বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অ্যারোস্পেস কোম্পানি আয়ারল্যান্ডের শ্যানন। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এ দেশেরই সন্তান অনিক। তিনি এখন একজন এএমই পেশাদার। তার সামনে এখন শুধুই এগিয়ে যাওয়ার পালা। এ দেশে বিশেষ করে তরুণদের ক্যারিয়ার ভাবনা শুরু হয় এইচএসসি পাসের পর থেকেই। এ সময় ক্যারিয়ার গড়া নিয়ে থাকে নানা দুশ্চিন্তা। কোন বিষয়ে পড়ব, কোথায় পড়ব, পাস করে পেশা গড়তে পারব কি না অথবা সার্টিফিকেটের মান কেমন হবে—এমন হাজারো প্রশ্ন লেগেই থাকে মনের ভেতর। বর্তমানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সময়োপযোগী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এমন ভাবনা থেকেই এইচএসসি পাস করে অনিক এএমই পেশাদার কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন ক্যাটেকের উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরে দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত ক্যাম্পাসে। এখান থেকেই পথচলা শুরু করে অনিক আজ ক্যারিয়ারের একটি ভালো অবস্থানে আছেন। অনিকের মা-বাবা ছেলের উচ্চশিক্ষায় এই সাফল্যে দারুণ গর্বিত। অনিকের সাথে কথা হয় তার পথ চলা নিয়ে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন বোরহান উদ্দিন
আয়ারল্যান্ডের শ্যাননে কাজ করার অনুভূতি কেমন?
শিক্ষাজীবন শেষে আশাব্যাঞ্জক ক্যারিয়ারের পথ পাওয়া সবারই কাম্য। এ ক্ষেত্রে দেশের চেয়ে বিদেশকে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। সেদিক দিয়ে আমার স্বপ্ন ছিল অল্প খরচে স্বল্প সময়ে এবং সহজে উন্নত বিশ্বে গিয়ে এ ধরনের দামি চাকরির ডিগ্রি অর্জন করব। আমার সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমি অতি সহজেই আয়ারল্যান্ডে এসে শ্যাননে সম্পৃক্ত হয়েছি। এ দেশ থেকে সরাসরি এই বিষয়ে পড়ালেখার জন্য এখানে আসতে হয়তো ভিসা পাওয়াটা দুরূহ বিষয় ছিল। আর এজন্য শিক্ষা ব্যয়টা হতো ব্যাপক। যা হোক বাংলাদেশ থেকেই আমার কলেজটি সে সুযোগ করে দিয়েছে। আমার জব অ্যাটাচমেন্ট নিয়েও চিন্তা করতে হচ্ছে না। এক কথায় আমার আর পেছনে ফিরে তাকাতে হচ্ছে না। আমার বাবা-মা এ নিয়ে দারুণ খুশি এবং গর্বিত। আমার মনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন তাকাচ্ছি ভবিষ্যতের দিকে।
ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে এএমই পেশাদার কোর্সটি কতটুকু সহায়ক?
এখন বিশ্বায়নের যুগ। এই যুগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এয়ারলাইন্স শিল্পের দ্রুত বিকাশের সাথে বেড়ে চলেছে প্রতিযোগিতা। যার ফলে বিশ্বব্যাপী চাকরি বাজারে এএমই প্রফেশনালদের বিপুল চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। পক্ষান্তরে সাধারণ পেশায় ডিগ্রি পেতে সময় এবং খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। যেমন—এসএসসির পর এইচএসসি, বিবিএ, এমবিএ করতে সাত-আট বছর লেগে যায়। আর সময় বেশি লাগার কারণে খরচও বেশি লাগে এবং চাকরি পাওয়ার বিষয়টি থাকে অনিশ্চিত। কিন্তু এই বিষয়টি অল্প খরচে এসএসসির পরই শুরু করা যায় এবং তিন-চার বছরের মধ্যেই ক্যারিয়ার লাইফের সন্ধান পাওয়া যায়। ছোট-বড় সব ধরনের এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রফেশনালদের প্রয়োজন পড়ে। তবে এর বাইরেও বিশেষ করে অ্যাভিয়েশন খাতে এই শিক্ষার্থীরা চাকরি পেয়ে থাকে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দুবাইসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এমন কি বাংলাদেশেও এএমই প্রফেশনালদের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পড়াশোনার পদ্ধতিটি নিয়ে কিছু বলুন।
এসএসসি-এইচএসসি, ‘এ’ লেভেল-‘ও’ লেভেল সম্পন্নকারীরা এই কোর্সটি করে বিটেক এডেক্সেলের অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনার্স ডিগ্রি অর্জন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৮ মাস পর শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক ধারার সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি অর্জন করে। এর পর আঠারো মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি করতে হয়। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থবছর সে পায় টপ আপ বিবিএ বা বিএসসি। এর পর শুধু বাংলাদেশই নয়, পুরো বিশ্ব জুড়ে অ্যাভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এই কোর্সে পুরো বিশ্বের যেকোনো দেশে গিয়ে চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। কারণ এসব বিষয়ে শিক্ষা কারিকুলাম বিশ্বজুড়ে একই।
