অর্থনৈতিক উন্নয়ন আশা
করা যায় যদি দেশের
রাজনীতি সঠিক থাকে
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে দেশটির সমসাময়িক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, আর এদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ উদ্বেগজনক। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে রাজনৈতিক সমঝোতা অনিবার্য। আবার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় হরতাল একটি রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু তা যদি হয় রাজনৈতিক দূরভিসন্ধিমূলক তবে দেশের জন্য তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। তাই বিরোধী দলের উচিত হরতাল পরিহার করে সংসদে গিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারকে তাদের অক্ষমতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া, সরকারের উচিত জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা। মহান জাতীয় সংসদকে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহেণর মাধ্যমে কার্যকর করে তুলতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ সুগম হবে ।
এস এম রাশেদুল হক ( শিবলী )
শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ,
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
ক্ষমতার রাজনীতিতে
বিপর্যস্ত অর্থনীতি
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনীতি থাকবে, রাজনৈতিক দল থাকবে। এখানে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা যখন কোন দেশে সংঘাত-সংঘর্ষের সৃষ্টি করে তখনই দেখা দেয় বিপত্তি। দেশের অর্থনীতি হয় ক্ষতিগ্রস্ত। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন হয় বিপন্ন। বাংলাদেশে বিগত ২০ বছরের রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলো শুধু ক্ষমতামুখী রাজনীতির যে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে তাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন জনগণের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা যেন পুরোনো রাজনীতিরই নতুন রূপ। আমরা বিগত চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের শেষ সময়ে দেশের রাজনৈতিক সংঘাত দেখেছি। তখন দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্কের ফলে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হয়েছিল। ফলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়নি। ঠিক একই বিষয় নিয়ে দেশে আবারো এক রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দেশে আগামী নির্বাচন কেমন করে কার অধীনে হবে তার কোন সুরাহা বড় দুই রাজনৈতিক জোট এখনো করতে পারেনি। প্রতিনিয়ত এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে হরতাল, অবরোধের মতো কঠিন কঠিন কর্মসূচিও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকারের কোন নমনীয় ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে ইতিমধ্যে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পেতে শুরু করেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশে শুধু রাজনীতিবিদদেরই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। জনগণের কপালে কিছু জুটবে না। আগামীতে সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে—এমন অভিযোগে দেশের ব্যবসায়ী মহলও সরকার ও বিরোধী জোটের নেতাদের সাথে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন বিষয়ে কথা বলছেন। কিন্তু কোন পক্ষই কারো কথা শুনছে না। আমরা মনে করি রাজনীতিবিদদের এমন মানসিকতার অবসান হওয়া দরকার। দেশে যাতে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে সে লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ করা দরকার। আমাদের বিশ্বাস, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবে।
মো. বোরহান উদ্দিন
৬ষ্ঠ সেমিস্টার, তৃতীয় বর্ষ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অর্থনীতি বাঁচলে
দেশ বাঁচবে
এখনও নির্বাচনের বেশ কয়েকমাস বাকি রয়েছে। দেশ-বিদেশের সকল মহল থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যা আমরা বিগত চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের শেষ সময়েও লক্ষ্য করেছিলাম। দেশি-বিদেশি এ সকল মহলের আলোচনার তাগিদকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যদি গুরুত্বসহকারে না নেন তাহলে বিগত সরকারের মতো এবারের সরকারকেও ক্ষমতা হস্তান্তর এক বড় সংঘাতের মধ্য দিয়ে করতে হবে। রক্ত ঝরবে। লাশ পড়বে। যারা দুই জোটের বাইরে “তৃতীয় শক্তি” হিসাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার স্বপ্ন দেখেন তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ার পথও সুগম হবে। অতীতে অনেক সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে। অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। আর নয়। একটিবারও কোন সংঘাত নয়। আমরা মনে করি, দেশে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করলে নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে আলোচনার এখনও সুযোগ আছে। রাজনৈতিক দলগুলো সেদিকে অগ্রসর হবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি বের করবে। অর্থনীতিকে বাঁচাবে। কারণ, অর্থনীতি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশের মানুষ বাঁচবে।
সাইয়েদ রাশেদ হাছান চৌধুরী
৬ষ্ঠ সেমিস্টার, ৩য় বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়
অর্থনীতি ধ্বংসকারী
রাজনীতির অবসান
হবে কবে?
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন উত্তাল। সংঘাতময়। সরকারি ও বিরোধী জোটের পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান এই সংঘাতকে যে আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করবে তা বলাই বাহুল্য। আর এই সংঘাত আরো বৃদ্ধি পেলে দেশে যে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে, পর্যটন শিল্প ও দেশের সম্ভাবনাময় পোশাক খাতের মতো খাতগুলো যে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে তা অস্বীকার করার মতো নয়। বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান সংকট হলো বিশ্বাসের সংকট। যে অবিশ্বাসের ফলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু হয়েছিল সেই অবিশ্বাস এখনো দূর হয়নি। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ইতিমধ্যে বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর কোন প্রক্রিয়ায় হবে, নির্বাচন কার অধীনে হবে তা নিয়ে দেশে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রাজনীতির সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বারবার রাজনীতিবিদদের তাগিদ দিচ্ছেন। রাজনীতিবিদরা দ্রুত রাজনৈতিক সংকট থেকে দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন এমনটিই সবার প্রত্যাশা।
মো. নূরুল্লাহ মুহিত
৩য় বর্ষ, আরবী বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
