এইচআর বা হিউম্যান রিসোর্স বলতে সাধারণ মানুষের সাথে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজের সম্পর্কের সেতু তৈরি করাকে বোঝানো হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী লাগবে কি না, সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকি—এসবই এই বিভাগের কাজ। আর যারা এই কাজের সাথে জড়িত থাকেন তাদের পরিচয় হিউম্যান রিসোর্স অফিসার। বর্তমান বিশ্বের অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণীই এই চ্যালেঞ্জিং কর্মক্ষেত্রটিতে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তাদেরই কয়েকজনের কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
স্ক ট কু ট লি প
স্কটের জন্ম হয় মিনিয়েসটার উইনোয়াতে। মা মারা যান, যখন স্কটের বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। এর কয়েক বছর পর তিনি ও তার ছোট ভাই, জিম তাদের দাদির কাছে চলে এসেছিলেন। সেখানকার একটি ডেইরি ফার্মে কাজ করতেন তারা। এরপর তিনি ও তার ছোট ভাই সেখানেই এক স্কুলে ভর্তি হন। তিনি উইলিয়াম উডস ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি মার্কেটিং বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন। এরপর তিনি ২০০২ সালে নিউ জার্সির এক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। এরপর সেখান থেকেই আত্মযোগ্যতায় পেয়ে যান সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি আজ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার হিসেবে কাজ করছেন।
--
রে বে কা ও য়ে ল চ
মার্কেটিং অ্যান্ড মিডিয়া মনস্টারস নামের কোম্পানির সহ-উদ্যোক্তা এবং বর্তমান সিইও। তিনি ইস্ট এশিয়ার এক ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশনের উপর ডিগ্রি নেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে মাস্টার্সের জন্য আমেরিকাতে আসেন। সেখানে কার্নিগ মেলন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পড়া শেষ করেন। তিনি বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশনের উপর পড়াশোনা করলেও তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে ইনফরমেশন টেকনোলজি ফিল্ডে। ২০০৫ সালে তাকে ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ পুরস্কার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ঠিক ৪ বছর পরে পান ‘আমেরিকাস বেস্ট এইআর’ অ্যাওয়ার্ড। তরুণ এইচআর ক্যাটাগরি থেকে তিনি এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
--
ডে ভি ড গে ই জা র
হিউম্যান রিসোর্স অফিসার হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতিমান একজন ব্যক্তিত্ব। তার এই সাফল্য এত বেশি প্রচার পায় যে পরবর্তীতে তার খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাগুলোতে আসে। টেলিভিশনে প্রচার করা হয় তার সাক্ষাত্কার। হিউম্যান রিসোর্স বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নিতে থাকেন। হিউম্যান রিসোর্স বিষয়ক তার একটি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে আগ্রহী ব্যক্তিদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়াও এই বিষয়টি নিয়ে তার বেশ কয়েকটি গবেষণামূলক বইও রয়েছে। যদিও প্রথম জীবনটা তিনি শুরু করেছিলেন মার্কেটিং অফিসার হিসেবে। কিন্তু তার আগ্রহ ছিল মানবসম্পদ নিয়ে।
---
ড্যা রে ন হে ই টা র
ফোর্বস ম্যাগাজিনে কন্ট্রিবিউটার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে এইচআর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি লাইফ ম্যাগাজিনের বিশিষ্ট ফটোগ্রাফার হেনরির একমাত্র সন্তান। খুব ছোটকাল থেকেই তিনি ব্যবসার দিকটি খুব ভালো বুঝতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি ১৬০০ ডলার আয় করেছিলেন। তাও নিজের পরিশ্রমে, কারও সহায়তা নেননি তিনি। অল্প বয়সেই তিনি নিজেকে একজন দক্ষ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার হিসেবে প্রমাণ করেন। আমেরিকার তরুণ সফল হিউম্যান রিসোর্স অফিসারদের মধ্যে তিনি একজন।
--
ুর বা র্টো মে য়া র
এইএলটিআই কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কাজ করছেন। তিনি হিউম্যান রিসোর্স অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তিনি তার ইউনিভার্সিটি মাঝপথেই ছেড়ে দেন। মূলত ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে একবারেই পড়াশোনা বাদ দেননি। কাজের ফাঁকে ঘরে কিংবা অফিসে বসেও তিনি মার্কেটিং বিষয়ে পড়াগুলো চালিয়ে যান। তিনি ২০০৪ সালে ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন, তার সাবজেক্ট ছিল, বিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং। এরপর ঘরে বসে থাকেননি তিনি। বন্ধুর কোম্পানিতে যোগদান করেন। বেশ কয়েক বছর ধরে সেই কোম্পানিতেই কাজ করছেন।
