয়। এ পেশায় সংশ্লিষ্টদের মার্কেটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও উপস্থাপন করতে হয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ক্রেতা আকৃষ্ট করার চিন্তা মাথায় রাখতে হয় তাদের। পাশাপাশি ক্রেতাদের বিশ্বাস এবং আস্থাভাজন হওয়া এই পেশার অন্যতম মৌলিক চাহিদা। ক্রেতার পরিতৃপ্তির মধ্যেই এ পেশার আনন্দ। মার্কেটিং কাজটি করতে হয় একটি মার্কেটিং প্ল্যানের মাধ্যমে, যা শুরু হয় একটি লক্ষ্যস্থির করে। পরবর্তীতে কোম্পানির কাজ হয় কীভাবে এ লক্ষ্য অর্জিত হবে তা নির্ধারণ করা।’ আরও জানালেন, মার্কেটিং ও শিক্ষকতা—দুটোই দারুণ উপভোগ করেন তিনি। পেশা হিসেবে মার্কেটিংয়ের চাহিদা কেমন জানতে চাইলে ফিরোজ আল মামুন বলেন, ‘সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। যারা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এ সেক্টর উপযুক্ত স্থান। আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত নতুন প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে এবং তাদের পণ্য বাজারজাত করতে প্রচুর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে। যদিও এক সময় সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং একই ডিপার্টমেন্ট ছিল কিন্তু বর্তমানে সেলস ও মার্কেটিং আলাদা আলাদা ডিপার্টমেন্ট হয়েছে। সেইসঙ্গে এসব ডিপার্টমেন্টে প্রচুর দক্ষ লোকবল প্রয়োজন হচ্ছে। এ সেক্টরে চাকরির জন্য সাধারণত বিবিএ, এমবিএ এবং মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও হিসাব বিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েট চাওয়া হয়। সঠিক জ্ঞান ও পরিশ্রম করলে এ সেক্টরে অল্প সময়ে ভালো অবস্থানে যাওয়া সম্ভব।’ এই প্রজন্ম এই পেশার প্রতি কতটা আগ্রহী জানতে চাইলে ফিরোজ আল মামুন বলেন, ‘বাণিজ্যিক সেক্টরের প্রতি এখনকার প্রজন্ম অনেক বেশি আগ্রহী। দিন দিন তাই এই পেশার চাহিদা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। আর নতুনরা অনেক ভালো কাজ করছে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আইডিয়াগুলো একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আটকে থাকে। অর্থাত্ নতুনরা নিজের গণ্ডি থেকে বের হতে পারছে না খুব আশাব্যঞ্জক হারে। সে জন্য তাদেরকে আমাদের কৃষ্টি-কালচার সম্পর্কে আরও বেশি জানতে হবে। আর নতুন প্রজন্মের জন্য ইন্টারনেট অনেক বেশি সহযোগিতাপূর্ণ একটি মাধ্যম, অনেক কিছুই সহজে জানতে পারে তারা। সেটা কাজে লাগাতে হবে তাদের। যদিও আগে সেই সুযোগটি ছিল না। সেই সাথে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে, ভার্সিটিতে পড়া শেষ মানেই পড়াশোনা শেষ এমন মনোভাব থেকে তাদের উঠে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি নিয়ত আপডেট থাকাটাই হচ্ছে মূল কথা।’ ফিরোজ আল মামুন নিজেও এই ধরনের নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করছেন নিজের তৈরি ব্লগ বিডিমার্কেটিং ইনসাইটে। প্রজন্মের মেধাবী এই ব্যবস্থাপকের ছেলেবেলা কেটেছে বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন শহরে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন যশোরের ঝিকরগাছা পাইলট হাই স্কুল থেকে, তারপর নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। অতঃপর উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে শুরু করেন শিক্ষকতা। এখন তো ব্যবহারিক বিষয়টাই খুব কাছ থেকে দেখছেন। তার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মা গৃহিণী। স্ত্রী তৌহিদা জামানকে নিয়েই তার সংসার। কাজের অবসরে লেখালেখি আর দেশ-বিদেশের খবর সংগ্রহ করতে খুব ভালোবাসেন তিনি। বিনয়ী এই ব্যবস্থাপক আমাদের দেশীয় বিপণন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলবেন দিনকে দিন—তেমনটাই প্রত্যাশা আমাদের