মিসরে অচলাবস্থা নিরসনে সেনাপ্রধানের আল্টিমেটাম

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৭
মিসরের প্রেসিডেন্ট মুরসিসহ সব রাজনৈতিক দলকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সংকট নিরসনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে সংকট নিরসন না হলে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করারও হুমকি দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি এ হুমকি দেন। বিবৃতিতে সেনাপ্রধান বলেন, এই সময়ের প্রেসিডেন্ট মুরসিসহ রাজনৈতিক দলগুলো যদি দেশের বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেন তাহলে জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ীই সেনাবাহিনী তার নিজস্ব রোডম্যাপ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবে। এর আগে বিক্ষোভকারীরা আজকের মধ্যে মুরসিকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়। এদিকে মুরসি সরকারের পাঁচ মন্ত্রী বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। মিসরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। মুরসি বিরোধীরা আজ মঙ্গলবারের মধ্যেই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ত্যাগের জন্য আলটিমেটাম দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মুসলিম ব্রাদারহুডের সদর দপ্তরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। তবে মুরসি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও এএফপি’র। মিসরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত রবিবার থেকে বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। কায়রোতে ক্ষমতাসীন দল মুসলিম ব্রাদারহুডের কার্যালয়ে হামলা ও সংঘর্ষের সময় কমপক্ষে একজন নিহত হয়। বিক্ষোভকারীরা রবিবার রাতে জোর করে কায়রোর মোকাত্তাম এলাকায় ব্রাদারহুডের অফিসে ঢুকে পড়ে এবং জিনিসপত্র তছনছ করে। সেখানে অগ্নিসংযোগও করা হয়। তবে এই আক্রমণের সময় অফিসের ভেতরে ব্রাদারহুডের কেউ ছিল না। মিসর জুড়ে মুরসি বিরোধী বিক্ষোভ ডেকেছে যে তামারোদ (বিদ্রোহী) আন্দোলন তারা প্রেসিডেন্ট মুরসিকে আজ মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে পদত্যাগ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। বিদ্রোহীরা এর আগে নতুন নির্বাচনও দাবি করে এবং ২ কোটি ২২ লাখ লোকের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করে। আসুইত প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের সাথে প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়। প্রেসিডেন্ট হিসাবে মুরসির দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বার্ষিকীর দিন রবিবার তার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে গণসমাবেশ হয়। মুরসি বিরোধী তরুণ বিপ্লবীরা দেশের উদার ও বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে এক হয়ে পূর্বঘোষিত এ গণবিক্ষোভে যোগ দেয়। লাখ লাখ বিক্ষোভকারী সারা রাত ধরে তাহরির স্কয়ারে অবস্থান করে। তবে তার পদত্যাগ করারও কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হল সংলাপ। ফলে সেনা হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে। তামারোদের ওয়েবসাইটে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিক্ষোভকারীদের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিচার বিভাগকে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান ও জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী নেতা হামদিন সাবাহি বলেন, মুরসি পদত্যাগে রাজি না হলে আমি সেনা হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাবো। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ মুরসির জন্য ভাল হবে। তবে মুরসির মুখপাত্র ইহাব ফাহমী সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমঝোতায় পৌঁছানো যেতে পারে। তাছাড়া প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে যথাযথ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আলোচনায় আগ্রহী।