শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৩, ২১:৩২
রাজনৈতিক অস্থিরতা ধ্বংস করবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করেছে ওবামা প্রশাসন। এর ফলে বিশ্ব দরবারে শ্রমমান ও শ্রমিক অধিকার বিষয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে। এজন্যে সরকার ও বিরোধীদলের উগ্র মনোভাবই দায়ী। আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন ধরে, সাভারের রানা প্লাজায় ভবন ধসে অনেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে কিন্তু সরকার কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অন্যদিকে হরতালের নামে বিরোধীদল করেছে ‘জ্বালাও-পোড়াও’ রাজনীতি। মহান জাতীয় সংসদ একটি পবিত্র স্থান, সকল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটান এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন করেন। কিন্তু ইদানীং এমপিরা জনগণের টাকায় পরিচালিত জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দানের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে চলেছেন যা অন্যান্য সভ্য দেশে বিরল। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আগামী নির্বাচন কিভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা যায় তা সরকারি দল ও বিরোধীদলকে ঠিক করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধ্বংস হবে দেশের ভাবমূর্তি, ধ্বংস হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। মো. আবদুর রহমান শিক্ষার্থী, আশরাফুল হক হল, বাকৃবি ০০০০০০০০০০০০০০০ স্বার্থবাদী রাজনীতি করে জনগণের সেবা করা যায় না আমাদের দেশের কতিপয় স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতা স্বপ্ন দেখছেন, কিভাবে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ভুলণ্ঠিত করে ক্ষমতায় আসা যায়। এ ক্ষমতার লিপ্সা কোনো জাতির জন্যই কাম্য হতে পারে না। কারণ এ রাষ্ট্র শুধুমাত্র ঐ রাজনীতিবিদ আর বড় বড় কর্মকর্তাদের জন্য নয়; রাষ্ট্র সকল জনগণের। সাধারণ আমজনতার ৯৫ ভাগ লোকই যখন শান্তিপ্রেমী, তখন দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মাঝে বিদ্যমান প্রতিহিংসা ও আস্থাহীনতা দেশকে এক অরাজকতার পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরূপ পরিস্থিতি কোনো দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়। আমরা দেশের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের দিকে লক্ষ করি! তাঁরা জনগণের কথা বলেন, তাঁরা নাকি শান্তি চান, তাঁরা সবচেয়ে গণতান্ত্রিক। মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে, নেতারা কি গণতন্ত্রের মানে বোঝেন? তাঁরা কি সত্যিই জনগণের শান্তি চান? তাঁরা কি জনগণের ক্ষমতায়ন চান যা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের অর্থনীতির গতিকে ত্বরান্বিত করবে? তাঁদের বক্তব্যে আর যাই বোঝা যাক এতটুকু স্পষ্ট যে, তাঁরা চান নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে, জনগণের ক্ষমতায়ন নয়। যখন গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সঠিক নেতাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যাবে; তখন জনগণ তার নিজ অবস্থানে হবে ক্ষমতাসীন, দুর্নীতি হবে বাধাগ্রস্ত, দেশের প্রত্যেকটি উন্নয়ন বরাদ্দের ব্যবহার হবে সর্বোত্তম, আর অর্থনীতির চাকা হবে সচল। আর সে পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। নূর-ই-আলম অপু মাস্টার্স শেষ পর্ব সমাজকর্ম বিভাগ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ০০০০০০০০০০০ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চাই দক্ষ শাসক গোষ্ঠী এ কথা সত্য যে. একটি দেশের অর্থনীতি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভাবে শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয় । একটি গাড়ির চাকা যত সচল থাকবে গাড়িটি তত তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। তদ্রূপ একটি দেশের অর্থনীতির চাকা যত সচল থাকবে ঐ দেশ তত তাড়াতাড়ি কাঙ্ক্ষিত সফলতার মুখ দেখবে। গাড়ির ইঞ্জিন যত শক্তিশালী হয় গাড়ির চাকা তত দ্রুত হয়। চাকার দ্রুততা নির্ভর করে ইঞ্জিনের শক্তির ওপর। আবার ইঞ্জিন যতই শক্তিশালী হোক; ড্রাইভার যদি পটু না হন তাহলে হয়তো গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক দেরি হয় অথবা চালকের অপরিপক্বতার কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা যদি অদক্ষ শাসক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, সেই অর্থনীতি কখনোই সফলতা বয়ে আনতে পারে না। অন্যদিকে সম্পদ সীমিত হলেও দক্ষ শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হলে এক সময় সফলতার মুখ দেখা যায়। তাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চাই দক্ষ শাসক গোষ্ঠী। জনগণই রায় দেবে এ বিষয়ে কারা দক্ষ। আর এই রায় প্রদানের জন্য চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। মো.হাবিবুর রহমান অনার্স ৩য় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা 0000000000 শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এই কথা মানতেই হবে যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। প্রধান বিরোধীদল সন্তুষ্ট না হলে তারা নানান রকম কর্মসূচিতে দেশ অচল করবে, তাদের কাছে দেশের মানুষ অসহায়। সরকারের চার বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিরোধী দলগুলো হরতাল, ঘেরাও ও সমাবেশসহ নানা রকম কর্মসূচি দিয়ে আসছে। তাদের এই সব কর্মসূচির কারণে ভাংচুর, লুটপাট ও মানুষ নিহত হয়েছে যার দায়ভার কোনো দলই নেয় না। এছাড়া রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব না। একদিন হরতালের মতো কর্মসূচিতে দেশ অচল হয়ে পড়ে। প্রধান বিরোধীদল ঘোষণা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নিলে ঈদের পর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনের সময় যেহেতু আর বেশিদিন নেই তাই আগামীদিনের কর্মসূচিগুলো আগের চেয়ে ভয়াবহ হবে। তাদের কর্মসূচিকে ঘিরে যা হবে তাতে ক্ষতি জনগণেরই। আমার মনে হয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হোক বা না হোক তা রাজনৈতিক নেতাদের কিছু যায় আসে না, তারা ক্ষমতার জন্য সব করতে পারে। বিরোধীদলের কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এতেও কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে রাষ্ট্র অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে বলে মনে করি। রফিকুল ইসলাম সাগর আন্তর্জাতিক ট্যুর এন্ড ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন কোর্স, ওয়ার্ল্ড পয়েন্ট একাডেমি