পথশিশুদের খোলা চিরকুট

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ১৭:৪২

দক্ষিণ ভারত চ্যাম্পিয়ন হলেও অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের শিশুকে দেখেই মনে হচ্ছিল যেন তাঁরাই চ্যাম্পিয়ন! লর্ডসে তাঁদের পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে একটি সত্য সবার সামনে ফুটে ওঠে—এই পথশিশুরাও সকলের মতোই মানুষ। আর প্রতিটি দলই একটি করে বার্তা দিয়েছেন। তা তুলে ধরা হলো—

টিম বাংলাদেশ

যখন আমরা পথশিশুদের বিশ্বকাপে এলাম তখন আমরা জানতে পারলাম আইনত একটি পরিচয় পাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এটা প্রমাণ করতে সমর্থ হতে হবে যে, আমরাও বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদেরও অধিকার এবং সম্মান আছে। আইনত পরিচয় ছাড়া আমাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কোনো অধিকার নেই। আমরা সরকারকে বলবো এমন একটি আইন তৈরি করতে যাতে করে সকল পথশিশু একটি আইনত পরিচয় পায়। যার মাধ্যমে ১৮ বছরের নিচে সকল পথশিশুদের দিয়ে বিপজ্জনক কাজ করানোর প্রবৃত্তি বন্ধ হয়। যাতে সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হয় এবং বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

 

টিম ইংল্যান্ড

যুক্তরাজ্যের শিশুদের অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়। মানুষ আমাদের সাথে সম্পর্কই করে গ্যাং, মাদকদ্রব্য এবং সহিংসতার জন্য। কিন্তু আমরা এর চেয়ে বেশিকিছু। আমরা আমাদেরকে সাহায্য করার কথা বলছি না, আমরা আমাদের অধিকার দাবি করছি। আমাদের দাবি সরকার আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ফান্ডিং করুক, এ বিষয়ে সমর্থন করুক, শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করুক, সুযোগ সুবিধা দিক, সকল শিশুদের জন্য খেলার মাঠ দিক এবং কথা বলার জন্য একটা প্লাটফর্ম দিক। আপনারা কী শুনবেন আমাদের কথা?

 

টিম উত্তর ভারত

একজন পথশিশু হিসেবে আমি খুব আনন্দিত লর্ডসে ক্রিকেট খেলতে আসার এবং অন্য পথশিশুদের হয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়ে। আমাদের পরিচয় পাওয়ার এবং ছেলেমেয়ে সমতা পাওয়ার অধিকার নেই। আমাদের শিক্ষার এবং স্বাস্থ্যের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার নেই। শুধুমাত্র নিজের খাবারের জোগাড় করার জন্য কোনো শিশুরই কাজ করা উচিত নয়। আমরা সরকারকে বলবো এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে এবং আমাদের এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে।

 

টিম দক্ষিণ ভারত

পথশিশু হিসেবে আমাদের কোনো সুরক্ষা নেই এবং আমরা অনেক সমস্যারও সম্মুখীন হই। আমরা রাস্তায় থাকি, কারণ আমাদের নিজেদের থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। আমরা সরকারকে বলবো আমাদের অধিকারকে সম্মান জানাতে এবং সমাজের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করে নিতে। আমাদের সরকার অথবা পুলিশের বিক্ষুব্ধ করা এবং আঘাত করা উচিত না। তাদের উচিত না আমাদের ক্ষমতার জোরে সরিয়ে দেওয়া, এটা শিশু অধিকার আইনের পুরোপুরি বিরুদ্ধে।

টিম মরিশাস

আমরা চাই আমাদের কণ্ঠ পুরো পৃথিবীতে পৌঁছে যাক। আমরা চাই মরিশাসের সকল শিশুকে সমানভাবে দেখা হোক, সেটা তাঁদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা কিংবা জাত যাই হোক না কেন। আমরা চাই আমাদের সরকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে থাকার জায়গা দিক একটা অধিকার হিসেবে। আমাদের দাবি, আমাদের সরকার সকল শিশুকে সমান অধিকার দেবে, ১৬ বছর পর্যন্ত সকল শিশুকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেবে এবং স্বাস্থ্যসেবা দেবে। সবশেষে আমরা আমাদের সরকারকে বলবো মাদক পাচার, শিশুদের মাদকাসক্ততা এবং শিশু নির্যাতন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে।

 

টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আমাদের দাবি, সরকার অভিভাবদের আরো বেশি কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করবে তাঁদের সন্তানদের পর্যাপ্ত খেয়াল রাখতে এবং রক্ষা করতে না পারার জন্য। বেশিরভাগ সময়েই অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের একা ফেলে যান, যার ফলাফল হিসেবে তাঁরা শারীরিক, মানসিক ও যৌন হয়রানির শিকার হয়। আমরা সরকারকে আরো বলবো, আমাদের স্বাস্থ্যগত সুবিধা, শিক্ষার সুবিধা এবং খেলাধুলার সুযোগ সুবিধা দিতে।

 

টিম নেপাল

আজ আমি এখানে এসেছি নেপালের আমার মতো শিশুদের গল্প ও সমস্যাগুলো পুরোবিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এবং এটি নিশ্চিত করতে যে, পথশিশুরা যেন তাঁদের অধিকার সঠিকভাবে পায়। আমি চাই তাঁরা যেন সমান শিক্ষা ও দক্ষতা পায় এবং তাঁরা যেন বুঝতে পারে যে, তাঁরা সকলেই সমান এবং নিজেদের দেশের সেবার জন্য গড়ে তুলতে পারে। সকল শিশুর সমান অধিকার থাকা উচিত।

 

টিম তানজানিয়া

রাস্তাঘাটে শিশুরা শারীরিক, মানসিক ও যৌন হয়রানির শিকার হয়। শিশুদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের এবং আমরা এটাও দেখতে ইচ্ছুক যে, শিশুরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠছে। আমরা শিশু এবং আমরা চাই সরকার যেন শিশুদের রক্ষা করে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবা যেমন শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেয়, যা অন্য সকলে পায়। যাতে করে আমরা বেড়ে উঠতে পারি এবং উন্নতি সাধন করতে পারি। আমরা চাই এই বার্তা শিশু, যুবক, পুলিশ, সমাজ, সরকার সকলের নিকট পৌঁছে যাক।

 

গ্রন্থনা:খাতুনে জান্নাত