গল্প নয় সত্যি

কৌতূহলের নমুনা!

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ২০:১৭
শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবেই নন, বরং গোটা বিশ্বের সংগ্রামী মানুষেরই এক অনন্য দৃষ্টান্ত নেলসন ম্যান্ডেলা। আর সম্প্রতি এই মানুষটিই যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে দিন কাটাচ্ছেন প্রিটোরিয়ার একটি হাসপাতালে তখন গোটাবিশ্বের অগণিত মানুষ আর মিডিয়ার কৌতূহল সে স্থানকে ঘিরে থাকাটাই হয়তো স্বাভাবিক। যদিও এই অতি আগ্রহ একদিকে যেমন ক্ষুদ্ধ করছে তার পরিবারের আপনজনদের তেমনি মিডিয়া আর ভক্তদের কৌতূহল সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্থানীয় পুলিশকেই। বিশেষ করে গণমাধ্যমের এই অতি আগ্রহের কারণে ম্যান্ডেলা কন্যার মাকাজিউয়ি মিডিয়াকে শকুনের সাথে তুলনা করার পর এই ঘটনাটি নিয়ে গোটা বিশ্ব জুড়েই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে ম্যান্ডেলা কন্যার মন্তব্য আর মানুষের কৌতূহলের এই পারস্পরিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার সংবাদ হয়ে এসেছে অতি কৌতূহলের আরও একটি নিদর্শন। সত্যিকারের শকুন না হলেও এবার কিন্তু সত্যিকার অর্থেই বাতাসে ভেসে প্রিটোরিয়ার হাসপাতালের চৌহদ্দিতে ঢুকে পড়ে একটি চালকবিহীন খেলনা হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারটির সাথে সংযুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমে প্রিটোরিয়া হাসপাতালের আশপাশের চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছিল। তবে হাসপাতালের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের চোখে পড়ার পর খুব দ্রুতই রেডিও নিয়ন্ত্রিত হেলিকপ্টারটিকে মাটিতে নামিয়ে আনা হয়। আর এটির সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা এফ সি হাম্মান ও তার ২১ বছর বয়সী ছেলেকে টিমোথিকে। গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের জেরার মুখে হাম্মান জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য হাসপাতালের আশপাশের চিত্র সংগ্রহ করতেই তিনি রেডিও নিয়ন্ত্রিত এই হেলিকপ্টারটি সেখানে পাঠান। তবে ম্যান্ডেলার চিকিত্সাকক্ষের আশপাশে বা হাসপাতালের একেবারে অভ্যন্তরে হেলিকপ্টারটি পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। এমনকি তার এই কাজে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলেও দাবি করেন হাম্মান। যদিও হাম্মানের এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্রিটোরিয়ার পুলিশ। আর তাই কয়েক ঘণ্টা জেরার পর হাম্মান ও তার সন্তানকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও জমা রাখা হয়েছে তাদের দূর-নিয়ন্ত্রিত হেলিকপ্টারটিকে।