বেনাপোল বন্দরে বিদ্যুত্ সংকট আমদানি-রফতানি ব্যাহত

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৩, ২২:০০
দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে বিদ্যুত্ সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুতের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া। বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের প্রধান স্থলবন্দর হলেও বেনাপোলে সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ থাকে না। যে সময়টুকু বিদ্যুত্ থাকে তার বেশির ভাগই অফিসের কোনও কাজে আসে না। কাস্টমস এবং বন্দরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব কাজই সারতে হচ্ছে জেনারেটর চালিয়ে। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও সমাধানের কোন চেষ্টাই করছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় তার শতকরা ৭০ ভাগই আসে দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে। আমদানি-রফতানি মিলে বছরে এখানে পণ্য হ্যান্ডলিং হয় প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। এ থেকে সরকার বছরে রাজস্ব পাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬শ কোটি টাকা। অথচ অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই বেনাপোল বন্দর চলে পল্লীবিদ্যুত্ দিয়ে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ সরবরাহ থাকে না এখানে। সাংবাদিকরা সংবাদ পাঠাতে পারছেন না সময় মত। ১৬০টি জেনারেটর বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে এ অঞ্চলে। এর পরেও বিদ্যুতের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে অনেক কাজ। যশোর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-১ এর হিসাব অনুযায়ী বেনাপোল বন্দর সাব স্টেশনের দৈনন্দিন চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ হচ্ছে ৪ মেগাওয়াট। তাও দিনে ৬ থেকে ৮ ঘন্টার বেশি বিদ্যুত্ দিতে পারছে না পল্ল¬ীবিদ্যুত্। অফিস আওয়ারে বেনাপোল বন্দর বিদ্যুত্ পাচ্ছে ৪/৫ ঘন্টা। বাকি সময় বিদ্যুত্ বিহীন। এ অবস্থা মোকাবেলা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি ও কাস্টমসের তিনটি জেনারেটর। বন্দর কর্তৃপক্ষের ২টি জেনারেটরে ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয়। তবে জেনারেটরের বিদ্যুত্ দিনের বেলা ব্যবহূত হয় না। জেনারেটর ব্যবহূত হয় শুধু রাতে। এর ফলে বিদ্যুতের অভাবে দিনের অনেক কাজ ব্যাহত হয়। বন্দরের একজন কর্মকর্তা জানান, বন্দরের কাজ কম্পিউটার নির্ভর। বিদ্যুত্ না থাকলে কম্পিউটার বন্ধ থাকে। এতে কাজের জট তৈরি হয়। এছাড়া মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকলে দিনের বেলাতেও অন্ধকারে কাজ করা যায় না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তিনটি জেনারেটরের ১টি দীর্ঘদিন যাবত্ বিকল। দুটি থেকে ১৯৫ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয়। কাস্টমসের জেনারেটর বিদ্যুত্ না থাকলে ব্যবহূত হয়। এর বাইরে সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট সচল রাখতে ব্যবহূত হচ্ছে ভাড়া করা জেনারেটর। তাও সরবরাহ করা হচ্ছে সন্ধ্যা থেকে রাতে ১০টা পর্যন্ত। স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে জেনারেটর বসিয়ে কাস্টমস হাউজের ডিউটি সংক্রান্ত চালানগুলো ছাড় দেয়া হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে সকলেরই। বিদ্যুতের ভেল্কিবাজির কারণে ইতিমধ্যে কাস্টমস হাউজের মূল্যবান অনেক প্রিন্টারস বিকল হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে সার্ভার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য মুছে গেছে। এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, বেনাপোল বন্দরকে আরো গতিশীল করতে হল প্রথমেই বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুত্ না থাকায় বন্দর এলাকায় চোরেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা অন্ধকারে লাখ লাখ টাকার পণ্য চুরি করে নিয়ে যায়। বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মহসিন মিলন বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বেনাপোলে বন্দরের জন্য পৃথক বিদ্যুত্ লাইন দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক নাভারন পর্যন্ত লাইন আসে। কিন্তু সে লাইন আর বেনাপোলে পৌঁছেনি। যশোর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি -১ শার্শা জোনের ডিজিএম মফিজুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরের জন্য একটি পৃথক বিদ্যুত্ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। বেনাপোলের কাকমারি এলাকায় বিদ্যুতের পৃথক সাব স্টেশন তৈরি হচ্ছে। যশোর থেকে ইতিমধ্যে আলাদা লাইন বেনাপোলের জন্য টেনে আনা হচ্ছে । বর্তমানে লাইন বেনিয়ালী পর্যন্ত এ্সেছে। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।