আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যুত্ নিয়ে মানুষের ভোগান্তি কমবে না। কারণ সর্বোচ্চ চাহিদার সময় অর্থাত্ সন্ধ্যায় প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ঘাটতি নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে রমজান মাস। পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে গ্যাস ও তেল সরবরাহ বাড়ানো হবে। রমজান মানে উত্পাদিত গ্যাসের প্রায় অর্ধেকটাই বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যয় হবে। বিদ্যুত্সহ অন্যখাতে গ্যাস দিতে সিএনজি স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন ছয় ঘন্টা করে রেশনিং করা হবে।
রমজান মাসে সন্ধ্যা ও মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। যে কারণে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বেশি সময় ধরে চালাতে হয়। বেশি সময় বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য বেশি তেল সরবরাহ করা হবে। তারপরও বিদ্যুত্ চাহিদা পুরোপুরি মিটবে না। তবে একটানা এক ঘন্টার বেশি লোডশেডিং করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুত্ সাশ্রয় করার জন্য বিপণী বিতানে আলোকসজ্জা করতে দেয়া হবে না। ইফতার থেকে তারাবি পর্যন্ত দোকানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হবে। রোজার সময় বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এখন দিনে করা হচ্ছে গড়ে ৯০ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুত্ খাতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। ফলে এখনকার মতো রোজার সময়ও গ্যাসের অভাবে অনেক বিদ্যুত্ কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। তিতাস, শ্রীকাইল ও তাল্লো ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্পাদন বাড়বে। আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ ঠিক রাখতে সিএনজি স্টেশনগুলো প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ছয় ঘন্টা বন্ধ রাখা হবে। এখন বিকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা বন্ধ রাখা হয়। এ সময় গড়ে ছয় হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুত্ উত্পাদন করলেও ঘাটতি থাকবে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট।
রমজান মাসে দিনের বেলায় গড়ে পাঁচ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, সন্ধ্যায় ছয় হাজার ৫০০ এবং সেহরির সময় ছয় হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
রোজার সময় মসজিদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ দিতে দুই ফিডারের লাইন দেয়া হবে। যাতে এক এলাকায় বিদ্যুত্ না থাকলে অন্য এলাকা থেকে সেখানে সরবরাহ করা যায়। বিশেষ করে তারাবির নামাজের সময় যাতে বিদ্যুত্ বিভ্রাট কম হয় সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কিছু এলাকায় লোডশেডিং হবেই। এজন্য যে এলাকায় সন্ধ্যায় অর্থাত্ ইফতারির সময় লোডশেডিং করা হবে সে এলাকায় আর সেহরির সময় লোডশেডিং করা হবে না।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শ্রীকাইল, তিতাস ও তাল্লো থেকে প্রায় ছয় কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। আশা করছি, রমজানের সময় গ্যাসের কোন সমস্যা হবে না। রমজানের সময় সিএনজি স্টেশনের রেশনিং বাড়ানো হবে। যার কারণে বাসাবাড়িতে চাপের সমস্যা হবে না আশা করি।
এদিকে গতকাল সোমবার বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে রমজানে বিদ্যুত্ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে রমজান মাসে বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সকল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলামসহ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার রমজান মাসে মানুষের বিদ্যুতের ভোগান্তি কম হবে। চেষ্টা করছি রোজার সময় সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে।
আগামী ৭ জুলাই ঢাকা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সাথে বৈঠক করে আলোক সজ্জা না করা এবং ইফতার থেকে তারাবি পর্যন্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একই সাথে ১৫ রমজান থেকে রাত আটটার পরও দোকান খোলা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
